সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে সুরমা নদীর ওপর ২৭৭ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ করবে সরকার। একই সঙ্গে ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন সড়ক, সেতু ও কালভার্ট পুনর্বাসন ও পুনর্নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি কুষ্টিয়া-চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ আঞ্চলিক মহাসড়কে রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণের ব্যয়ও বাড়ানো হচ্ছে। এই তিন কাজে মোট ৩৯৬ কোটি ৭১ লাখ ৮ হাজার ৪৮০ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে সুরমা নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হবে ২৬৪ কোটি টাকা। ‘হাওর এলাকায় উড়াল সড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় সরকারি অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ করা হবে। কাজটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
প্রকল্পের আওতায় সেতুর পাশাপাশি দুই পাশে প্রায় ৯৯৮ মিটার উড়াল সড়ক ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। সুরমা নদীর ওপর নির্মিতব্য সেতুটি হবে ক্যান্টিলিভার ধরনের।
উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে দরপত্র আহ্বানের পর কারিগরি মূল্যায়নে একটি যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এর আগে প্রস্তাবটি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উপস্থাপন করা হলে বিষয়টি যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে একটি কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়। পরে ওই কমিটির সিদ্ধান্ত এবং পানি মডেলিং ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তাবটি পুনরায় উপস্থাপন করা হয়।
প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর একনেকে অনুমোদিত হয়। এর মেয়াদ ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন সড়ক, সেতু ও কালভার্ট জরুরি ভিত্তিতে পুনর্বাসন ও পুনর্নির্মাণে ব্যয় হবে ১২৩ কোটি ২১ লাখ ২ হাজার ৭৪৮ টাকা।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এই কাজ বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। উন্মুক্ত দরপত্রে ১৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে কারিগরি ও আর্থিকভাবে ৯টি প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হয়। মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন দরদাতা কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্সকে কাজটি দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই-হবিগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন অংশে মাটি ভরাট, বিদ্যমান পাকা সড়ক প্রশস্তকরণ, পাকা কংক্রিট সড়ক নির্মাণ, আরসিসি নালা ও কংক্রিট ব্লক দিয়ে সুরক্ষার কাজ করা হবে।
প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর একনেকে অনুমোদিত হয়। এর মেয়াদ ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
কুষ্টিয়া-ত্রিমোহনী-মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ আঞ্চলিক মহাসড়কের ৮১তম কিলোমিটারে রেলবাজার রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণেও অতিরিক্ত ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ কাজে ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ৯ কোটি ৫০ লাখ ৫৭৪ টাকা ব্যয় হবে।
ফলে প্রকল্পটির মূল চুক্তিমূল্য ৬৪ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ৫৭৫ টাকায় দাঁড়াবে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে ২০২৩ সালের ৭ জুন ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের সঙ্গে ৬৪ কোটি টাকার চুক্তি হয়।
কাজ চলাকালে দরপত্রে থাকা ছয়টি আইটেমের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং নতুন তিনটি আইটেম যুক্ত হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ের চাহিদার কারণে উল্লম্ব ছাড়পত্র ১ দশমিক ৩০ মিটার বাড়ানো হয়েছে। এতে সেতুর ভিত্তির উচ্চতা এক মিটার বাড়ে।
পাশাপাশি সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য ৩৩০ মিটার থেকে বেড়ে ৪৩২ মিটার হয়েছে। রিটেইনিং দেয়ালসহ অন্যান্য কাজের পরিমাণও বেড়েছে।
এই ভেরিয়েশনের পরিমাণ মূল চুক্তিমূল্যের ১৪ দশমিক ৮৪৪ শতাংশ। প্রকল্পটির প্রথম সংশোধন ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি একনেকে অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।
সব মিলিয়ে হাওরাঞ্চলে নতুন সেতু ও সড়ক নির্মাণ, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়কে ওভারপাস নির্মাণে প্রায় ৩৯৭ কোটি টাকার বিনিয়োগ হচ্ছে।






















