ঢাকা ০১:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান যুদ্ধে ৩৩০ কোটি ডলারের ৮১টি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন হারাল মার্কিন বাহিনী

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ৩৩০ কোটি ডলারের ৮১টি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতের গত আট মাসে বিশাল ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই সময়ে মার্কিন বাহিনী অন্তত ৮১টি যুদ্ধবিমান, সামরিক ড্রোন ও হেলিকপ্টার হারিয়েছে, যার সম্মিলিত আর্থিক মূল্য প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার (৩.৩ বিলিয়ন ডলার)। যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের অনুসন্ধান বিষয়ক সংস্থা ‘কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস’ (সিআরএস)-এর এক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ধ্বংস হওয়া এসব সামরিক এয়ারক্রাফটের মধ্যে রয়েছে ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান, একটি সর্বাধুনিক এফ-৩৫ লাইটনিং ২ স্টেলথ যুদ্ধবিমান এবং ২টি এ-১০ থান্ডারবোল্ট ২ আক্রমণকারী বিমান। এছাড়া মার্কিন ড্রোনের বহরে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। সিআরএস-এর তালিকা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস হয়েছে, যার ফলে মে মাস নাগাদ তাদের এই ড্রোনের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসে।

প্রতিবেদনটির তথ্য অনুযায়ী, মার্চে কুয়েতের আকাশে নিজস্ব বাহিনীর ভুলের কারণে (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) তিনটি এফ-১৫ই বিমান ধ্বংস হয় এবং এপ্রিলে ইরানের আকাশে সামরিক অভিযানের সময় আরও একটি বিমান ভূপাতিত হয়। এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসে জর্ডানের বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আটটি এফ-১৫ই এবং মার্কিনদের একটি এফ-৩৫এ বিমান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

তালিকার অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে রয়েছে আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহের ৭টি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার, ১টি ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান, ২টি এমসি-১ ৩০জে কমান্ডো ২ বিমান এবং ১টি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন ২ উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার। পাশাপাশি ট্রাইটন, এমকিউ-১ ড্রোনসহ অ্যাপাচি, সিহক ও লিটল বার্ডের মতো বেশ কয়েকটি সর্বাধুনিক হেলিকপ্টারও এই তালিকায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল মার্কিন বাহিনী। জুন মাসে অভিযান সমাপ্তির কথা বলা হলেও পরবর্তী মাসগুলোতে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সিআরএস-এর এই প্রতিবেদন বিশ্বমঞ্চে মার্কিন সামরিক শক্তির দুর্বলতা ও ড্রোন বহরের অভাবকে প্রকাশ করে দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মেসির বিদায়ী ম্যাচে রেফারির ব্যতিক্রমী উপহার

ইরান যুদ্ধে ৩৩০ কোটি ডলারের ৮১টি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন হারাল মার্কিন বাহিনী

আপডেট সময় : ১১:১৭:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ৩৩০ কোটি ডলারের ৮১টি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতের গত আট মাসে বিশাল ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই সময়ে মার্কিন বাহিনী অন্তত ৮১টি যুদ্ধবিমান, সামরিক ড্রোন ও হেলিকপ্টার হারিয়েছে, যার সম্মিলিত আর্থিক মূল্য প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার (৩.৩ বিলিয়ন ডলার)। যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের অনুসন্ধান বিষয়ক সংস্থা ‘কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস’ (সিআরএস)-এর এক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ধ্বংস হওয়া এসব সামরিক এয়ারক্রাফটের মধ্যে রয়েছে ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান, একটি সর্বাধুনিক এফ-৩৫ লাইটনিং ২ স্টেলথ যুদ্ধবিমান এবং ২টি এ-১০ থান্ডারবোল্ট ২ আক্রমণকারী বিমান। এছাড়া মার্কিন ড্রোনের বহরে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। সিআরএস-এর তালিকা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস হয়েছে, যার ফলে মে মাস নাগাদ তাদের এই ড্রোনের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসে।

প্রতিবেদনটির তথ্য অনুযায়ী, মার্চে কুয়েতের আকাশে নিজস্ব বাহিনীর ভুলের কারণে (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) তিনটি এফ-১৫ই বিমান ধ্বংস হয় এবং এপ্রিলে ইরানের আকাশে সামরিক অভিযানের সময় আরও একটি বিমান ভূপাতিত হয়। এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসে জর্ডানের বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আটটি এফ-১৫ই এবং মার্কিনদের একটি এফ-৩৫এ বিমান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

তালিকার অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে রয়েছে আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহের ৭টি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার, ১টি ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান, ২টি এমসি-১ ৩০জে কমান্ডো ২ বিমান এবং ১টি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন ২ উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার। পাশাপাশি ট্রাইটন, এমকিউ-১ ড্রোনসহ অ্যাপাচি, সিহক ও লিটল বার্ডের মতো বেশ কয়েকটি সর্বাধুনিক হেলিকপ্টারও এই তালিকায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল মার্কিন বাহিনী। জুন মাসে অভিযান সমাপ্তির কথা বলা হলেও পরবর্তী মাসগুলোতে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সিআরএস-এর এই প্রতিবেদন বিশ্বমঞ্চে মার্কিন সামরিক শক্তির দুর্বলতা ও ড্রোন বহরের অভাবকে প্রকাশ করে দিয়েছে।