ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানি ও বন্ডের অংশগ্রহণ বাড়াতে লিস্টিং ফি কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। মূলত নতুন ইস্যুয়ারদের উৎসাহিত করতে সর্বোচ্চ লিস্টিং ফি ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। এর ফলে সর্বোচ্চ ফির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ টাকা। এছাড়া নির্দিষ্ট সময়ে আবেদন করলে এই ফিতে আরও ৫০ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে।
ডিএসই চেয়ারম্যানের বক্তব্য ও বিশেষ ছাড়
সোমবার ডিএসই টাওয়ারে আয়োজিত এক মুক্ত আলোচনা সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম সেখানে ফি কমানোর মূল কারণ ব্যাখ্যা করেন।
তিনি জানান, আগে উচ্চ লিস্টিং ফি নতুন কোম্পানির বাজার প্রবেশের ক্ষেত্রে বড় বাধা ছিল। তাই এই লিস্টিং ফি কমালো ডিএসই। কিন্তু ছাড়ের সুবিধা পেতে হলে কোম্পানিগুলোকে সময়মতো আবেদন করতে হবে। আগামী ৩১ মার্চ ২০২৭-এর মধ্যে আবেদন করলে নির্ধারিত ফিতে ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত ছাড় মিলবে।
লেনদেনে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন
ডিএসই কেবল ফি কমায়নি, বরং লেনদেন ব্যবস্থার উন্নয়নেও কাজ করছে। পুঁজিবাজারে দ্রুত লেনদেন নিশ্চিতে ‘স্ট্রিপ নেটিং’ ও ‘টি+১’ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালু হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রযুক্তিগত ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। ফলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নতুন এই নিয়ম কার্যকর করা সম্ভব হবে।
পাশাপাশি তথ্যসেবা উন্নত করতে ডিএসইর ওয়েবসাইট নতুন রূপে সাজানো হচ্ছে। বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী এখন বন্ডের তালিকাভুক্তি বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ চলছে। এর ফলে বন্ড বাজারের বিদ্যমান জটিলতা দূর করা সহজ হবে।
বিনিয়োগকারী সুরক্ষা ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পাশে দাঁড়াতে ডিএসই সুরক্ষা তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর নিজস্ব দায়বদ্ধতা কমবে না। বিএসইসি এবং ডিএসই যৌথভাবে বাজার উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।
ডিএসইর এমডি নুজহাত আনোয়ার জানান, ভালো মানের আইপিও আনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি মার্জিন ও সিসি হিসাব পরিচালনায় নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সামগ্রিকভাবে বাজারের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নে পাঁচ বছরের কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।






















