কক্সবাজারের চকরিয়া হাসপাতাল সড়কে অবস্থিত চকরিয়া শেভরন হাসপাতাল নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসা চলাকালে এক গর্ভবতী নারীর মৃত্যুর পর এই ক্ষোভ আরও বাড়ে। তবে হাসপাতালটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
অনুমোদন ও জনবল সংকট
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি অনিয়মের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। হাসপাতালটিতে কোনো নিয়মিত আবাসিক চিকিৎসক নেই। পাশাপাশি পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত নার্সও নেই বলে স্বজনরা দাবি করেন। ফলে রোগীরা সঠিক সময়ে উপযুক্ত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না।
গর্ভবতী নারীর মৃত্যু ও চিকিৎসা বিভ্রাট
সর্বশেষ ২৮ আগস্ট বিকেলে চকরিয়া শেভরন হাসপাতালে এক গর্ভবতী নারীর মৃত্যু হয়। নিহত নারীর স্বজনদের মতে, সিজারের পর রোগীকে যথাযথ পর্যবেক্ষণ করা হয়নি। ঘটনার সময় সেখানে দায়িত্বশীল কোনো চিকিৎসক ছিলেন না বলে স্বজনরা অভিযোগ করেন। তবে চিকিৎসকদের দায়িত্বের বিবরণ ও চিকিৎসা-নথি তদন্ত করলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত জানা যাবে।
লাইসেন্স ও কর্তৃপক্ষের নীরবতা
যাচাই করে হাসপাতালটির উপযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য লাইসেন্সের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অনুমোদন ছাড়া কীভাবে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেবা দিচ্ছে, সেই প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া অভিযোগের বিষয়ে জানতে হাসপাতালের পরিচালক ডা. নুরুল কবিরের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর হাসপাতাল চত্বরেও দায়িত্বশীল কাউকেই দেখা যায়নি।
প্রশাসনের তদারকি ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকলেও স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাই দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হাসপাতালটির নিবন্ধন এবং চিকিৎসক-নার্সদের যোগ্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। এর ফলে চিকিৎসায় গাফিলতি ও অব্যবস্থাপনা বন্ধ হবে। একই সাথে চকরিয়ার বাসিন্দারা নিরাপদ চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।






















