ঢাকা ০১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংস্কার শর্তে কঠোর আইএমএফ, অনিশ্চিত ঋণের কিস্তি

বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড় নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। নির্ধারিত কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নে সন্তোষজনক অগ্রগতি পায়নি সংস্থাটি। সরকার আলোচনা চলমান বললেও রাজস্ব আহরণ, ব্যাংকিং খাতের সুশাসন এবং বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ শর্তে পিছিয়ে থাকার প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ফলে জুনে প্রত্যাশিত অর্থছাড় বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ আরও বাড়াতে পারে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, মূলত কম রাজস্ব আদায় ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণেই আইএমএফের ঋণ নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে। প্রসঙ্গত, আগামী জুনের মধ্যে আইএমএফের কাছ থেকে এক দশমিক ৩ বিলিয়ন বা ১৩০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার কথা রয়েছে।

আইএমএফ বলেছে, রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতে সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। এ অবস্থায় অতিরিক্ত শর্তসহ একটি নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। ঋণচুক্তির আওতায় রাজস্ব খাত সংস্কার, ব্যাংক খাত সংস্কার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ভর্তুকি প্রত্যাহার, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার নিশ্চিত করাসহ যেসব শর্ত ছিল, বাংলাদেশ সেগুলো বাস্তবায়ন করেনি। ফলে চলমান ঋণচুক্তির বাস্তবায়ন পরিস্থিতি রিভিউ (পর্যালোচনা) না করে ঋণের কিস্তি ছাড় করার ব্যাপারে তারা আগ্রহী নয়। ফলে ঋণের টাকা পেতে আরও বিলম্ব হতে পারে।

বাংলাদেশ যদি সব শর্ত পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বর্তমান কর্মসূচি চালিয়ে যেতে চায়, তবুও কোনো অর্থ ছাড় সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিলম্বিত হতে পারে। আইএমএফ বর্তমান ব্যবস্থার পরিবর্তে সংশোধিত শর্তে নতুন ঋণ দিতে বেশি আগ্রহী।

এদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের চলমান বসন্তকালীন বৈঠক থেকে ফেরার পর জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে গ্যাসের দামও। যদিও অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আইএমএফের চাপে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। বৈশ্বিক কারণে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব ইতোমধ্যে বাস ভাড়া, ট্রাক ভাড়া বৃদ্ধিসহ সমগ্র পরিবহন খাতে পড়তে শুরু করেছে। এতে করে বাড়তে শুরু করেছে পণ্যমূল্য। এ ছাড়া বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চলমান চাপের মধ্যে কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সংস্থাটি। ওয়াশিংটনে সদ্য শেষ হওয়া আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন সভার সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত একাধিক বৈঠকে আএমএফের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে অর্থমন্ত্রীকে এ অবস্থান জানানো হয়েছে। ওয়াশিংটন সফরে অর্থমন্ত্রীর দলে থাকা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সাইডলাইন সভায় দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি প্রসঙ্গ তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজস্ব খাত, মুদ্রানীতি, বিনিময় হার এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা নিয়ে আবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইএমএফ। দেশের কর জিডিপি অনুপাত এখনও ৭-৮ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা উন্নয়ন চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম। এ অবস্থায় কর নেট সম্প্রসারণ, ভ্যাট ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং আয়কর আদায় বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে তারা। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। নীতি সুদহার বৃদ্ধির মাধ্যমে বাজারে অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি মনে করছে, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার পুরোপুরি কার্যকর না হলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমবে না। যা আসছে বাজেট থেকে পুরোপুরি বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি খাত থেকে ভর্তুকি কমিয়ে ধাপে ধাপে বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি কমানোর সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি খেলাপি ঋণের উচ্চহার ও পুনঃতফসিল প্রক্রিয়ায় শিথিলতা দেখানোর তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। সংস্থাটি মনে করে সংস্কারের বাইরে এসে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে স্বচ্ছতার অভাব আরও প্রকট আকার ধারণ করবে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, এই বাজেট সহায়তা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কিছুটা কমাবে এবং বাজেট ঘাটতি ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করবে। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছেন, সহায়তার পূর্ণ সুবিধা পেতে হলে কাঠামোগত সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি। সমস্যাটা হয়তো এখানেই দেখা দেবে। আএমএফ শর্তসাপেক্ষে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেসব শর্ত পরিপালন করতে না পারলে যে কোনো সময় বাজেট সহায়তা থেকে সরে দাঁড়াবেÑ সেটাও তারা বলে দিয়েছে। ফলে সরকারকেও এখানে অনেক কঠোরভাবে শর্ত পরিপালন করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

আইএমএফের সঙ্গে ২০২৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চার দশমিক সাত বিলিয়ন বা ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি সই করে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের আগস্টে আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন করে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ওই সময় ঋণের পরিমাণ আরও ৮০০ মিলিয়ন ডলার বাড়ানো হয়। তখন ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলার। এই অর্থের মধ্যে এখন পর্যন্ত আইএমএফ বাংলাদেশকে ঋণ ছাড় করেছে তিন দশমিক ৬৪ বিলিয়ন বা ৩৬৪ কোটি ডলার। গত ডিসেম্বরে ঋণের আরেক কিস্তি অর্থ পাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের ওই সময়ে ঋণের অর্থ ছাড় করা হয়নি। তারা চেয়েছিল ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই এই অর্থ ছাড় করা হবে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে জয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। ওই বকেয়া কিস্তিসহ চলতি বছরের জুনের মধ্যে এক দশমিক তিন বিলিয়ন ডলার ঋণ আশা করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেটি সংস্কার ইস্যুতে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সংস্কার শর্তে কঠোর আইএমএফ, অনিশ্চিত ঋণের কিস্তি

