ঢাকা ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালির অভিবাসীর সন্তান বালি বাগায়োকো, ফ্রান্সের রাজনীতিতে ইতিহাস গড়লেন

আফ্রিকার দেশ মালি। দারিদ্র্য আর সীমিত সুযোগের বাস্তবতা পেছনে ফেলে ভাগ্য বদলানোর আশায় একদিন ফ্রান্সে পাড়ি জমালেন এক মেকানিক। চোখে স্বপ্ন ও মনে আশা— পরিবারকে একটু ভালো রাখবেন, সন্তানদের একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ দেবেন। নিজের পোড়া তেলের গন্ধ লাগা হাতে গাড়ি মেরামত করতে করতে তিনি হয়তো কোনো দিন কল্পনাও করেননি, তার ঘরে জন্ম নেওয়া ছেলেটি একদিন ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র ফ্রান্সের রাজনীতির মূল মঞ্চ কাঁপিয়ে দেবে। দশকের পর দশক ধরে চলা একটানা সংগ্রাম আর ঘাম ঝরানো লড়াই পেরিয়ে অবশেষে তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে ফ্রান্সের ঐতিহাসিক সাঁ দেনি ও পিয়েরফিত শহরের মেয়র হিসেবে জয়লাভ করেন।

একই বছরের এপ্রিলে তিনি প্লেইন কমুন টেরিটোরিয়াল পাবলিক এস্টাবলিশমেন্টের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব নেন। প্রবাসীর সেই কষ্টের দিন আর ত্যাগের সিঁড়ি বেয়েই আজ রক্তমাংসের মানুষ থেকে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখিয়েছেন এই মেয়র।

তিনি কোনো রাজপ্রাসাদে জন্ম নেননি। তার ধমনিতে বয়ে যায়নি কোনো অভিজাত বংশের রক্ত। এক শ্রমজীবী বাবার ঘরে জন্ম নেওয়া সেই সন্তানটিই আজ সব প্রতিকূলতার প্রাচীর পেরিয়ে ফ্রান্সের রাজনীতিতে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন।

একবার ভাবুন তো, জীবনের শুরুটা কোথায় ছিল আর পৌঁছানোর জায়গাটা আজ কোথায়? যে পরিবারের শিকড় আফ্রিকার মাটিতে, সেই প্রবাস জীবনের এক শ্রমিকের সন্তানই আজ ইউরোপের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক জনপদের মানুষের অধিকারের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

১৯৭৩ সালের ৩১ জুলাই ফ্রান্সের ল্যভালোয়া পেরেস এলাকায় জন্ম নেওয়া বালি বাগায়োকো বেড়ে উঠেছেন প্যারিসের উপকণ্ঠে সাঁ দেনির এক সাধারণ আবাসনে। অটোমোবাইল খাতের শ্রমিক বাবার ঘরে বড় হওয়ার সুবাদে ছোটবেলা থেকেই তিনি এমন এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে প্রতিটি পরিবারকে টিকে থাকার জন্য প্রতিদিন সংগ্রাম করতে হয়। তবে সমাজের অবহেলা বা অভাবকে তিনি কখনো নিজের পিছিয়ে পড়ার অজুহাত বানাননি। বরং চারপাশে জমে থাকা বঞ্চনা আর নিজের ভাগ্য বদলানোর জেদকে তিনি সফলতার প্রধান জ্বালানি বানিয়েছিলেন।

বালি বাগায়োকোর পথচলা কোনো রাতারাতি সফলতার গল্প নয়। এর পেছনে রয়েছে— পড়াশোনা, চাকরি, মানুষের সঙ্গে মিশে থাকা এবং রাজপথের দীর্ঘ লড়াই।

