ঢাকা ০১:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানের পথে মার্কিন প্রতিনিধিরা

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা উচ্চপর্যায়ের আলোচনার আয়োজন ঘিরে ব্যাপক কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন সূত্র ও মার্কিন-ইরান পক্ষের বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে নতুন করে সংলাপ শুরুর চেষ্টা চলছে, যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে নতুন দফা আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে যাবে এবং সোমবার সন্ধ্যায় তারা ইসলামাবাদে পৌঁছাবে। হোয়াইট হাউস পরে জানায়, এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। দলে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারও থাকবেন। তারা পূর্ববর্তী আলোচনাতেও অংশ নিয়েছিলেন।

তবে আলোচনার বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ‘এ মুহূর্তে পরবর্তী দফা আলোচনার কোনো পরিকল্পনা নেই এবং এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি।’ ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে আলোচনায় অংশ নেওয়া হবে না।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি পাকিস্তানে স্বাক্ষর হবে। এর আগে অনুষ্ঠিত প্রথম দফা আলোচনা প্রায় ২১ ঘণ্টা চললেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। পারমাণবিক কর্মসূচিসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থান তখনও উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন ছিল।

নজিরবিহীন নিরাপত্তা প্রস্তুতি : সম্ভাব্য বৈঠককে ঘিরে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রেড জোনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কার্যত লকডাউনের আওতায় রয়েছে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, গত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত ছয়টি মার্কিন সরকারি সি-১৭ গ্লোবমাস্টার বিমান ইসলামাবাদের নূর খান বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। এসব উড়োজাহাজে যোগাযোগ সরঞ্জাম, নিরাপত্তা সহায়তা ও মোটরকেড ব্যবস্থার সরঞ্জাম আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে অন্তত দুটি বিমান ইতোমধ্যে অবতরণ করেছে এবং আরও কয়েকটি আসার পথে রয়েছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আগাম নিরাপত্তা দল ও সাঁজোয়া যান ইতোমধ্যে পাকিস্তানে পৌঁছাতে শুরু করেছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। এসব প্রস্তুতি আলোচনার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করলেও ইরানের অংশগ্রহণ এখনও অনিশ্চিত।

এই সম্ভাব্য আলোচনার পটভূমিতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক নৌ ও সামরিক উত্তেজনা, জাহাজ জব্দ এবং পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। ইরান ইতোমধ্যে হুশিয়ারি দিয়েছে, নতুন করে হামলা হলে তারা পাল্টা জবাব দেবে।

এদিকে চীন ও রাশিয়া উভয় পক্ষকেই সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। চীন হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার ওপর জোর দিয়েছে। আর রাশিয়া বলেছে, পরিস্থিতি আরও অবনতি এড়াতে কূটনৈতিক আলোচনার ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালনের চেষ্টা করছে। দেশটির প্রতিরক্ষাপ্রধান সম্প্রতি তেহরান সফরও করেছেন। তবে চলমান উত্তেজনা, সামরিক সংঘাতের অভিযোগ এবং দুই পক্ষের কঠোর অবস্থানের কারণে আলোচনার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত।

এমন পরিস্থিতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। গতকাল রাতে ইরানি সংবাদ সংস্থাগুলো জানায়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন এক দফা আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরির প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা হয়েছে। এ সময় তারা সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদে যদি সত্যিই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মোড় হতে পারে। তবে ইরানের আনুষ্ঠানিক সম্মতি ছাড়া এ উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।

পাকিস্তানের পথে মার্কিন প্রতিনিধিরা

আপডেট সময় : ১১:২২:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা উচ্চপর্যায়ের আলোচনার আয়োজন ঘিরে ব্যাপক কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন সূত্র ও মার্কিন-ইরান পক্ষের বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে নতুন করে সংলাপ শুরুর চেষ্টা চলছে, যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে নতুন দফা আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে যাবে এবং সোমবার সন্ধ্যায় তারা ইসলামাবাদে পৌঁছাবে। হোয়াইট হাউস পরে জানায়, এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। দলে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারও থাকবেন। তারা পূর্ববর্তী আলোচনাতেও অংশ নিয়েছিলেন।

তবে আলোচনার বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ‘এ মুহূর্তে পরবর্তী দফা আলোচনার কোনো পরিকল্পনা নেই এবং এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি।’ ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে আলোচনায় অংশ নেওয়া হবে না।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি পাকিস্তানে স্বাক্ষর হবে। এর আগে অনুষ্ঠিত প্রথম দফা আলোচনা প্রায় ২১ ঘণ্টা চললেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। পারমাণবিক কর্মসূচিসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থান তখনও উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন ছিল।

নজিরবিহীন নিরাপত্তা প্রস্তুতি : সম্ভাব্য বৈঠককে ঘিরে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রেড জোনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কার্যত লকডাউনের আওতায় রয়েছে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, গত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত ছয়টি মার্কিন সরকারি সি-১৭ গ্লোবমাস্টার বিমান ইসলামাবাদের নূর খান বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। এসব উড়োজাহাজে যোগাযোগ সরঞ্জাম, নিরাপত্তা সহায়তা ও মোটরকেড ব্যবস্থার সরঞ্জাম আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে অন্তত দুটি বিমান ইতোমধ্যে অবতরণ করেছে এবং আরও কয়েকটি আসার পথে রয়েছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আগাম নিরাপত্তা দল ও সাঁজোয়া যান ইতোমধ্যে পাকিস্তানে পৌঁছাতে শুরু করেছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। এসব প্রস্তুতি আলোচনার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করলেও ইরানের অংশগ্রহণ এখনও অনিশ্চিত।

এই সম্ভাব্য আলোচনার পটভূমিতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক নৌ ও সামরিক উত্তেজনা, জাহাজ জব্দ এবং পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। ইরান ইতোমধ্যে হুশিয়ারি দিয়েছে, নতুন করে হামলা হলে তারা পাল্টা জবাব দেবে।

এদিকে চীন ও রাশিয়া উভয় পক্ষকেই সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। চীন হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার ওপর জোর দিয়েছে। আর রাশিয়া বলেছে, পরিস্থিতি আরও অবনতি এড়াতে কূটনৈতিক আলোচনার ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালনের চেষ্টা করছে। দেশটির প্রতিরক্ষাপ্রধান সম্প্রতি তেহরান সফরও করেছেন। তবে চলমান উত্তেজনা, সামরিক সংঘাতের অভিযোগ এবং দুই পক্ষের কঠোর অবস্থানের কারণে আলোচনার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত।

এমন পরিস্থিতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। গতকাল রাতে ইরানি সংবাদ সংস্থাগুলো জানায়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন এক দফা আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরির প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা হয়েছে। এ সময় তারা সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদে যদি সত্যিই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মোড় হতে পারে। তবে ইরানের আনুষ্ঠানিক সম্মতি ছাড়া এ উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।