ঢাকা ০৩:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়া থেকে মিয়ানমারে ফিরলো ১৪৭৬ জন

মালয়েশিয়া থেকে মিয়ানমারে ফিরলো ১৪৭৬ জন

মিয়ানমারের সঙ্গে করা প্রত্যাবাসন কর্মসূচির প্রথম ধাপে ১ হাজার ৪৭৬ জন মিয়ানমারের নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) লুমুত নৌঘাঁটি থেকে মিয়ানমারের তিনটি নৌযানে করে তাদের ফেরত পাঠানো হয়।

মিয়ানমারের নৌবাহিনীর জাহাজ তিনটি হলো-ইউএমএস মাউত্তামা, ইউএমএস কিং সিন ফিউ শিন এবং হাসপাতাল জাহাজ ইউএমএস থানলউইন। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মহাসচিব মাখজান মাহিউদ্দিন জানান, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে ১ হাজার ৩৭০ জন পুরুষ, ৭৯ জন নারী, ২০ জন ছেলে ও ৭ জন মেয়ে রয়েছে। তাদের বয়স ৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।

মালয়েশিয়ার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যক্তিদের দেশটির ১৪টি অভিবাসন আটককেন্দ্র থেকে বাছাই করা হয়। প্রত্যাবাসনের আগে তাদের লুমুত নৌঘাঁটির কাছে একটি স্টেডিয়ামে নেওয়া হয়। সেখানে পরিচয় যাচাই ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে কয়েক ডজন বাসে করে তাদের স্টেডিয়ামে নেওয়া হলেও সাংবাদিকদের সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

মালয়েশিয়া বলছে, এই প্রত্যাবাসন স্বেচ্ছায় করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মিয়ানমার সরকার যাদের ফেরত নিতে চেয়েছে, তাদের নাম কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার কাছে পাঠানো হয়েছিল। এই কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে মোট ৫ হাজার মিয়ানমারের নাগরিককে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এই প্রত্যাবাসন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই কার্যক্রমে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। মিয়ানমারে চলমান সংঘাত ও সহিংসতার কারণে সেখানে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে শরণার্থীদের ফেরার উপযোগী পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি বলেও সতর্ক করেছে তারা।

ইউএনএইচসিআর বলেছে, যেকোনো প্রত্যাবাসন অবশ্যই স্বেচ্ছায়, পর্যাপ্ত ও সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে হতে হবে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, প্রত্যাবাসন কর্মসূচিতে তাদের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।

এদিকে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত রোহিঙ্গাদের বিষয়টিও এই প্রত্যাবাসনকে ঘিরে আলোচনায় এসেছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমার জুলাইয়ে মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছিল। তবে ২৯ সেপ্টেম্বর ফেরত পাঠানো ১ হাজার ৪৭৬ জনের মধ্যে ঠিক কতজন রোহিঙ্গা, তা মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি।

২০১৭ সালে রাখাইনে সহিংসতার পর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেয়। বাংলাদেশে বর্তমানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা রয়েছে। মালয়েশিয়াতেও এক লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়েছে। রাখাইন রাজ্যেও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের নিরাপত্তা নিয়ে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।

মালয়েশিয়া থেকে মিয়ানমারে ফিরলো ১৪৭৬ জন

আপডেট সময় : ০২:৪৭:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মিয়ানমারের সঙ্গে করা প্রত্যাবাসন কর্মসূচির প্রথম ধাপে ১ হাজার ৪৭৬ জন মিয়ানমারের নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) লুমুত নৌঘাঁটি থেকে মিয়ানমারের তিনটি নৌযানে করে তাদের ফেরত পাঠানো হয়।

মিয়ানমারের নৌবাহিনীর জাহাজ তিনটি হলো-ইউএমএস মাউত্তামা, ইউএমএস কিং সিন ফিউ শিন এবং হাসপাতাল জাহাজ ইউএমএস থানলউইন। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মহাসচিব মাখজান মাহিউদ্দিন জানান, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে ১ হাজার ৩৭০ জন পুরুষ, ৭৯ জন নারী, ২০ জন ছেলে ও ৭ জন মেয়ে রয়েছে। তাদের বয়স ৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।

মালয়েশিয়ার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যক্তিদের দেশটির ১৪টি অভিবাসন আটককেন্দ্র থেকে বাছাই করা হয়। প্রত্যাবাসনের আগে তাদের লুমুত নৌঘাঁটির কাছে একটি স্টেডিয়ামে নেওয়া হয়। সেখানে পরিচয় যাচাই ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে কয়েক ডজন বাসে করে তাদের স্টেডিয়ামে নেওয়া হলেও সাংবাদিকদের সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

মালয়েশিয়া বলছে, এই প্রত্যাবাসন স্বেচ্ছায় করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মিয়ানমার সরকার যাদের ফেরত নিতে চেয়েছে, তাদের নাম কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার কাছে পাঠানো হয়েছিল। এই কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে মোট ৫ হাজার মিয়ানমারের নাগরিককে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এই প্রত্যাবাসন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই কার্যক্রমে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। মিয়ানমারে চলমান সংঘাত ও সহিংসতার কারণে সেখানে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে শরণার্থীদের ফেরার উপযোগী পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি বলেও সতর্ক করেছে তারা।

ইউএনএইচসিআর বলেছে, যেকোনো প্রত্যাবাসন অবশ্যই স্বেচ্ছায়, পর্যাপ্ত ও সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে হতে হবে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, প্রত্যাবাসন কর্মসূচিতে তাদের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।

এদিকে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত রোহিঙ্গাদের বিষয়টিও এই প্রত্যাবাসনকে ঘিরে আলোচনায় এসেছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমার জুলাইয়ে মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছিল। তবে ২৯ সেপ্টেম্বর ফেরত পাঠানো ১ হাজার ৪৭৬ জনের মধ্যে ঠিক কতজন রোহিঙ্গা, তা মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি।

২০১৭ সালে রাখাইনে সহিংসতার পর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেয়। বাংলাদেশে বর্তমানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা রয়েছে। মালয়েশিয়াতেও এক লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়েছে। রাখাইন রাজ্যেও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের নিরাপত্তা নিয়ে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।