ঢাকা ০৬:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে মন্দার মধ্যেও আগস্টে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে বড় প্রবৃদ্ধি

যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির বাজারে সামগ্রিকভাবে মন্দার মধ্যেও আগস্টে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি বছরের আগস্টে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে জানুয়ারি-আগস্টের সামগ্রিক হিসাবে এখনো ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ৫ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ পরিমাণ ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম।

বিজ্ঞাপন

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি কমেছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে দেশটির মোট পোশাক আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৯ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এ সময়ে আমদানির পরিমাণ বা ভলিউমও কমেছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

এই হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে তুলনামূলকভাবে কম হারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানির পরিমাণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী। জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ কমেছে মাত্র ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানির পরিমাণ কমেছে প্রায় ৯ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর দিকে তাকালে বাংলাদেশের তুলনামূলক ভালো অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়। জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি মূল্য কমেছে ২৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ভারতের ক্ষেত্রে কমেছে ২৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। পাকিস্তান থেকে আমদানি কমেছে ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং ভিয়েতনাম থেকে কমেছে শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ।

তবে এ সময়ে ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। ইন্দোনেশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি বেড়েছে ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং কম্বোডিয়া থেকে বেড়েছে ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ।

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো আগস্টের প্রবৃদ্ধি। আট মাসের হিসাবে রপ্তানি কমলেও আগস্টে একক মাসে ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এতে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা বছরের দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তবে শুধু রপ্তানি মূল্যের হিসাব নয়, ইউনিট মূল্যের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ রয়েছে। জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে বাংলাদেশি পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য কমেছে এক দশমিক ৭৩ শতাংশ। একই সময়ে চীনের ইউনিট মূল্য কমেছে ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ, ভারতের ২ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ, পাকিস্তানের ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানির গড় ইউনিট মূল্য এই সময়ে এক দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ সামগ্রিক বাজারে গড় মূল্য বাড়লেও প্রধান এশীয় সরবরাহকারী দেশগুলোর পোশাকের ইউনিট মূল্য কমেছে। এতে আন্তর্জাতিক পোশাক বাজারে মূল্য প্রতিযোগিতা বাড়ার বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে মন্দার মধ্যেও আগস্টে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে বড় প্রবৃদ্ধি

আপডেট সময় : ০৫:৪৩:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির বাজারে সামগ্রিকভাবে মন্দার মধ্যেও আগস্টে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি বছরের আগস্টে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে জানুয়ারি-আগস্টের সামগ্রিক হিসাবে এখনো ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ৫ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ পরিমাণ ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম।

বিজ্ঞাপন

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি কমেছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে দেশটির মোট পোশাক আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৯ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এ সময়ে আমদানির পরিমাণ বা ভলিউমও কমেছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

এই হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে তুলনামূলকভাবে কম হারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানির পরিমাণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী। জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ কমেছে মাত্র ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানির পরিমাণ কমেছে প্রায় ৯ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর দিকে তাকালে বাংলাদেশের তুলনামূলক ভালো অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়। জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি মূল্য কমেছে ২৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ভারতের ক্ষেত্রে কমেছে ২৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। পাকিস্তান থেকে আমদানি কমেছে ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং ভিয়েতনাম থেকে কমেছে শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ।

তবে এ সময়ে ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। ইন্দোনেশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি বেড়েছে ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং কম্বোডিয়া থেকে বেড়েছে ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ।

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো আগস্টের প্রবৃদ্ধি। আট মাসের হিসাবে রপ্তানি কমলেও আগস্টে একক মাসে ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এতে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা বছরের দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তবে শুধু রপ্তানি মূল্যের হিসাব নয়, ইউনিট মূল্যের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ রয়েছে। জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে বাংলাদেশি পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য কমেছে এক দশমিক ৭৩ শতাংশ। একই সময়ে চীনের ইউনিট মূল্য কমেছে ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ, ভারতের ২ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ, পাকিস্তানের ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানির গড় ইউনিট মূল্য এই সময়ে এক দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ সামগ্রিক বাজারে গড় মূল্য বাড়লেও প্রধান এশীয় সরবরাহকারী দেশগুলোর পোশাকের ইউনিট মূল্য কমেছে। এতে আন্তর্জাতিক পোশাক বাজারে মূল্য প্রতিযোগিতা বাড়ার বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে।