প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে গিয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। কিন্তু সুবিধা করতে পারছেন না নিগার সুলতানা জ্যোতিরা। টানা দুই হারে সিরিজ খুইয়েছে সফরকারীরা। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে জিতেছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।
শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২২০ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ৯ উইকেট ও ১৩১ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অজিরা।
রান তাড়া করতে নেমে দারুণ সূচনা পায় অস্ট্রেলিয়া। দুই অজি ব্যাটারই দ্রুত রান তুলতে থাকেন। সেই সুবাদে মাত্র ১৯.৫ ওভারেই উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১৬২ রান। তাতেই জয়ের ভিত পেয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। দ্রুত ফিফটি পূরণের পর ৭০ রানে থামেন ফোবে লিচফিল্ড। মাত্র ৫১ বলে খেলা তার এই ইনিংসটি ১১টি চার ও একটি ছয়ে সাজানো।
এরপর এলিস পেরিকে নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন ওপেনার জর্জিয়া ভোল। সেঞ্চুরি পূরণের পর ১৩১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। মাত্র ৯৭ বলে খেলা তার এই অনবদ্য ইনিংসটি ১৯টি চারে সাজানো। এদিকে ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন পেরি।
বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র উইকেট পেয়েছেন স্বর্ণা আক্তার।
এর আগে শুরুতে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। কিন্তু শুরুটা ভালো হয়নি টাইগ্রেসদের। দলীয় ৮ রানের মাথায় তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা। রানের দেখা পাননি ফারজানা হক ও শারমিন আক্তার। আর ৫ রানে আউট হন শারমিন সুলতানা।
চতুর্থ উইকেট জুটিতে চাপ সামলে নেন দলনেতা নিগার সুলতানা জ্যোতি ও সোবহানা মুস্তারি। দুজন মিলে গড়েন ১৯৫ রানের জুটি। তাদের এই জুটি যে কোনো উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নারী ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ। আর এটাই যে কোনো উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি।
দারুণ সব শটে সোবহানা ১২৩ বলে ১৫ চারে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিও পেয়ে যান। যে কোনো ফরম্যাটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরি এটা। জুটিটা ২০০ রানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু ৫ রানের জন্য এই জুটির ডাবল সেঞ্চুরি হয়নি। ৪৮তম ওভারের পঞ্চম বলে সোবহানা মেগান স্কুটের শিকার হন।
১১৮ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলার পথে ১৩৪ বলে ১৮ চার মারেন সোবহানা। নারী ক্রিকেটে বাংলাদেশের যে কোনো ফরম্যাটে এটাই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে মালদ্বীপের বিপক্ষে পোখারায় টি-টোয়েন্টিতে ১১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন নিগার। তার সামনেই তাকে পেছনে ফেললেন সোবহানা।
তারপর শেষ ওভারে পরপর দুটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। নিগার ১১৪ বলে ৭৪ রানে অপরাজিত থেকে দলকে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ এনে দিতে ভূমিকা রাখেন। এছাড়া ৮ রান আসে স্বর্ণার ব্যাট থেকে।



























