ঢাকা ০৩:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বার্ষিক দুই কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনে কর অব্যাহতি

বার্ষিক দুই কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনে কর অব্যাহতি

বার্ষিক দুই কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনে টার্নওভার কর অব্যাহতি দিতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই সিদ্ধান্তের ফলে ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর থেকে করের বড় চাপ কমবে। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

বর্তমানে লাভ বা লোকসান যাই হোক না কেন, ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত হারে কর দিতে হয়। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। তবে এখন থেকে টার্নওভারের ভিত্তিতে আলাদা করহার নির্ধারণ করা হচ্ছে।

টার্নওভার কর অব্যাহতির নতুন কর কাঠামো

প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী দুই কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনে কোনো ন্যূনতম কর দিতে হবে না। ফলে নতুন ও ছোট উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।

তবে লেনদেন দুই কোটি থেকে তিন কোটি টাকা হলে ০.২৫ শতাংশ কর দিতে হবে। এছাড়া তিন কোটি থেকে চার কোটি টাকা টার্নওভারে করের হার হবে ০.৫০ শতাংশ। অন্যদিকে চার কোটি টাকার বেশি লেনদেনে আগের মতোই ১ শতাংশ কর বহাল থাকবে।

আইন মন্ত্রণালয়ে যাচাই-বাছাই

এনবিআরের সূত্র অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সারসংক্ষেপ ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অনুমোদন করেছেন। বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ে এটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো ছোট ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখা। কারণ, বর্তমান নিয়মে যেকোনো পরিস্থিতিতে ১ শতাংশ হারে কর পরিশোধ করতে হয়।

ব্যবসায়ীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ভ্যাট কনসালট্যান্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি হাসানুল ইসলাম টিপু এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সংকটকালে এটি ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সুখবর।

অন্যদিকে এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক মনে করেন, ন্যূনতম কর ব্যবস্থা পুরোপুরি বাতিল হওয়া উচিত। তবে প্রকৃত মুনাফার ওপর কর ধার্য করা প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদও বিদ্যমান ব্যবস্থা পুরোপুরি পরিবর্তনের পক্ষে মত দেন। তবে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, বড় ব্যবসার জন্য এই ছাড় যথেষ্ট নয়।

সম্ভাব্য ঝুঁকি ও অতীত প্রেক্ষাপট

কিছু অংশীজন নতুন এই প্রস্তাব নিয়ে খানিকটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, অব্যাহতির সুযোগ নিতে অনেকে বিক্রি কম দেখাতে পারেন। ফলে রাজস্ব আদায়ে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এর আগে গত বাজেটে ন্যূনতম কর বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হয়। এর ফলে লোকসানে থাকা কোম্পানিগুলোর ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চেপে বসে। তাই এনবিআরের এই নতুন উদ্যোগকে গুরুত্বের সাথে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

বার্ষিক দুই কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনে কর অব্যাহতি

বার্ষিক দুই কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনে কর অব্যাহতি

আপডেট সময় : ০১:৪৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

বার্ষিক দুই কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনে টার্নওভার কর অব্যাহতি দিতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই সিদ্ধান্তের ফলে ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর থেকে করের বড় চাপ কমবে। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

বর্তমানে লাভ বা লোকসান যাই হোক না কেন, ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত হারে কর দিতে হয়। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। তবে এখন থেকে টার্নওভারের ভিত্তিতে আলাদা করহার নির্ধারণ করা হচ্ছে।

টার্নওভার কর অব্যাহতির নতুন কর কাঠামো

প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী দুই কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনে কোনো ন্যূনতম কর দিতে হবে না। ফলে নতুন ও ছোট উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।

তবে লেনদেন দুই কোটি থেকে তিন কোটি টাকা হলে ০.২৫ শতাংশ কর দিতে হবে। এছাড়া তিন কোটি থেকে চার কোটি টাকা টার্নওভারে করের হার হবে ০.৫০ শতাংশ। অন্যদিকে চার কোটি টাকার বেশি লেনদেনে আগের মতোই ১ শতাংশ কর বহাল থাকবে।

আইন মন্ত্রণালয়ে যাচাই-বাছাই

এনবিআরের সূত্র অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সারসংক্ষেপ ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অনুমোদন করেছেন। বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ে এটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো ছোট ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখা। কারণ, বর্তমান নিয়মে যেকোনো পরিস্থিতিতে ১ শতাংশ হারে কর পরিশোধ করতে হয়।

ব্যবসায়ীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ভ্যাট কনসালট্যান্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি হাসানুল ইসলাম টিপু এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সংকটকালে এটি ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সুখবর।

অন্যদিকে এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক মনে করেন, ন্যূনতম কর ব্যবস্থা পুরোপুরি বাতিল হওয়া উচিত। তবে প্রকৃত মুনাফার ওপর কর ধার্য করা প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদও বিদ্যমান ব্যবস্থা পুরোপুরি পরিবর্তনের পক্ষে মত দেন। তবে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, বড় ব্যবসার জন্য এই ছাড় যথেষ্ট নয়।

সম্ভাব্য ঝুঁকি ও অতীত প্রেক্ষাপট

কিছু অংশীজন নতুন এই প্রস্তাব নিয়ে খানিকটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, অব্যাহতির সুযোগ নিতে অনেকে বিক্রি কম দেখাতে পারেন। ফলে রাজস্ব আদায়ে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এর আগে গত বাজেটে ন্যূনতম কর বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হয়। এর ফলে লোকসানে থাকা কোম্পানিগুলোর ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চেপে বসে। তাই এনবিআরের এই নতুন উদ্যোগকে গুরুত্বের সাথে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।