মাল্টায় মানবপাচার ও শ্রমশোষণের অভিযোগে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ঠাঁই কারাগারে
ইউরোপের দ্বীপরাষ্ট্র দেশ মাল্টায় মানবপাচার, অর্থপাচার, জবরদস্তি ও চরম শ্রমশোষণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মাল্টায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ৪১ বছর বয়সি নাজমুল ইস্তিয়াক নামের ওই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে দেশটির বিচারিক আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিজ্ঞ বিচারক। একই সঙ্গে আদালত তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত (ফ্রিজিং অর্ডার) করার নির্দেশ দিয়েছে।
আদালতের নথি ও তদন্ত কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত নাজমুল ইস্তিয়াক মাল্টার মেলিয়েহা এলাকায় বসবাস করছিলেন এবং সেখানে একটি রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করতেন। তিনি রেস্টুরেন্টে ভালো বেতনের চাকরির মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক অভিবাসীকে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের দেশ মাল্টায় নিয়ে যান। তবে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, চার মাস হাড়ভাঙা খাটুনি ও ডিশওয়াশার হিসেবে কাজ করানোর পরও তাদের কোনো বেতন দেওয়া হয়নি। উপরন্ত, জোরপূর্বক তিন মাসের বিনাবেতনে ছুটির কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
প্রসিকিউশন আদালতে তুলে ধরে যে, এটি একটি পরিকল্পিত মানবপাচার চক্রের অংশ, যেখানে সহজ-সরল মানুষদের ইউরোপে পৌঁছানোর ‘আমেরিকান ড্রিম’ দেখিয়ে প্রতারণা করা হতো। এই ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫ জন ভুক্তভোগী আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশি অভিযানে মাল্টায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হওয়ার সময় তিনি বুকব্যথা ও উচ্চ রক্তচাপের অজুহাত দিলেও তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকের ছাড়পত্র পেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে হেফাজতে নেয় দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ইলেকট্রনিক ট্যাগের মাধ্যমে জামিনের আবেদন জানালেও প্রসিকিউশনের তীব্র আপত্তিতে তা বাতিল হয়। প্রসিকিউশন জানায়, প্রবাসীদের ওপর চরম মানসিক চাপ ও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার এমন নজির আগে দেখা যায়নি। বিচারক ম্যাজিস্ট্রেট অ্যাবিগেইল ক্রিতিয়েন ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় ‘সুরক্ষা আদেশ’ বলবৎ করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।





