আপডেট সময় : ১১:০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড় নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। নির্ধারিত কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নে সন্তোষজনক অগ্রগতি পায়নি সংস্থাটি। সরকার আলোচনা চলমান বললেও রাজস্ব আহরণ, ব্যাংকিং খাতের সুশাসন এবং বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ শর্তে পিছিয়ে থাকার প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ফলে জুনে প্রত্যাশিত অর্থছাড় বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ আরও বাড়াতে পারে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, মূলত কম রাজস্ব আদায় ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণেই আইএমএফের ঋণ নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে। প্রসঙ্গত, আগামী জুনের মধ্যে আইএমএফের কাছ থেকে এক দশমিক ৩ বিলিয়ন বা ১৩০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার কথা রয়েছে।

আইএমএফ বলেছে, রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতে সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। এ অবস্থায় অতিরিক্ত শর্তসহ একটি নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। ঋণচুক্তির আওতায় রাজস্ব খাত সংস্কার, ব্যাংক খাত সংস্কার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ভর্তুকি প্রত্যাহার, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার নিশ্চিত করাসহ যেসব শর্ত ছিল, বাংলাদেশ সেগুলো বাস্তবায়ন করেনি। ফলে চলমান ঋণচুক্তির বাস্তবায়ন পরিস্থিতি রিভিউ (পর্যালোচনা) না করে ঋণের কিস্তি ছাড় করার ব্যাপারে তারা আগ্রহী নয়। ফলে ঋণের টাকা পেতে আরও বিলম্ব হতে পারে।

বাংলাদেশ যদি সব শর্ত পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বর্তমান কর্মসূচি চালিয়ে যেতে চায়, তবুও কোনো অর্থ ছাড় সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিলম্বিত হতে পারে। আইএমএফ বর্তমান ব্যবস্থার পরিবর্তে সংশোধিত শর্তে নতুন ঋণ দিতে বেশি আগ্রহী।

এদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের চলমান বসন্তকালীন বৈঠক থেকে ফেরার পর জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে গ্যাসের দামও। যদিও অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আইএমএফের চাপে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। বৈশ্বিক কারণে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব ইতোমধ্যে বাস ভাড়া, ট্রাক ভাড়া বৃদ্ধিসহ সমগ্র পরিবহন খাতে পড়তে শুরু করেছে। এতে করে বাড়তে শুরু করেছে পণ্যমূল্য। এ ছাড়া বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চলমান চাপের মধ্যে কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সংস্থাটি। ওয়াশিংটনে সদ্য শেষ হওয়া আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন সভার সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত একাধিক বৈঠকে আএমএফের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে অর্থমন্ত্রীকে এ অবস্থান জানানো হয়েছে। ওয়াশিংটন সফরে অর্থমন্ত্রীর দলে থাকা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সাইডলাইন সভায় দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি প্রসঙ্গ তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজস্ব খাত, মুদ্রানীতি, বিনিময় হার এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা নিয়ে আবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইএমএফ। দেশের কর জিডিপি অনুপাত এখনও ৭-৮ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা উন্নয়ন চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম। এ অবস্থায় কর নেট সম্প্রসারণ, ভ্যাট ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং আয়কর আদায় বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে তারা। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। নীতি সুদহার বৃদ্ধির মাধ্যমে বাজারে অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি মনে করছে, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার পুরোপুরি কার্যকর না হলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমবে না। যা আসছে বাজেট থেকে পুরোপুরি বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি খাত থেকে ভর্তুকি কমিয়ে ধাপে ধাপে বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি কমানোর সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি খেলাপি ঋণের উচ্চহার ও পুনঃতফসিল প্রক্রিয়ায় শিথিলতা দেখানোর তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। সংস্থাটি মনে করে সংস্কারের বাইরে এসে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে স্বচ্ছতার অভাব আরও প্রকট আকার ধারণ করবে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, এই বাজেট সহায়তা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কিছুটা কমাবে এবং বাজেট ঘাটতি ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করবে। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছেন, সহায়তার পূর্ণ সুবিধা পেতে হলে কাঠামোগত সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি। সমস্যাটা হয়তো এখানেই দেখা দেবে। আএমএফ শর্তসাপেক্ষে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেসব শর্ত পরিপালন করতে না পারলে যে কোনো সময় বাজেট সহায়তা থেকে সরে দাঁড়াবেÑ সেটাও তারা বলে দিয়েছে। ফলে সরকারকেও এখানে অনেক কঠোরভাবে শর্ত পরিপালন করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

আইএমএফের সঙ্গে ২০২৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চার দশমিক সাত বিলিয়ন বা ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি সই করে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের আগস্টে আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন করে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ওই সময় ঋণের পরিমাণ আরও ৮০০ মিলিয়ন ডলার বাড়ানো হয়। তখন ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলার। এই অর্থের মধ্যে এখন পর্যন্ত আইএমএফ বাংলাদেশকে ঋণ ছাড় করেছে তিন দশমিক ৬৪ বিলিয়ন বা ৩৬৪ কোটি ডলার। গত ডিসেম্বরে ঋণের আরেক কিস্তি অর্থ পাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের ওই সময়ে ঋণের অর্থ ছাড় করা হয়নি। তারা চেয়েছিল ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই এই অর্থ ছাড় করা হবে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে জয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। ওই বকেয়া কিস্তিসহ চলতি বছরের জুনের মধ্যে এক দশমিক তিন বিলিয়ন ডলার ঋণ আশা করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেটি সংস্কার ইস্যুতে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।