সোমালিয়ায় ইসরাইলের উপস্থিতি মেনে নেওয়া হবে না: প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ
আফ্রিকান শিং অঞ্চলের কৌশলগত সমুদ্রসীমায় তেল ও বাণিজ্যের রুট ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে তীব্র আন্তর্জাতিক উত্তেজনা। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে সোমালিয়ায় ইসরাইলের উপস্থিতি কোনো পরিস্থিতিতেই মেনে নেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বহুমুখী ভূ-রাজনৈতিক সংকটে সোমালিয়াকে টেনে আনার যেকোনো বিদেশি চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেওয়া হবে বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট মোহামুদ জানান, ইসরাইল সোমালিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিতর্কিত ভূখণ্ড সোমালিল্যান্ডের বারবেরা শহরে একটি নতুন নৌঘাঁটি স্থাপন করতে চাইছে। একই সঙ্গে সেখানকার বিমানবন্দর ব্যবহারের কৌশলগত পরিকল্পনাও ইসরাইল তৈরি করছে বলে তার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানটির ওপর প্রভাব বিস্তার করতেই তেল ও বাণিজ্য রুটে ইসরাইল প্রবেশ করতে চাইছে।
উন্নয়ন ও বাণিজ্যের দিক থেকে এডেন উপসাগরের তীরে অবস্থিত বারবেরা একটি অনন্য বন্দরনগরী। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও সংবেদনশীল নৌপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিকটে এবং ইয়েমেনের বিপরীত পাশে অবস্থিত হওয়ায় শহরটির সামরিক গুরুত্ব অপরিসীম। প্রেসিডেন্ট মোহামুদের মতে, বারবেরায় সোমালিয়ায় ইসরাইলের উপস্থিতি কেবল একটি সাধারণ সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের উদ্দেশ্য নয়; বরং এর প্রধান লক্ষ্য হলো উপসাগরীয় দেশসমূহ এবং ইরানের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া।
এই পদক্ষেপকে তিনি ইসরাইলের ‘গ্রেটার ইসরাইল’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে আখ্যা দেন এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য দেশটির সমালোচনা করেন। এছাড়া, সোমালিল্যান্ডকে ইসরাইল কর্তৃক একতরফা স্বীকৃতি দেওয়াকেও তিনি অবৈধ বলে উল্লেখ করেন। দেশের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড এবং আল-শাবাবের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরেন। সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সোমালি জনগণ ও সরকার ঐক্যবদ্ধ বলে তিনি পুঙ্খানুপুঙ্খ পুনর্ব্যক্ত করেন।





















