ঢাকা ০৩:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ১৫ জাহাজ

চট্টগ্রাম মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই স্বস্তির খবর পেল বাংলাদেশ। সম্ভাব্য সংঘাত শুরু হওয়ার আগেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে প্রায় আড়াই লাখ টন এলএনজিসহ ১৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এসব জাহাজে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্পকারখানার প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও কাঁচামাল রয়েছে।

বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এই ১৫টি জাহাজে মূলত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), ফার্নেস অয়েল, ডিজেল এবং বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল রয়েছে। বর্তমানে জাহাজগুলো ধাপে ধাপে বন্দরে ভিড়ছে এবং পণ্য খালাস প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বিশেষ করে চারটি বড় ট্যাংকারে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন এলএনজি আনা হয়েছে কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে। এই বিপুল পরিমাণ গ্যাস দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বৃহৎ শিল্পকারখানার উৎপাদন সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জ্বালানি তেলের পাশাপাশি একটি জাহাজে আসা এলপিজি গৃহস্থালি রান্নার সিলিন্ডার এবং হোটেল-রেস্তোরাঁর চাহিদা মেটাবে। এছাড়া কার্গো জাহাজগুলোতে প্লাস্টিক, পেট্রোকেমিক্যাল এবং তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক ও কাঁচামাল নিয়ে আসা হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে যুদ্ধাবস্থার কারণে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক (বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা) জানান, সংঘাত পূর্ণমাত্রায় শুরু হওয়ার আগেই জাহাজগুলো নিরাপদে আরব সাগরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিল। বন্দরে জাহাজ ভেড়ানো এবং পণ্য খালাস নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আসা জাহাজগুলোর মধ্যে ‘লুসাইল’ এবং ‘আল গালায়েল’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলএনজি ট্যাংকার রয়েছে।

এলএনজি জাহাজগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধি ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ উপমহাব্যবস্থাপক মো. নুরুল আলম জানান, অধিকাংশ জাহাজ নিরাপদে পৌঁছালেও ‘লিবারেল’ নামে একটি এলএনজিবাহী জাহাজ এখনও হরমুজ প্রণালির ভেতরে অবস্থান করছে। পণ্য বোঝাই এই জাহাজটি বর্তমানে প্রণালি অতিক্রমের অপেক্ষায় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক এই অস্থিরতার মাঝে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও কাঁচামাল নিরাপদে দেশে পৌঁছানো বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বাজার স্থিতিশীলতার জন্য একটি ইতিবাচক সংবাদ।

হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ১৫ জাহাজ

আপডেট সময় : ১০:৪৫:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রাম মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই স্বস্তির খবর পেল বাংলাদেশ। সম্ভাব্য সংঘাত শুরু হওয়ার আগেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে প্রায় আড়াই লাখ টন এলএনজিসহ ১৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এসব জাহাজে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্পকারখানার প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও কাঁচামাল রয়েছে।

বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এই ১৫টি জাহাজে মূলত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), ফার্নেস অয়েল, ডিজেল এবং বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল রয়েছে। বর্তমানে জাহাজগুলো ধাপে ধাপে বন্দরে ভিড়ছে এবং পণ্য খালাস প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বিশেষ করে চারটি বড় ট্যাংকারে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন এলএনজি আনা হয়েছে কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে। এই বিপুল পরিমাণ গ্যাস দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বৃহৎ শিল্পকারখানার উৎপাদন সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জ্বালানি তেলের পাশাপাশি একটি জাহাজে আসা এলপিজি গৃহস্থালি রান্নার সিলিন্ডার এবং হোটেল-রেস্তোরাঁর চাহিদা মেটাবে। এছাড়া কার্গো জাহাজগুলোতে প্লাস্টিক, পেট্রোকেমিক্যাল এবং তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক ও কাঁচামাল নিয়ে আসা হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে যুদ্ধাবস্থার কারণে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক (বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা) জানান, সংঘাত পূর্ণমাত্রায় শুরু হওয়ার আগেই জাহাজগুলো নিরাপদে আরব সাগরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিল। বন্দরে জাহাজ ভেড়ানো এবং পণ্য খালাস নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আসা জাহাজগুলোর মধ্যে ‘লুসাইল’ এবং ‘আল গালায়েল’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলএনজি ট্যাংকার রয়েছে।

এলএনজি জাহাজগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধি ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ উপমহাব্যবস্থাপক মো. নুরুল আলম জানান, অধিকাংশ জাহাজ নিরাপদে পৌঁছালেও ‘লিবারেল’ নামে একটি এলএনজিবাহী জাহাজ এখনও হরমুজ প্রণালির ভেতরে অবস্থান করছে। পণ্য বোঝাই এই জাহাজটি বর্তমানে প্রণালি অতিক্রমের অপেক্ষায় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক এই অস্থিরতার মাঝে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও কাঁচামাল নিরাপদে দেশে পৌঁছানো বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বাজার স্থিতিশীলতার জন্য একটি ইতিবাচক সংবাদ।