সাঁ দেনির পল এলুয়ার হাইস্কুলে পড়ালেখা শেষ করে তিনি প্যারিস এইট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূরাজনীতি ও উপনগরী সংক্রান্ত বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। তবে তিনি কেবল বইয়ের পাতায় বন্দি রাখেননি। সাঁ দেনির মাঠে তরুণদের সঙ্গে বাস্কেটবল খেলেছেন, আধা পেশাদার খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে তরুণদের এক সুতায় বেঁধেছেন। খেলার মাঠের সেই শৃঙ্খলা ও ঐক্যের শিক্ষা পরে তাকে রাজনীতির মাঠে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সংস্থায় সাধারণ চাকরি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও বালি বাগায়োকোর দৃষ্টি সবসময় নিবদ্ধ থাকত এলাকার অবহেলিত মানুষের অধিকার আদায়ে। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে তিনি ২০০১ সালে সাঁ দেনির সিটি কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এরপর দীর্ঘদিন উপমেয়র এবং সেন সাঁ দেনির জেনারেল কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পেরিয়ে তিনি ফরাসি বামপন্থি রাজনৈতিক দল লা ফ্রঁস অ্যাঁসুমিস বা এলএফআই দলের শক্ত ভিত্তি তৈরি করেন। বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি এই আন্দোলনেরই অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নেতা। যে সাঁ দেনির মাটিতে ফরাসি রাজারা ঘুমিয়ে আছেন, সেই ঐতিহাসিক শহরের স্থানীয় রাজনীতিতে যখন আফ্রিকার এক প্রবাসীর সন্তান নেতৃত্বের শীর্ষে এলেন, তখন ফরাসি রাজনীতি এক নতুন অধ্যায়ের মুখোমুখি হলো।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসজুড়ে ফ্রান্সে তরুণ শিক্ষার্থীদের যে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়, তা পুরো দেশকে নাড়া দেয়। শিক্ষার বাজেট হ্রাস ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সেই আন্দোলনে পুলিশ যখন কঠোর অবস্থান নেয়, ঠিক সেই উত্তাল পরিস্থিতিতে বালি বাগায়োকো কোনো শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে থাকেননি। সব প্রটোকল দূরে ঠেলে তিনি সরাসরি রাজপথে নেমে আসেন এবং ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের রক্ষার্থে পুলিশের সামনে নিজের শরীরকে মানব ঢাল হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেন।

শিক্ষার্থীদের গায়ে আঁচড় পড়ার আগে সেই আঘাত যেন তার নিজের গায়ে লাগে— এমন অনমনীয় সাহস ও বজ্রকণ্ঠের নেতৃত্ব মুহূর্তেই বিশ্ব গণমাধ্যমের নজর কেড়ে নেয়। সিএনএন, বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান এবং চ্যানেল ফোর নিউজসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে তার এ ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। আন্তর্জাতিক মিডিয়া তাকে ফরাসি তারুণ্যের প্রতিবাদী আন্দোলনের এক জীবন্ত প্রতীক বা ছাত্রবিক্ষোভের আন্তর্জাতিক আইকন হিসেবে আখ্যায়িত করে। অভিবাসী শিকড় থেকে উঠে আসা এই বামপন্থি নেতার আপসহীন কর্মপদ্ধতি ও রাজপথের সাহসিকতা আজ তাকে বিশ্বমঞ্চে এক আলোচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

বালি বাগায়োকোর এই রূপকথা হার মানানো জীবনসংগ্রাম বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রতিটি সাধারণ মানুষের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দেয়। তোমার জন্ম কোথায় হয়েছে, পরিবারের আর্থিক অবস্থা কেমন কিংবা পকেটে কতটুকু জোর আছে, এসবের কোনো কিছুই বড় হয়ে ওঠার পথে চূড়ান্ত বাধা হতে পারে না। যদি মনের ভেতর লক্ষ্য নিয়ে অবিচল জেদ থাকে, কাজের প্রতি থাকে নিখাদ সততা এবং মানুষের প্রতি থাকে বুকভরা ভালোবাসা, তবে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকে নিজের ভাগ্য নিজে বদলে ফেলা সম্ভব। সমাজ কিংবা জীবনকে বদলাতে চাইলে অন্যের মুখের দিকে চেয়ে বসে না থেকে নিজেকেই সাহসের সঙ্গে রাজপথে নামতে হয়। আলো পাওয়ার আশা না করে নিজেকেই আলো হয়ে জ্বলে উঠতে হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

