ঢাকা ০১:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হামাসের হামলার ৩য় বার্ষিকী পালন করল ইসরায়েল, গাজায় এখনও সংকট

হামাসের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের সামরিক হামলার তৃতীয় বার্ষিকী পালন করেছে ইসরায়েল। গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই প্রথম বার্ষিকী, যা আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের ঠিক তিন সপ্তাহ আগে উদযাপিত হচ্ছে।

নিহতদের স্মরণ ও স্বজনদের শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে এই দিনটি পালিত হলেও গাজা উপত্যকায় এখনো মানবিক সংকট ও অনিশ্চয়তা বহাল রয়েছে।২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর সকাল ৬টা ২৯ মিনিটে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস গাজা সীমান্ত অতিক্রম করে দক্ষিণাঞ্চলীয় ইসরায়েলি লোকালয়ে একযোগে রকেট, বন্দুক ও গ্রেনেড নিয়ে আক্রমণ চালায়। ইসরায়েলি সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই হামলায় ১,২২১ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে গাজায় জিম্মি হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয় (যাদের মধ্যে ৪৪ জন আগেই মারা যান)। হামলার স্থানগুলোর মধ্যে নোভা মিউজিক উৎসবে ৩৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন এবং কিবুটজ কাফার আজায় ৬৪ জন অধিবাসী প্রাণ হারান।

নিহতদের স্মরণে একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। তবে সাম্প্রতিক তেল আবিবগামী একটি বিমানে ব্যর্থ হামলা এবং সম্ভাব্য হামলার গোয়েন্দা তথ্যের কারণে বার্ষিকী কেন্দ্র করে দেশজুড়ে কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় স্মরণসভায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, গাজায় আর কখনোই হামাসের শাসন চলতে দেওয়া হবে না। ৭ অক্টোবরের হামলায় জড়িত ব্যক্তি ও জিম্মিকারীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

হামাসের হামলার জবাবে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত গাজায় ৭৪,২০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং পুরো ছিটমহল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সংঘাতটি পরবর্তী সময়ে লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইরান পর্যন্ত বিস্তৃত হলেও গাজার পরিস্থিতি এখনো অমীমাংসিত।

যদিও বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চলছে, তা সত্ত্বেও গাজার প্রায় ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তারা এখনো বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকেও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ১,৪৩০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। পুনর্গঠন কাজ আটকে থাকায় এবং ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় লাখ লাখ ফিলিস্তিনি তাঁবু বা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অমানবিক জীবনযাপন করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মেসির বিদায়ী ম্যাচে রেফারির ব্যতিক্রমী উপহার

হামাসের হামলার ৩য় বার্ষিকী পালন করল ইসরায়েল, গাজায় এখনও সংকট

আপডেট সময় : ১১:৩৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

হামাসের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের সামরিক হামলার তৃতীয় বার্ষিকী পালন করেছে ইসরায়েল। গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই প্রথম বার্ষিকী, যা আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের ঠিক তিন সপ্তাহ আগে উদযাপিত হচ্ছে।

নিহতদের স্মরণ ও স্বজনদের শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে এই দিনটি পালিত হলেও গাজা উপত্যকায় এখনো মানবিক সংকট ও অনিশ্চয়তা বহাল রয়েছে।২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর সকাল ৬টা ২৯ মিনিটে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস গাজা সীমান্ত অতিক্রম করে দক্ষিণাঞ্চলীয় ইসরায়েলি লোকালয়ে একযোগে রকেট, বন্দুক ও গ্রেনেড নিয়ে আক্রমণ চালায়। ইসরায়েলি সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই হামলায় ১,২২১ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে গাজায় জিম্মি হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয় (যাদের মধ্যে ৪৪ জন আগেই মারা যান)। হামলার স্থানগুলোর মধ্যে নোভা মিউজিক উৎসবে ৩৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন এবং কিবুটজ কাফার আজায় ৬৪ জন অধিবাসী প্রাণ হারান।

নিহতদের স্মরণে একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। তবে সাম্প্রতিক তেল আবিবগামী একটি বিমানে ব্যর্থ হামলা এবং সম্ভাব্য হামলার গোয়েন্দা তথ্যের কারণে বার্ষিকী কেন্দ্র করে দেশজুড়ে কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় স্মরণসভায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, গাজায় আর কখনোই হামাসের শাসন চলতে দেওয়া হবে না। ৭ অক্টোবরের হামলায় জড়িত ব্যক্তি ও জিম্মিকারীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

হামাসের হামলার জবাবে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত গাজায় ৭৪,২০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং পুরো ছিটমহল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সংঘাতটি পরবর্তী সময়ে লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইরান পর্যন্ত বিস্তৃত হলেও গাজার পরিস্থিতি এখনো অমীমাংসিত।

যদিও বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চলছে, তা সত্ত্বেও গাজার প্রায় ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তারা এখনো বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকেও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ১,৪৩০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। পুনর্গঠন কাজ আটকে থাকায় এবং ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় লাখ লাখ ফিলিস্তিনি তাঁবু বা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অমানবিক জীবনযাপন করছেন।