ঢাকা ০৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোংলায় দুর্যোগ দিবসে জলবায়ু ক্ষতিপূরণের দাবি অধিকার চান বক্তারা

মোংলায় দুর্যোগ দিবসে জলবায়ু ক্ষতিপূরণের দাবি অধিকার চান বক্তারা

ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট: ‘ঘর থেকে শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে বাগেরহাটের মোংলায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত কর্মসূচিতে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোর কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন বক্তারা। তাঁদের বক্তব্য, জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের দায় তুলনামূলকভাবে কম হলেও এর বিরূপ প্রভাবের বড় বোঝা বহন করতে হচ্ছে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে। এ ক্ষতিপূরণ অনুদান বা ঋণ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ন্যায্য অধিকার।

উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা অংশ নেয়। সকাল ১০টায় একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্যোগে দুর্যোগকালীন উদ্ধার ও প্রস্তুতিবিষয়ক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মোংলাসহ উপকূলীয় অঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের নানা বিরূপ প্রভাবের মুখে রয়েছে। লবণাক্ততা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনে মানুষের জীবন-জীবিকা এবং সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি জোরদারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা জরুরি।

ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের মো. নূর আলম শেখসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলের মানুষ নিয়মিত ক্ষতির মুখে পড়ছে। অথচ এই সংকট সৃষ্টিতে বাংলাদেশের অবদান নগণ্য। তাই ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা ও পুনর্বাসনে আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ ছাড় এবং উন্নত দেশগুলোর ঐতিহাসিক দায় স্বীকারের ওপর তাঁরা গুরুত্ব দেন।

সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের প্রস্তুতি ও চলমান কার্যক্রম তুলে ধরেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান এবং কৃষি কর্মকর্তা পীযুষ রায়সহ অন্য কর্মকর্তারা দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ ও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

বক্তারা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে তাদের দায়িত্ব অনুযায়ী অর্থায়ন করতে হবে। এ অর্থ যেন ঋণের বোঝা হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি না করে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন তাঁরা। ব্র্যাক, ফ্রেন্ডশিপ, উত্তরণ ও কেয়ার বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

কর্মসূচিতে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ব্যক্তি, পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও ন্যায্য জলবায়ু অর্থায়নের দাবি জানানো হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৫৪

মোংলায় দুর্যোগ দিবসে জলবায়ু ক্ষতিপূরণের দাবি অধিকার চান বক্তারা

আপডেট সময় : ০৫:০২:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট: ‘ঘর থেকে শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে বাগেরহাটের মোংলায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত কর্মসূচিতে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোর কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন বক্তারা। তাঁদের বক্তব্য, জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের দায় তুলনামূলকভাবে কম হলেও এর বিরূপ প্রভাবের বড় বোঝা বহন করতে হচ্ছে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে। এ ক্ষতিপূরণ অনুদান বা ঋণ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ন্যায্য অধিকার।

উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা অংশ নেয়। সকাল ১০টায় একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্যোগে দুর্যোগকালীন উদ্ধার ও প্রস্তুতিবিষয়ক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মোংলাসহ উপকূলীয় অঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের নানা বিরূপ প্রভাবের মুখে রয়েছে। লবণাক্ততা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনে মানুষের জীবন-জীবিকা এবং সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি জোরদারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা জরুরি।

ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের মো. নূর আলম শেখসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলের মানুষ নিয়মিত ক্ষতির মুখে পড়ছে। অথচ এই সংকট সৃষ্টিতে বাংলাদেশের অবদান নগণ্য। তাই ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা ও পুনর্বাসনে আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ ছাড় এবং উন্নত দেশগুলোর ঐতিহাসিক দায় স্বীকারের ওপর তাঁরা গুরুত্ব দেন।

সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের প্রস্তুতি ও চলমান কার্যক্রম তুলে ধরেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান এবং কৃষি কর্মকর্তা পীযুষ রায়সহ অন্য কর্মকর্তারা দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ ও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

বক্তারা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে তাদের দায়িত্ব অনুযায়ী অর্থায়ন করতে হবে। এ অর্থ যেন ঋণের বোঝা হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি না করে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন তাঁরা। ব্র্যাক, ফ্রেন্ডশিপ, উত্তরণ ও কেয়ার বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

কর্মসূচিতে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ব্যক্তি, পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও ন্যায্য জলবায়ু অর্থায়নের দাবি জানানো হয়।