৩৩ হাজার মণ্ডপে তিন স্তরের নিরাপত্তা

মালির অভিবাসীর সন্তান বালি বাগায়োকো, ফ্রান্সের রাজনীতিতে ইতিহাস গড়লেন

আপডেট সময় : ০২:০০:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

আফ্রিকার দেশ মালি। দারিদ্র্য আর সীমিত সুযোগের বাস্তবতা পেছনে ফেলে ভাগ্য বদলানোর আশায় একদিন ফ্রান্সে পাড়ি জমালেন এক মেকানিক। চোখে স্বপ্ন ও মনে আশা— পরিবারকে একটু ভালো রাখবেন, সন্তানদের একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ দেবেন। নিজের পোড়া তেলের গন্ধ লাগা হাতে গাড়ি মেরামত করতে করতে তিনি হয়তো কোনো দিন কল্পনাও করেননি, তার ঘরে জন্ম নেওয়া ছেলেটি একদিন ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র ফ্রান্সের রাজনীতির মূল মঞ্চ কাঁপিয়ে দেবে। দশকের পর দশক ধরে চলা একটানা সংগ্রাম আর ঘাম ঝরানো লড়াই পেরিয়ে অবশেষে তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে ফ্রান্সের ঐতিহাসিক সাঁ দেনি ও পিয়েরফিত শহরের মেয়র হিসেবে জয়লাভ করেন।

একই বছরের এপ্রিলে তিনি প্লেইন কমুন টেরিটোরিয়াল পাবলিক এস্টাবলিশমেন্টের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব নেন। প্রবাসীর সেই কষ্টের দিন আর ত্যাগের সিঁড়ি বেয়েই আজ রক্তমাংসের মানুষ থেকে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখিয়েছেন এই মেয়র।

তিনি কোনো রাজপ্রাসাদে জন্ম নেননি। তার ধমনিতে বয়ে যায়নি কোনো অভিজাত বংশের রক্ত। এক শ্রমজীবী বাবার ঘরে জন্ম নেওয়া সেই সন্তানটিই আজ সব প্রতিকূলতার প্রাচীর পেরিয়ে ফ্রান্সের রাজনীতিতে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন।

একবার ভাবুন তো, জীবনের শুরুটা কোথায় ছিল আর পৌঁছানোর জায়গাটা আজ কোথায়? যে পরিবারের শিকড় আফ্রিকার মাটিতে, সেই প্রবাস জীবনের এক শ্রমিকের সন্তানই আজ ইউরোপের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক জনপদের মানুষের অধিকারের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

১৯৭৩ সালের ৩১ জুলাই ফ্রান্সের ল্যভালোয়া পেরেস এলাকায় জন্ম নেওয়া বালি বাগায়োকো বেড়ে উঠেছেন প্যারিসের উপকণ্ঠে সাঁ দেনির এক সাধারণ আবাসনে। অটোমোবাইল খাতের শ্রমিক বাবার ঘরে বড় হওয়ার সুবাদে ছোটবেলা থেকেই তিনি এমন এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে প্রতিটি পরিবারকে টিকে থাকার জন্য প্রতিদিন সংগ্রাম করতে হয়। তবে সমাজের অবহেলা বা অভাবকে তিনি কখনো নিজের পিছিয়ে পড়ার অজুহাত বানাননি। বরং চারপাশে জমে থাকা বঞ্চনা আর নিজের ভাগ্য বদলানোর জেদকে তিনি সফলতার প্রধান জ্বালানি বানিয়েছিলেন।

বালি বাগায়োকোর পথচলা কোনো রাতারাতি সফলতার গল্প নয়। এর পেছনে রয়েছে— পড়াশোনা, চাকরি, মানুষের সঙ্গে মিশে থাকা এবং রাজপথের দীর্ঘ লড়াই।

