ঢাকা ১২:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনের কেওড়া ফল: উপকূলীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা

সুন্দরবনের কেওড়া ফল: উপকূলীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা

ম.ম.রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট প্রতিনিধি: সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ কেওড়া ফল পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। একই সাথে এটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর খাদ্য তালিকায় বিশেষ ভূমিকা রাখছে। ফলে বনের এই ফল এখন প্রান্তিক মানুষের জীবিকার অন্যতম মাধ্যম।

অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও কেওড়ার ভূমিকা সুন্দরবনের নদী ও খালের লবণাক্ত মাটিতে প্রাকৃতিকভাবে কেওড়া গাছ জন্মায়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কেওড়া গাছে প্রচুর ফল ধরে। ফাল্গুন মাসে কেওড়া গাছে ফুল আসে। এরপর চৈত্র থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত কেওড়া ফল সংগ্রহ করা যায়। ফলে এটি উপকূলের মানুষের খাদ্যে বৈচিত্র্য আনে এবং স্থানীয় বাজারে প্রভাব ফেলে।

ক্ষুদ্র শিল্প ও নারীদের স্বাবলম্বিতা বর্তমানে কেওড়া ফল কেন্দ্র করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কুটির শিল্প গড়ে উঠছে। উদাহরণস্বরূপ, স্থানীয় নারীরা ফল সংগ্রহ করে আচার ও চাটনি তৈরি করছেন। এছাড়া চিংড়ি বা ডালের সাথে কেওড়া রান্না ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবে পরিচিত। তবে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ভালো প্যাকেজিংয়ের অভাবে উদ্যোক্তারা কাঙ্ক্ষিত মুনাফা পাচ্ছেন না। তাই সঠিক সরকারি সহায়তা পেলে এখানে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

পুষ্টিগুণ ও পরিবেশগত গুরুত্ব খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ জুলফিকার হোসেনের গবেষণায় কেওড়ার পুষ্টিগুণ উঠে এসেছে। এই ফলে প্রচুর ভিটামিন সি, পলিফেনল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এছাড়া এটি চিত্রা হরিণ, বানর ও পাখির প্রধান খাদ্য। উপরন্তু, কেওড়া ফুল সুন্দরবনের মধু উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখে।

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় কেওড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলে লবণাক্ততা দ্রুত বাড়ছে। এতে প্রচলিত ধান চাষ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে কেওড়া গাছ এই প্রতিকূল পরিবেশেও সহজে টিকে থাকে। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নদী ভাঙন রোধে কেওড়া গাছ ঢাল হিসেবে কাজ করে। তাই টেকসই উন্নয়নের জন্য কেওড়া বনায়ন বাড়ানো এবং অবৈধ গাছ কাটা বন্ধ করা জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সঞ্চয়পত্রে ৫ ভুল এড়ালেই মিলবে পূর্ণ মুনাফা

সুন্দরবনের কেওড়া ফল: উপকূলীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ১০:৪০:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

ম.ম.রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট প্রতিনিধি: সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ কেওড়া ফল পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। একই সাথে এটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর খাদ্য তালিকায় বিশেষ ভূমিকা রাখছে। ফলে বনের এই ফল এখন প্রান্তিক মানুষের জীবিকার অন্যতম মাধ্যম।

অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও কেওড়ার ভূমিকা সুন্দরবনের নদী ও খালের লবণাক্ত মাটিতে প্রাকৃতিকভাবে কেওড়া গাছ জন্মায়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কেওড়া গাছে প্রচুর ফল ধরে। ফাল্গুন মাসে কেওড়া গাছে ফুল আসে। এরপর চৈত্র থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত কেওড়া ফল সংগ্রহ করা যায়। ফলে এটি উপকূলের মানুষের খাদ্যে বৈচিত্র্য আনে এবং স্থানীয় বাজারে প্রভাব ফেলে।

ক্ষুদ্র শিল্প ও নারীদের স্বাবলম্বিতা বর্তমানে কেওড়া ফল কেন্দ্র করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কুটির শিল্প গড়ে উঠছে। উদাহরণস্বরূপ, স্থানীয় নারীরা ফল সংগ্রহ করে আচার ও চাটনি তৈরি করছেন। এছাড়া চিংড়ি বা ডালের সাথে কেওড়া রান্না ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবে পরিচিত। তবে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ভালো প্যাকেজিংয়ের অভাবে উদ্যোক্তারা কাঙ্ক্ষিত মুনাফা পাচ্ছেন না। তাই সঠিক সরকারি সহায়তা পেলে এখানে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

পুষ্টিগুণ ও পরিবেশগত গুরুত্ব খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ জুলফিকার হোসেনের গবেষণায় কেওড়ার পুষ্টিগুণ উঠে এসেছে। এই ফলে প্রচুর ভিটামিন সি, পলিফেনল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এছাড়া এটি চিত্রা হরিণ, বানর ও পাখির প্রধান খাদ্য। উপরন্তু, কেওড়া ফুল সুন্দরবনের মধু উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখে।

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় কেওড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলে লবণাক্ততা দ্রুত বাড়ছে। এতে প্রচলিত ধান চাষ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে কেওড়া গাছ এই প্রতিকূল পরিবেশেও সহজে টিকে থাকে। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নদী ভাঙন রোধে কেওড়া গাছ ঢাল হিসেবে কাজ করে। তাই টেকসই উন্নয়নের জন্য কেওড়া বনায়ন বাড়ানো এবং অবৈধ গাছ কাটা বন্ধ করা জরুরি।