ঢাকা ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীর সাথে বয়সের ব্যবধান নিয়ে ট্রল, মুখ খুললেন মিলিন্দ



ফটোকার্ড ডাউনলোড

বলিউড অভিনেতা ও মডেল মিলিন্দ সোমনের সঙ্গে স্ত্রী অঙ্কিতা কনওয়ারের বয়সের ব্যবধান ২৬ বছর। ২০১৮ সালে তাদের বিয়ের পর থেকেই এই বয়সের পার্থক্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

এমনকি দুজনকে লক্ষ্য করে কটাক্ষও করেন অনেকে। তবে এসব মন্তব্যে মিলিন্দ খুব একটা বিচলিত না হলেও অঙ্কিতার মনে তা প্রভাব ফেলেছিল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পুরোনো সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন অভিনেতা।৪ নভেম্বর ৬১ বছরে পা দিয়েছেন মিলিন্দ।

তার জন্মদিন উপলক্ষে স্ত্রী অঙ্কিতার সঙ্গে বয়সের ব্যবধান এবং এ নিয়ে অনলাইনে সমালোচনার মুখে পড়ার অভিজ্ঞতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।জুমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিলিন্দ জানান, তাদের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য করা হলেও সেগুলো তাকে তেমন প্রভাবিত করেনি। তবে অঙ্কিতার জন্য বিষয়টি শুরুতে সহজ ছিল না। কারণ, এ ধরনের পরিস্থিতি সামলানোর অভিজ্ঞতা তার তুলনামূলক কম ছিল।

মিলিন্দ বলেন, ‘এতে আমার কিছু যায়-আসেনি। তবে অঙ্কিতার খারাপ লাগতে পারত, কারণ এ ধরনের অভিজ্ঞতা তার কম ছিল। আমরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। আমি তাকে বলেছিলাম, যারা এসব মন্তব্য করছে, তারা তোমাকে বা আমাকে চেনে না। তারা যা বলছে, সেগুলো তাদের নিজস্ব মতামত।

অভিনেতা আরো জানান, তাদের আলোচনার পর অঙ্কিতা বিষয়টি দ্রুত বুঝতে পারেন। এরপর থেকে নেতিবাচক মন্তব্য তাকে আর আগের মতো বিচলিত করত না। এ ক্ষেত্রে অঙ্কিতার মানসিক দৃঢ়তারও প্রশংসা করেন মিলিন্দ।

তার মতে, দুজনের সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতাও এ ধরনের সমালোচনা সামলে উঠতে সাহায্য করেছে। সময়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিয়ে মানুষের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। তবে অন্যের অনুমোদন পাওয়ার জন্য তারা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখেননি। বরং তাদের দীর্ঘদিনের একসঙ্গে পথচলাকে মানুষ স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করছে, সেটি ভালো লাগে বলে জানান তিনি।

বয়সের ব্যবধান ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য

শুধু বয়সের পার্থক্য নয়, তাদের বেড়ে ওঠা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়েও রয়েছে ভিন্নতা। মিলিন্দ মহারাষ্ট্রের, আর অঙ্কিতা আসামের। দুজনের ভাষা, খাবারের অভ্যাস, পারিবারিক পরিবেশ এবং প্রজন্মের অভিজ্ঞতাও আলাদা।

এর আগে হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিলিন্দ বলেছিলেন, অঙ্কিতা তার চেয়ে ২৬ বছরের ছোট হওয়ায় চিন্তাভাবনা, বেড়ে ওঠা ও জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। তবে অঙ্কিতার চিন্তাভাবনাকে তিনি ভিন্ন ও অসাধারণ বলে উল্লেখ করেন।

মিলিন্দের ভাষায়, তারা ভিন্ন প্রজন্ম ও ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশ থেকে এসেছেন। তাদের ভাষা ও খাবারের অভ্যাসও এক নয়। তারপরও দুজনের চিন্তা, আবেগ ও অনুভূতির মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়াকে বিশেষ বলে মনে করেন তিনি। অঙ্কিতার সঙ্গে পরিচয়ের পর তার জীবন আরো ভালো হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন অভিনেতা।

যেভাবে পরিচয় ও বিয়ে

মিলিন্দ ও অঙ্কিতার পরিচয় হয় চেন্নাইয়ের একটি হোটেলে। অঙ্কিতা তখন বিমানসেবীকা হিসেবে কাজ করতেন। পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। কয়েক বছর প্রেমের সম্পর্কের পর ২০১৮ সালের ২২ এপ্রিল বিয়ে করেন তারা।

বিয়ের সময় মিলিন্দের বয়স ছিল ৫২ বছর, আর অঙ্কিতার ২৬। বয়সের ব্যবধান নিয়ে তখন ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। তবে সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে তারা একাধিকবার নিজেদের সম্পর্কের প্রতি আস্থা ও ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন।

২০১৯ সালে একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের প্রচারাভিযানেও নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে করা নেতিবাচক মন্তব্যের জবাব দিয়েছিলেন এই দম্পতি। সেখানে বয়সের ব্যবধান নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি মিলিন্দ ও অঙ্কিতা জানিয়েছিলেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দুজনের ভালো থাকা।

