ঢাকা ১২:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সবাইকে কাঁদিয়ে হাসছেন মেসি, যা বললেন বিদায়ী বক্তব্যে

২১ বছরের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ‘দাড়ি’ বসালেন লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। আর্জেন্টাইন মহাতারকা বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের হৃদয়ে যে আলোড়ন তুলেছিলেন তা বলাই বাহুল্য। ফলে কোটি পাগলপারা মানুষ তার এই বিদায়ী মুহূর্তে বুক ভাসাবেন তাও অনুমান করা কঠিন নয়। কাঁদছেন সতীর্থ, কোচ থেকে শুরু করে কাছ থেকে মেসিকে দেখা সকলেই। তবে হাসি-কান্নায় মিশ্রিত বিদায়ী বক্তব্যে তিনি নিজের সবটুকু উজাড় করে দেওয়া, জাতীয় দলের অর্জন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার কথাও জানালেন।

এস্তাদিও মনুমেন্তালে কিংবদন্তি তারকার জন্যই ছিল পুরো আয়োজন। যেখানে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলের জয়ে সেই উৎসবের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিদায়ী ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য সমতায় শেষ হলেও দ্বিতীয়ার্ধে ৩ গোলের প্রতিটিতেই নিজের ছোঁয়াটা রেখেছেন এলএমটেন। পেনাল্টিতে শেষ গোলটি করার আগে নিকোলাস ওতামেন্দি ও নিকো পাজকে দিয়ে করিয়েছেন বাকি দুই গোল।

মেসি মাইক হাতে যখন শুরুটা করছিলেন তখন তার মুখে চওড়া হাসি। পরে একপর্যায়ে ভিজে ওঠে চোখের কোণ। এরপর তিনি কথা বলতে শুরু করেন মাসখানেক আগে হারানো বাবাকে দিয়ে, ‘কী বলব ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। মাথায় অনেক কিছুই ঘুরছে। আজকের এই রাতে সবার আগে যার কথা আমার মনে পড়ছে, তিনি আমার বাবা (হোর্হে মেসি)। আমি কেবল আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাতে পারি। দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই শার্টটির প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য ছিল এক বিরাট গর্বের বিষয়।’

‘আমরা কখনও লড়াই থামাইনি, নিজেদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেওয়া বন্ধ করিনি। আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাটাই সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি। আমরা আবারও (২০২৬ আসরে) বিশ্বকাপ জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। বিশ্বকাপে নিজেদের সবকিছু ঢেলে দিয়েছিলাম আমরা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের জন্য অনেক বড় ছিল। আমরা আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে লড়াই করেছি, সারাজীবন লড়াই করেছি। কোনো সন্দেহ রাখবেন না যে, এই জার্সির জন্য আমরা সর্বদা আমাদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি।’

Image
একপর্যায়ে অশ্রু সংবরণ করতে পারলেন না মেসি

‘এখানে আর ফিরে আসতে না পারার ভাবনাটা ভীষণ কষ্টের। সত্যি বলছি, সারা জীবন আমি এখানে ফিরে আসতে চাইব। কারণ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলার চেয়ে সুন্দর আর কিছু একজন ফুটবলারের জীবনে হতে পারে না। আমি চিরকাল এখানে থাকতে চাই। কিন্তু মনে হচ্ছে, বিদায় বলার এটাই সঠিক সময়।’

সতীর্থদের বীর যোদ্ধা আখ্যা দিয়ে মেসি বলেন, ‘আমি আমার সকল সতীর্থকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তোমরা আমার সব স্বপ্ন সত্যি করেছ– বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা। আমি সব সময় বীর যোদ্ধাদের দিয়ে পরিবেষ্টিত ছিলাম। আমি এই পরিবেশটাকে খুব মিস করব। আমি আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি যেখানেই গিয়েছি, স্টেডিয়াম সব সময় কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। মনে হতো আমরা যেখানেই খেলছি, সেটাই যেন আমাদের নিজেদের ঘর।’

নিজের উত্তরসূরীদের জন্য শুভকামনা জানানোর পাশাপাশি কঠিন সময় নিয়ে সবাইকে আগাম সতর্কতাও দিলেন অসংখ্য রেকর্ডের এই বরপুত্র, ‘আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলাটা মিস করব। এখন থেকে আমি মাঠের বাইরে অন্য পাশে থাকব– এই ছেলেদের এবং এরপর যারা আসবে তাদের সবার জন্য শুভকামনা জানাব ও সমর্থন দিয়ে যাব। কঠিন সময় সামনে আসছে, আর সেই মুহূর্তগুলোতে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, কারণ কিছু মানুষ আছে যারা জাতীয় দলের ব্যর্থতা দেখতে চায়। মহৎ কিছু অর্জন করতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ দল গড়ে তুলতে হবে।’

dhakapost

আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক শেষটা করলেন ভক্তদের হৃদয় ভেঙে। মেসি বলেন, ‘আমি এই জায়গা ছেড়ে যেতে চাই না। আমি এই মাঠ ছেড়ে যেতে চাই না। আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি, আর আপনাদের সবাইকে আমি খুব মিস করব। আমি একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে গর্বিত। আমি নিজের স্বপ্নপূরণ করতে পেরে সত্যি গর্বিত।’

