বিদায়ী ম্যাচেও মেসির রূপকথা, বেনিনকে হারিয়ে আর্জেন্টিনার সুন্দর সমাপ্তি
আকাশি-সাদা জার্সিতে রূপকথার গল্প শেষে অবশেষে থামলেন বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পর লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচ ভক্তদের মাঝে এক মিশ্র অনুভূতির জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে আর্জেন্টিনা নামক দলটিকে নানা ঝড়ের মধ্য থেকে টেনে নেওয়া এই কাণ্ডারি নিজের শেষ ম্যাচেও দেখালেন চেনা জাদু। বেনিনের বিপক্ষে দলটির ৩-০ ব্যবধানের জয়ে তিনটি গোলেই সরাসরি অবদান রেখে বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখলেন তিনি।
ম্যাচের শুরু থেকেই মেসিকে ঘিরে ছিল বাড়তি উদ্দীপনা। প্রথমার্ধে গোল না পেলেও বল নিয়ন্ত্রণে রেখে আক্রমণের সুর বাঁধে আর্জেন্টিনা। তবে গোলের অচলাবস্থা ভাঙতে অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয় ৪৭ মিনিট পর্যন্ত। কর্নার থেকে মেসির নেওয়া নিখুঁত অ্যাসিস্টে দুর্দান্ত ভলিতে বল জালে জড়ান অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দি। মেসির পাশাপাশি দীর্ঘদিনের সতীর্থ ওতামেন্দির জন্যও এটি ছিল জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ।
ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটিতেও ছিল মেসির সুনিপুণ ছোঁয়া। বক্সে ফাঁকায় থাকা তরুণ ফরোয়ার্ড নিকো পাজকে বল বাড়িয়ে দেন মেসি, সেখান থেকে নিখুঁত কার্লারে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পাজ। এর মাধ্যমে নিজের নামের পাশে জমা করেন জোড়া অ্যাসিস্ট। এরপর ৭০ মিনিটে অগাস্তিন জিয়াই প্রতিপক্ষ বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পটকিক থেকে জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে জয় ও নিজের বিদায়কে পূর্ণতা দেন এই ফুটবলের রাজপুত্র।
পরিসংখ্যান ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম সোফাস্কোর অনুযায়ী, লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচ-এর এই দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্সের রেটিং দাঁড়ায় ১০-এ ৮.৫। ক্যারিয়ার জুড়ে বহু সংকটময় মুহূর্তে যেভাবে আর্জেন্টিনার ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, শেষবার লাল-সবুজ বা আন্তর্জাতিক আঙিনায় দেশের পতাকা উঁচিয়ে ধরার দিনেও তার ব্যতিক্রম হলো না। ১ গোল এবং ২ অ্যাসিস্টের মধ্য দিয়ে আকাশি-সাদা জার্সিতে নিজের অনন্য অধ্যায়ের এক অবিস্মরণীয় সমাপ্তি টানলেন লিওনেল মেসি।























