ঢাকা ০৪:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লোডশেডিংয়ে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার ৫ উপায়

লোডশেডিংয়ে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার ৫ উপায়

গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে। এর ফলে দৈনন্দিন কাজ ও বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই বিরক্তি ও মানসিক ক্ষোভের জন্ম দেয়। তবে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এই সময়টিকে কাজে লাগানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক অভ্যাসে বিদ্যুৎহীন সময়ও সুস্থতার সুযোগ তৈরি করে।

ডিজিটাল স্ক্রিন মুক্ত ‘ডাউনটাইম’

যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক হেলথ এসেনসিয়ালস স্ক্রিনহীন সময়কে ‘ডাউনটাইম’ বলছে। বিদ্যুৎ না থাকলে ডিজিটাল ডিভাইসের বাইরে থাকা সহজ হয়। এর ফলে মস্তিষ্কের ‘ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্ক’ সক্রিয় হয়ে ওঠে। এটি মানুষের সৃজনশীলতা, স্মৃতিশক্তি ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ায়। এছাড়া বই পড়া বা ধাঁধা মেলানো মনোযোগ বৃদ্ধি করে।

শরীরচর্চা ও মানসিক প্রফুল্লতা

গবেষণাভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘রিসার্চগেট’ জানায়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামলাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও হার্ভার্ডের পরামর্শ মানা যেতে পারে। এই সময়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট হালকা ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম করুন। ফলে শরীরে ‘এন্ডোরফিন’ হরমোন নিঃসৃত হয়। এটি গরম ও অন্ধকারের মানসিক অবসাদ দ্রুত কমায়।

ডিজিটাল ডিটক্স ও অফলাইন বিনোদন

ইউনেস্কোর তথ্যমতে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম মানুষের মনোযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। তাই লোডশেডিংকে ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ হিসেবে ব্যবহার করুন। স্মার্টফোন সরিয়ে বই পড়ুন বা ডায়েরি লিখুন। এছাড়া পরিবারের সঙ্গে লুডো, দাবা বা ক্যারাম খেলুন। এটি চোখের ক্লান্তি দূর করে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।

পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক যোগাযোগ

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির মতে, সামনাসামনি আড্ডা মানুষের একাকীত্ব দূর করে। ফলে লোডশেডিং পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ দেয়। একসাথে বসে গল্পগুজব করলে মানসিক সহমর্মিতা ও পারিবারিক সম্পর্ক গভীর হয়।

সঙ্গীত ও স্নায়ুর প্রশান্তি

আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন জানায়, গান মানুষের স্নায়ুতন্ত্র শিথিল করে। লোডশেডিংয়ের সময় পছন্দসই গান শুনলে মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ ক্ষরণ বাড়ে। এটি প্রতিকূল পরিবেশেও দ্রুত মানসিক চাপ কমিয়ে দেয়।

নিরাপত্তা সংক্রান্ত সতর্কতা

ইউএস ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ (এনআইএইচ) বিদ্যুৎহীন সময়ে কিছু সতর্কতার কথা বলেছে।

  • খাদ্য ভালো রাখতে লোডশেডিংয়ে ফ্রিজের দরজা বারবার খুলবেন না।

  • বন্ধ ফ্রিজে খাবার চার ঘণ্টা পর্যন্ত ভালো থাকে।

  • বিষাক্ত গ্যাসের ঝুঁকি এড়াতে ঘরের ভেতর জেনারেটর বা কয়লা জ্বালাবেন না।

  • অগ্নিকাণ্ড এড়াতে মোমবাতির বদলে রিচার্জেবল লাইট ব্যবহার করুন।

জনপ্রিয় সংবাদ

লোডশেডিংয়ে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার ৫ উপায়

আপডেট সময় : ০৩:৩৭:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে। এর ফলে দৈনন্দিন কাজ ও বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই বিরক্তি ও মানসিক ক্ষোভের জন্ম দেয়। তবে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এই সময়টিকে কাজে লাগানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক অভ্যাসে বিদ্যুৎহীন সময়ও সুস্থতার সুযোগ তৈরি করে।

ডিজিটাল স্ক্রিন মুক্ত ‘ডাউনটাইম’

যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক হেলথ এসেনসিয়ালস স্ক্রিনহীন সময়কে ‘ডাউনটাইম’ বলছে। বিদ্যুৎ না থাকলে ডিজিটাল ডিভাইসের বাইরে থাকা সহজ হয়। এর ফলে মস্তিষ্কের ‘ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্ক’ সক্রিয় হয়ে ওঠে। এটি মানুষের সৃজনশীলতা, স্মৃতিশক্তি ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ায়। এছাড়া বই পড়া বা ধাঁধা মেলানো মনোযোগ বৃদ্ধি করে।

শরীরচর্চা ও মানসিক প্রফুল্লতা

গবেষণাভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘রিসার্চগেট’ জানায়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামলাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও হার্ভার্ডের পরামর্শ মানা যেতে পারে। এই সময়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট হালকা ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম করুন। ফলে শরীরে ‘এন্ডোরফিন’ হরমোন নিঃসৃত হয়। এটি গরম ও অন্ধকারের মানসিক অবসাদ দ্রুত কমায়।

ডিজিটাল ডিটক্স ও অফলাইন বিনোদন

ইউনেস্কোর তথ্যমতে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম মানুষের মনোযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। তাই লোডশেডিংকে ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ হিসেবে ব্যবহার করুন। স্মার্টফোন সরিয়ে বই পড়ুন বা ডায়েরি লিখুন। এছাড়া পরিবারের সঙ্গে লুডো, দাবা বা ক্যারাম খেলুন। এটি চোখের ক্লান্তি দূর করে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।

পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক যোগাযোগ

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির মতে, সামনাসামনি আড্ডা মানুষের একাকীত্ব দূর করে। ফলে লোডশেডিং পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ দেয়। একসাথে বসে গল্পগুজব করলে মানসিক সহমর্মিতা ও পারিবারিক সম্পর্ক গভীর হয়।

সঙ্গীত ও স্নায়ুর প্রশান্তি

আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন জানায়, গান মানুষের স্নায়ুতন্ত্র শিথিল করে। লোডশেডিংয়ের সময় পছন্দসই গান শুনলে মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ ক্ষরণ বাড়ে। এটি প্রতিকূল পরিবেশেও দ্রুত মানসিক চাপ কমিয়ে দেয়।

নিরাপত্তা সংক্রান্ত সতর্কতা

ইউএস ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ (এনআইএইচ) বিদ্যুৎহীন সময়ে কিছু সতর্কতার কথা বলেছে।

  • খাদ্য ভালো রাখতে লোডশেডিংয়ে ফ্রিজের দরজা বারবার খুলবেন না।

  • বন্ধ ফ্রিজে খাবার চার ঘণ্টা পর্যন্ত ভালো থাকে।

  • বিষাক্ত গ্যাসের ঝুঁকি এড়াতে ঘরের ভেতর জেনারেটর বা কয়লা জ্বালাবেন না।

  • অগ্নিকাণ্ড এড়াতে মোমবাতির বদলে রিচার্জেবল লাইট ব্যবহার করুন।