ঢাকা ০২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমদানির বিদ্যুৎ কমেছে, মধ্যরাতে বেড়েছে লোডশেডিং



ফটোকার্ড ডাউনলোড

অনলাইন ডেস্ক: ভারতের ঝাড়খণ্ডের গড্ডায় অবস্থিত আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বয়লারে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে আমদানি করা বিদ্যুতের প্রবাহ কমে সার্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। ত্রুটি সারিয়ে ইউনিটটি পুরোপুরি সচল করতে অন্তত ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে। আজ শনিবার বণিক বার্তায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় কেন্দ্রটি আগে থেকেই পূর্ণ সক্ষমতায় চলছিল না। এর মধ্যে বয়লার বিকল হওয়ায় সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। কেন্দ্রটি থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও তা নেমে এসেছে প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াটে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিপিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, সরবরাহ কমে যাওয়ায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও কিছুটা বাড়তে পারে, তবে অন্যান্য কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়িয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা চলছে।

দেশে বর্তমানে দৈনিক বিদ্যুতের স্বাভাবিক চাহিদা প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াট হলেও গরমের কারণে রাতের দিকে তা ১৭ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর থেকে বিদ্যুৎ ঘাটতি ১ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত উঠেছে। বিশেষ করে মধ্যরাতে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন না থাকায় প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে চলমান সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবকে চিহ্নিত করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও গ্যাস সংকটে মিলছে মাত্র ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। এছাড়া তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে সাড়ে তিন হাজার, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে পাঁচ হাজার এবং নবায়নযোগ্য উৎস থেকে এক হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। জ্বালানি ঘাটতিতে সক্ষমতার বড় অংশ অব্যবহৃত থাকায় এবং আমদানিতে বিঘ্ন ঘটায় ঘাটতি আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আমদানির বিদ্যুৎ কমেছে, মধ্যরাতে বেড়েছে লোডশেডিং

আপডেট সময় : ১১:২৪:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ফটোকার্ড ডাউনলোড

অনলাইন ডেস্ক: ভারতের ঝাড়খণ্ডের গড্ডায় অবস্থিত আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বয়লারে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে আমদানি করা বিদ্যুতের প্রবাহ কমে সার্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। ত্রুটি সারিয়ে ইউনিটটি পুরোপুরি সচল করতে অন্তত ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে। আজ শনিবার বণিক বার্তায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় কেন্দ্রটি আগে থেকেই পূর্ণ সক্ষমতায় চলছিল না। এর মধ্যে বয়লার বিকল হওয়ায় সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। কেন্দ্রটি থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও তা নেমে এসেছে প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াটে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিপিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, সরবরাহ কমে যাওয়ায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও কিছুটা বাড়তে পারে, তবে অন্যান্য কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়িয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা চলছে।

দেশে বর্তমানে দৈনিক বিদ্যুতের স্বাভাবিক চাহিদা প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াট হলেও গরমের কারণে রাতের দিকে তা ১৭ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর থেকে বিদ্যুৎ ঘাটতি ১ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত উঠেছে। বিশেষ করে মধ্যরাতে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন না থাকায় প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে চলমান সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবকে চিহ্নিত করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও গ্যাস সংকটে মিলছে মাত্র ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। এছাড়া তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে সাড়ে তিন হাজার, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে পাঁচ হাজার এবং নবায়নযোগ্য উৎস থেকে এক হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। জ্বালানি ঘাটতিতে সক্ষমতার বড় অংশ অব্যবহৃত থাকায় এবং আমদানিতে বিঘ্ন ঘটায় ঘাটতি আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।