ঢাকা ০৭:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিন জেলার মাঠ প্রশাসন সমন্বয় জোরদারের নির্দেশ এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর

তিন জেলার মাঠ প্রশাসন সমন্বয় জোরদারের নির্দেশ এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর

কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও রংপুর জেলার সার্বিক উন্নয়ন এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে তিন জেলার মাঠ প্রশাসন সমন্বয় আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় প্রতিমন্ত্রী এই কঠোর বার্তা দেন।

আইনশৃঙ্খলা, মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান

সভায় সংশ্লিষ্ট তিন জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নদীভাঙন, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য ও খাদ্য সরবরাহ নিয়ে বিষদ আলোচনা হয়। এছাড়া মাদক এবং জুয়া নিয়ন্ত্রণে মাঠ প্রশাসনকে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। এজন্য মসজিদ, মন্দির ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। এর পাশাপাশি ‘নতুন জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ প্রয়োগ করে নিয়মিত মামলা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেন তিনি।

প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি ও সার সরবরাহ নিশ্চিতকরণ

কৃষকেরা যাতে সহজে সার পান, সেজন্য কৃত্রিম সংকট তৈরির যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালার আলোকেই শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করার তাগিদ দেন।

এছাড়া প্রশাসনের কার্যকারিতা বাড়াতে জেলা প্রশাসকদের নিয়মিত সব উপজেলা পরিদর্শনের নির্দেশ দেন তিনি। কুড়িগ্রামের আইনশৃঙ্খলা সভার পরিধি বাড়াতে পার্শ্ববর্তী জামালপুর ও লালমনিরহাট জেলার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

গুজব প্রতিরোধ ও স্থানীয় সমস্যা সমাধান

সমাজে দ্রুত গুজব ছড়ানো ঠেকাতে সঠিক তথ্য দ্রুত প্রচারের ওপর জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি নদীভাঙন রোধ এবং স্থানীয় খাল খনন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “সব দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করলে তৃণমূলের উন্নয়ন বেগবান হবে।” শিগগিরই তিনি সরজমিনে জেলাগুলো সফর করে জনসেবার বাস্তব চিত্র পরিদর্শন করবেন বলে জানান।

অনলাইন জুম প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এই সভায় কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামান এবং রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানসহ ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাদি হত্যায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ও তার স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

তিন জেলার মাঠ প্রশাসন সমন্বয় জোরদারের নির্দেশ এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৬:১৬:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও রংপুর জেলার সার্বিক উন্নয়ন এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে তিন জেলার মাঠ প্রশাসন সমন্বয় আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় প্রতিমন্ত্রী এই কঠোর বার্তা দেন।

আইনশৃঙ্খলা, মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান

সভায় সংশ্লিষ্ট তিন জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নদীভাঙন, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য ও খাদ্য সরবরাহ নিয়ে বিষদ আলোচনা হয়। এছাড়া মাদক এবং জুয়া নিয়ন্ত্রণে মাঠ প্রশাসনকে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। এজন্য মসজিদ, মন্দির ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। এর পাশাপাশি ‘নতুন জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ প্রয়োগ করে নিয়মিত মামলা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেন তিনি।

প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি ও সার সরবরাহ নিশ্চিতকরণ

কৃষকেরা যাতে সহজে সার পান, সেজন্য কৃত্রিম সংকট তৈরির যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালার আলোকেই শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করার তাগিদ দেন।

এছাড়া প্রশাসনের কার্যকারিতা বাড়াতে জেলা প্রশাসকদের নিয়মিত সব উপজেলা পরিদর্শনের নির্দেশ দেন তিনি। কুড়িগ্রামের আইনশৃঙ্খলা সভার পরিধি বাড়াতে পার্শ্ববর্তী জামালপুর ও লালমনিরহাট জেলার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

গুজব প্রতিরোধ ও স্থানীয় সমস্যা সমাধান

সমাজে দ্রুত গুজব ছড়ানো ঠেকাতে সঠিক তথ্য দ্রুত প্রচারের ওপর জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি নদীভাঙন রোধ এবং স্থানীয় খাল খনন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “সব দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করলে তৃণমূলের উন্নয়ন বেগবান হবে।” শিগগিরই তিনি সরজমিনে জেলাগুলো সফর করে জনসেবার বাস্তব চিত্র পরিদর্শন করবেন বলে জানান।

অনলাইন জুম প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এই সভায় কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামান এবং রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানসহ ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন।