পলাশ সাহা, নেত্রকোণা প্রতিনিধি: দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ জীবনের অবসান ঘটল নেত্রকোণার ৮৩ বছর বয়সী কিরণ হাজংয়ের। সঙ্গে তাঁর স্ত্রী পিকলা হাজংও নতুন ঘরের ঠিকানা পেলেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের বিশেষ উদ্যোগে এই দম্পতি নতুন ঘর পেলেন। মঙ্গলবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়।
মানবেতর জীবনের পরিসমাপ্তি
কিরণ হাজং ও তাঁর স্ত্রী নেত্রকোণার দুর্গাপুর ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামের বাসিন্দা। বার্ধক্যের কারণে কিরণ হাজং চোখে ভালোভাবে দেখতে পান না। তাই তাঁকে চলাফেরায় অন্যের সাহায্য নিতে হয়। এছাড়া তাঁর স্ত্রীও নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। উপার্জন না থাকায় এই দম্পতি অন্যের সাহায্যে দিন কাটাতেন।
একসময় কিরণ হাজং অন্যের জমিতে কাজ ও শুঁটকি মাছ ধরে সংসার চালাতেন। কিন্তু এখন আর ভারী কাজ করার শক্তি তাঁর নেই। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও তিনি বয়স্ক ভাতা পাননি। শেষ বয়সে একটি নিরাপদ ঘরে থাকার স্বপ্নই ছিল তাঁর মূল চাওয়া।
ডেপুটি স্পিকারের মানবিক পদক্ষেপ
এই অসহায় দম্পতির দুঃখ-কষ্ট নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ফলে বিষয়টি জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর নিজ প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে খোঁজ খবর নেন। পরবর্তীতে তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই দম্পতির জন্য নতুন ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়।
অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুন ঘরে প্রবেশ
স্থানীয় লেংগুড়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিলন মিয়া ঘর তৈরির পুরো কাজটি তদারকি করেন। উদ্বোধনের দিন কিরণ হাজং ও পিকলা হাজং নিজেরাই ফিতা কেটে নতুন ঘরে প্রবেশ করেন। এই সময় উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টার।
অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক ও সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন। এছাড়া কুল্লাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য রিতা নকরেকও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
চিকিৎসা ও বিদ্যুতের দাবি
স্থানীয় অধিবাসীদের মতে, নতুন এই আবাস এই দম্পতির কষ্ট অনেকটাই কমাবে। সংবাদ প্রকাশের পর এই বৃদ্ধ দম্পতির জন্য বয়স্ক ভাতারও ব্যবস্থা হয়েছে। তবে এলাকাবাসী এখন এই নতুন ঘরে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁদের নিয়মিত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

