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

স্ত্রীর সাথে বয়সের ব্যবধান নিয়ে ট্রল, মুখ খুললেন মিলিন্দ

আপডেট সময় : ০৪:৫০:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬


ফটোকার্ড ডাউনলোড

বলিউড অভিনেতা ও মডেল মিলিন্দ সোমনের সঙ্গে স্ত্রী অঙ্কিতা কনওয়ারের বয়সের ব্যবধান ২৬ বছর। ২০১৮ সালে তাদের বিয়ের পর থেকেই এই বয়সের পার্থক্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

এমনকি দুজনকে লক্ষ্য করে কটাক্ষও করেন অনেকে। তবে এসব মন্তব্যে মিলিন্দ খুব একটা বিচলিত না হলেও অঙ্কিতার মনে তা প্রভাব ফেলেছিল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পুরোনো সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন অভিনেতা।৪ নভেম্বর ৬১ বছরে পা দিয়েছেন মিলিন্দ।

তার জন্মদিন উপলক্ষে স্ত্রী অঙ্কিতার সঙ্গে বয়সের ব্যবধান এবং এ নিয়ে অনলাইনে সমালোচনার মুখে পড়ার অভিজ্ঞতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।জুমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিলিন্দ জানান, তাদের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য করা হলেও সেগুলো তাকে তেমন প্রভাবিত করেনি। তবে অঙ্কিতার জন্য বিষয়টি শুরুতে সহজ ছিল না। কারণ, এ ধরনের পরিস্থিতি সামলানোর অভিজ্ঞতা তার তুলনামূলক কম ছিল।

মিলিন্দ বলেন, ‘এতে আমার কিছু যায়-আসেনি। তবে অঙ্কিতার খারাপ লাগতে পারত, কারণ এ ধরনের অভিজ্ঞতা তার কম ছিল। আমরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। আমি তাকে বলেছিলাম, যারা এসব মন্তব্য করছে, তারা তোমাকে বা আমাকে চেনে না। তারা যা বলছে, সেগুলো তাদের নিজস্ব মতামত।

অভিনেতা আরো জানান, তাদের আলোচনার পর অঙ্কিতা বিষয়টি দ্রুত বুঝতে পারেন। এরপর থেকে নেতিবাচক মন্তব্য তাকে আর আগের মতো বিচলিত করত না। এ ক্ষেত্রে অঙ্কিতার মানসিক দৃঢ়তারও প্রশংসা করেন মিলিন্দ।

তার মতে, দুজনের সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতাও এ ধরনের সমালোচনা সামলে উঠতে সাহায্য করেছে। সময়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিয়ে মানুষের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। তবে অন্যের অনুমোদন পাওয়ার জন্য তারা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখেননি। বরং তাদের দীর্ঘদিনের একসঙ্গে পথচলাকে মানুষ স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করছে, সেটি ভালো লাগে বলে জানান তিনি।

বয়সের ব্যবধান ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য

শুধু বয়সের পার্থক্য নয়, তাদের বেড়ে ওঠা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়েও রয়েছে ভিন্নতা। মিলিন্দ মহারাষ্ট্রের, আর অঙ্কিতা আসামের। দুজনের ভাষা, খাবারের অভ্যাস, পারিবারিক পরিবেশ এবং প্রজন্মের অভিজ্ঞতাও আলাদা।

এর আগে হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিলিন্দ বলেছিলেন, অঙ্কিতা তার চেয়ে ২৬ বছরের ছোট হওয়ায় চিন্তাভাবনা, বেড়ে ওঠা ও জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। তবে অঙ্কিতার চিন্তাভাবনাকে তিনি ভিন্ন ও অসাধারণ বলে উল্লেখ করেন।

মিলিন্দের ভাষায়, তারা ভিন্ন প্রজন্ম ও ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশ থেকে এসেছেন। তাদের ভাষা ও খাবারের অভ্যাসও এক নয়। তারপরও দুজনের চিন্তা, আবেগ ও অনুভূতির মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়াকে বিশেষ বলে মনে করেন তিনি। অঙ্কিতার সঙ্গে পরিচয়ের পর তার জীবন আরো ভালো হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন অভিনেতা।

যেভাবে পরিচয় ও বিয়ে

মিলিন্দ ও অঙ্কিতার পরিচয় হয় চেন্নাইয়ের একটি হোটেলে। অঙ্কিতা তখন বিমানসেবীকা হিসেবে কাজ করতেন। পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। কয়েক বছর প্রেমের সম্পর্কের পর ২০১৮ সালের ২২ এপ্রিল বিয়ে করেন তারা।

বিয়ের সময় মিলিন্দের বয়স ছিল ৫২ বছর, আর অঙ্কিতার ২৬। বয়সের ব্যবধান নিয়ে তখন ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। তবে সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে তারা একাধিকবার নিজেদের সম্পর্কের প্রতি আস্থা ও ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন।

২০১৯ সালে একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের প্রচারাভিযানেও নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে করা নেতিবাচক মন্তব্যের জবাব দিয়েছিলেন এই দম্পতি। সেখানে বয়সের ব্যবধান নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি মিলিন্দ ও অঙ্কিতা জানিয়েছিলেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দুজনের ভালো থাকা।