জনপ্রিয় সংবাদ

তিব্বত নয়, পর্যটকদের নতুন পছন্দ চীনের শাংগ্রি-লা

সবাইকে কাঁদিয়ে হাসছেন মেসি, যা বললেন বিদায়ী বক্তব্যে

আপডেট সময় : ১০:৫৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

২১ বছরের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ‘দাড়ি’ বসালেন লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। আর্জেন্টাইন মহাতারকা বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের হৃদয়ে যে আলোড়ন তুলেছিলেন তা বলাই বাহুল্য। ফলে কোটি পাগলপারা মানুষ তার এই বিদায়ী মুহূর্তে বুক ভাসাবেন তাও অনুমান করা কঠিন নয়। কাঁদছেন সতীর্থ, কোচ থেকে শুরু করে কাছ থেকে মেসিকে দেখা সকলেই। তবে হাসি-কান্নায় মিশ্রিত বিদায়ী বক্তব্যে তিনি নিজের সবটুকু উজাড় করে দেওয়া, জাতীয় দলের অর্জন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার কথাও জানালেন।

এস্তাদিও মনুমেন্তালে কিংবদন্তি তারকার জন্যই ছিল পুরো আয়োজন। যেখানে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলের জয়ে সেই উৎসবের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিদায়ী ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য সমতায় শেষ হলেও দ্বিতীয়ার্ধে ৩ গোলের প্রতিটিতেই নিজের ছোঁয়াটা রেখেছেন এলএমটেন। পেনাল্টিতে শেষ গোলটি করার আগে নিকোলাস ওতামেন্দি ও নিকো পাজকে দিয়ে করিয়েছেন বাকি দুই গোল।

মেসি মাইক হাতে যখন শুরুটা করছিলেন তখন তার মুখে চওড়া হাসি। পরে একপর্যায়ে ভিজে ওঠে চোখের কোণ। এরপর তিনি কথা বলতে শুরু করেন মাসখানেক আগে হারানো বাবাকে দিয়ে, ‘কী বলব ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। মাথায় অনেক কিছুই ঘুরছে। আজকের এই রাতে সবার আগে যার কথা আমার মনে পড়ছে, তিনি আমার বাবা (হোর্হে মেসি)। আমি কেবল আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাতে পারি। দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই শার্টটির প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য ছিল এক বিরাট গর্বের বিষয়।’

‘আমরা কখনও লড়াই থামাইনি, নিজেদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেওয়া বন্ধ করিনি। আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাটাই সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি। আমরা আবারও (২০২৬ আসরে) বিশ্বকাপ জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। বিশ্বকাপে নিজেদের সবকিছু ঢেলে দিয়েছিলাম আমরা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের জন্য অনেক বড় ছিল। আমরা আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে লড়াই করেছি, সারাজীবন লড়াই করেছি। কোনো সন্দেহ রাখবেন না যে, এই জার্সির জন্য আমরা সর্বদা আমাদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি।’

Image
একপর্যায়ে অশ্রু সংবরণ করতে পারলেন না মেসি

‘এখানে আর ফিরে আসতে না পারার ভাবনাটা ভীষণ কষ্টের। সত্যি বলছি, সারা জীবন আমি এখানে ফিরে আসতে চাইব। কারণ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলার চেয়ে সুন্দর আর কিছু একজন ফুটবলারের জীবনে হতে পারে না। আমি চিরকাল এখানে থাকতে চাই। কিন্তু মনে হচ্ছে, বিদায় বলার এটাই সঠিক সময়।’

সতীর্থদের বীর যোদ্ধা আখ্যা দিয়ে মেসি বলেন, ‘আমি আমার সকল সতীর্থকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তোমরা আমার সব স্বপ্ন সত্যি করেছ– বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা। আমি সব সময় বীর যোদ্ধাদের দিয়ে পরিবেষ্টিত ছিলাম। আমি এই পরিবেশটাকে খুব মিস করব। আমি আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি যেখানেই গিয়েছি, স্টেডিয়াম সব সময় কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। মনে হতো আমরা যেখানেই খেলছি, সেটাই যেন আমাদের নিজেদের ঘর।’

নিজের উত্তরসূরীদের জন্য শুভকামনা জানানোর পাশাপাশি কঠিন সময় নিয়ে সবাইকে আগাম সতর্কতাও দিলেন অসংখ্য রেকর্ডের এই বরপুত্র, ‘আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলাটা মিস করব। এখন থেকে আমি মাঠের বাইরে অন্য পাশে থাকব– এই ছেলেদের এবং এরপর যারা আসবে তাদের সবার জন্য শুভকামনা জানাব ও সমর্থন দিয়ে যাব। কঠিন সময় সামনে আসছে, আর সেই মুহূর্তগুলোতে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, কারণ কিছু মানুষ আছে যারা জাতীয় দলের ব্যর্থতা দেখতে চায়। মহৎ কিছু অর্জন করতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ দল গড়ে তুলতে হবে।’

dhakapost

আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক শেষটা করলেন ভক্তদের হৃদয় ভেঙে। মেসি বলেন, ‘আমি এই জায়গা ছেড়ে যেতে চাই না। আমি এই মাঠ ছেড়ে যেতে চাই না। আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি, আর আপনাদের সবাইকে আমি খুব মিস করব। আমি একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে গর্বিত। আমি নিজের স্বপ্নপূরণ করতে পেরে সত্যি গর্বিত।’