সাঁ দেনির পল এলুয়ার হাইস্কুলে পড়ালেখা শেষ করে তিনি প্যারিস এইট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূরাজনীতি ও উপনগরী সংক্রান্ত বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। তবে তিনি কেবল বইয়ের পাতায় বন্দি রাখেননি। সাঁ দেনির মাঠে তরুণদের সঙ্গে বাস্কেটবল খেলেছেন, আধা পেশাদার খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে তরুণদের এক সুতায় বেঁধেছেন। খেলার মাঠের সেই শৃঙ্খলা ও ঐক্যের শিক্ষা পরে তাকে রাজনীতির মাঠে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সংস্থায় সাধারণ চাকরি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও বালি বাগায়োকোর দৃষ্টি সবসময় নিবদ্ধ থাকত এলাকার অবহেলিত মানুষের অধিকার আদায়ে। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে তিনি ২০০১ সালে সাঁ দেনির সিটি কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এরপর দীর্ঘদিন উপমেয়র এবং সেন সাঁ দেনির জেনারেল কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পেরিয়ে তিনি ফরাসি বামপন্থি রাজনৈতিক দল লা ফ্রঁস অ্যাঁসুমিস বা এলএফআই দলের শক্ত ভিত্তি তৈরি করেন। বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি এই আন্দোলনেরই অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নেতা। যে সাঁ দেনির মাটিতে ফরাসি রাজারা ঘুমিয়ে আছেন, সেই ঐতিহাসিক শহরের স্থানীয় রাজনীতিতে যখন আফ্রিকার এক প্রবাসীর সন্তান নেতৃত্বের শীর্ষে এলেন, তখন ফরাসি রাজনীতি এক নতুন অধ্যায়ের মুখোমুখি হলো।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসজুড়ে ফ্রান্সে তরুণ শিক্ষার্থীদের যে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়, তা পুরো দেশকে নাড়া দেয়। শিক্ষার বাজেট হ্রাস ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সেই আন্দোলনে পুলিশ যখন কঠোর অবস্থান নেয়, ঠিক সেই উত্তাল পরিস্থিতিতে বালি বাগায়োকো কোনো শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে থাকেননি। সব প্রটোকল দূরে ঠেলে তিনি সরাসরি রাজপথে নেমে আসেন এবং ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের রক্ষার্থে পুলিশের সামনে নিজের শরীরকে মানব ঢাল হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেন।

শিক্ষার্থীদের গায়ে আঁচড় পড়ার আগে সেই আঘাত যেন তার নিজের গায়ে লাগে— এমন অনমনীয় সাহস ও বজ্রকণ্ঠের নেতৃত্ব মুহূর্তেই বিশ্ব গণমাধ্যমের নজর কেড়ে নেয়। সিএনএন, বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান এবং চ্যানেল ফোর নিউজসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে তার এ ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। আন্তর্জাতিক মিডিয়া তাকে ফরাসি তারুণ্যের প্রতিবাদী আন্দোলনের এক জীবন্ত প্রতীক বা ছাত্রবিক্ষোভের আন্তর্জাতিক আইকন হিসেবে আখ্যায়িত করে। অভিবাসী শিকড় থেকে উঠে আসা এই বামপন্থি নেতার আপসহীন কর্মপদ্ধতি ও রাজপথের সাহসিকতা আজ তাকে বিশ্বমঞ্চে এক আলোচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

বালি বাগায়োকোর এই রূপকথা হার মানানো জীবনসংগ্রাম বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রতিটি সাধারণ মানুষের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দেয়। তোমার জন্ম কোথায় হয়েছে, পরিবারের আর্থিক অবস্থা কেমন কিংবা পকেটে কতটুকু জোর আছে, এসবের কোনো কিছুই বড় হয়ে ওঠার পথে চূড়ান্ত বাধা হতে পারে না। যদি মনের ভেতর লক্ষ্য নিয়ে অবিচল জেদ থাকে, কাজের প্রতি থাকে নিখাদ সততা এবং মানুষের প্রতি থাকে বুকভরা ভালোবাসা, তবে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকে নিজের ভাগ্য নিজে বদলে ফেলা সম্ভব। সমাজ কিংবা জীবনকে বদলাতে চাইলে অন্যের মুখের দিকে চেয়ে বসে না থেকে নিজেকেই সাহসের সঙ্গে রাজপথে নামতে হয়। আলো পাওয়ার আশা না করে নিজেকেই আলো হয়ে জ্বলে উঠতে হয়।