লিওনেল মেসির আগেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন নিকোলাস ওতামেন্দি। তবে আর্জেন্টাইন মহাতারকার সঙ্গে একত্রে তিনি বিদায়ী ম্যাচ খেলতে নামছেন। বেনিনের বিপক্ষে আগামীকাল (বুধবার) ভোরে ম্যাচের আগে আবেগঘন লেখায় বিদায়ী বার্তা দিলেন ৩৮ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার।
২০২৬ বিশ্বকাপের রানার্সআপ হওয়ার পর জাতীয় দলের হয়ে শেষবার টুর্নামেন্টটি খেলার কথা জানিয়েছিলেন ওতামেন্দি। মেসির বিদায়ী ম্যাচ উপলক্ষ্যে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য বিশেষভাবে আমন্ত্রিত হয়েছেন বর্তমানে রিভার প্লেটের হয়ে খেলা এই ডিফেন্ডার। বিদায়বেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরেছেন তিনি। লিখেছেন, ‘জীবনের বড় একটি অধ্যায়ের ইতি ঘটতে যাচ্ছে।’
বিদায়ী বার্তায় ওতামেন্দি জানান, ‘আজ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সি গায়ে আমার শেষ অনুশীলন ছিল। যদিও চেষ্টা করেছিলাম অন্য যেকোনো দিনের মতোই এটিকে উপভোগ করতে, প্রথম মুহূর্ত থেকেই জানতাম– এরপর আর কিছুই আগের মতো থাকবে না। মাঠের দিকে তাকাতেই সব স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে উঠল। প্রথম পদক্ষেপ, কঠিন সময়, আনন্দ, কান্না, জয় এবং সেই পরাজয়গুলো, যেগুলো আমাদের বারবার ঘুরে দাঁড়াতে শিখিয়েছে।’
‘মনে হচ্ছিল, মাঠের প্রতিটি কোণ যেন একটি গল্প ধারণ করে আছে। প্রতিটি দৃষ্টিতে যেন বিদায়ের অনুভূতি, আর প্রতিটি মুহূর্ত মনে করিয়ে দিচ্ছিল এই রংগুলো ধারণ করার অর্থ কী। তবে আমি এমন এক অনুভূতিও সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি, যা ব্যাখ্যা করা কঠিন। কারণ দেশের প্রতিনিধিত্ব করা স্বপ্ন পূরণের চেয়েও অনেক বেশি কিছু ছিল, এটি ছিল আমার জীবনের অন্যতম বড় সম্মান।’

‘ধন্যবাদ আর্জেন্টিনা, প্রতিটি আলিঙ্গন, প্রতিটি গান, প্রতিটি পতাকা এবং প্রতিবার জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় আমরা যে একা নই সেই অনুভূতি দেওয়ার জন্য। আনন্দের মুহূর্তগুলোতে আমাদের পাশে থাকার জন্য এবং সবকিছু পরিকল্পনামতো না হলেও আমাদের সমর্থন করার জন্য ধন্যবাদ। আজ একটি অনুশীলন শেষ হলো, একই সঙ্গে আমার জীবনের বিশাল একটি অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটল। সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি এমন সব স্মৃতি, যা সারাজীবন লালন করব, আর এমন এক গর্ব, যা কখনও মুছে যাবে না।
আর্জেন্টিনা ও বিশ্ব ফুটবলের জন্য অবিস্মরণীয় সব মুহূর্তের জন্ম দেওয়া মেসির উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, ‘আগামীকাল একটি বিশেষ দিন। কারণ এটি সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়ের দিন। ছোট বন্ধু, তোমার গল্পের অংশ হতে পারা আমার জন্য গর্বের। সব কিছুর জন্য জাতীয় দলকে ধন্যবাদ।’




















