ঢাকা ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে আবারো হামলার পরিকল্পনা ট্রাম্পের!

ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তজনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে পুনরায় বিমান হামলা এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধের পরিকল্পনা করছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এই ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

সম্প্রতি পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে কঠোর অবরোধের ঘোষণা দেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, মার্কিন নৌবাহিনী ওই এলাকা দিয়ে যাতায়াতকারী যেকোনো জাহাজকে তল্লাশি বা বাধা দেওয়ার ক্ষমতা রাখবে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে রাজি না হওয়ায় আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান আলোচনায় ফিরুক বা না ফিরুক, তাতে তার কিছু যায় আসে না; তবে ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।

মার্কিন গণমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধের পাশাপাশি বিমান হামলার বিকল্পও ট্রাম্পের বিবেচনায় রয়েছে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রভাবে বাজার খোলার সাথে সাথেই জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম একলাফে ৭.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ১০২.৩৭ ডলারে পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট আরও প্রকট হতে পারে।

এদিকে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের কর্মকাণ্ড রুখতে সব ধরনের বিকল্প পথ খোলা রেখেছেন। তবে বিমান হামলার বিষয়টি নিয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু না বললেও তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভুলেশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) মার্কিন এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে। তারা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কাছে আসা যেকোনো বিদেশি সামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে তারা কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে ইরানি বন্দরগুলোতে এই অবরোধ কার্যকর করা শুরু হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে তারা সরাসরি বাধা সৃষ্টি করবে না, যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই রুট দিয়ে পণ্য পরিবহন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার ইস্যুতে ভারতের নজর

ইরানে আবারো হামলার পরিকল্পনা ট্রাম্পের!

আপডেট সময় : ১০:৩১:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তজনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে পুনরায় বিমান হামলা এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধের পরিকল্পনা করছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এই ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

সম্প্রতি পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে কঠোর অবরোধের ঘোষণা দেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, মার্কিন নৌবাহিনী ওই এলাকা দিয়ে যাতায়াতকারী যেকোনো জাহাজকে তল্লাশি বা বাধা দেওয়ার ক্ষমতা রাখবে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে রাজি না হওয়ায় আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান আলোচনায় ফিরুক বা না ফিরুক, তাতে তার কিছু যায় আসে না; তবে ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।

মার্কিন গণমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধের পাশাপাশি বিমান হামলার বিকল্পও ট্রাম্পের বিবেচনায় রয়েছে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রভাবে বাজার খোলার সাথে সাথেই জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম একলাফে ৭.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ১০২.৩৭ ডলারে পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট আরও প্রকট হতে পারে।

এদিকে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের কর্মকাণ্ড রুখতে সব ধরনের বিকল্প পথ খোলা রেখেছেন। তবে বিমান হামলার বিষয়টি নিয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু না বললেও তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভুলেশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) মার্কিন এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে। তারা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কাছে আসা যেকোনো বিদেশি সামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে তারা কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে ইরানি বন্দরগুলোতে এই অবরোধ কার্যকর করা শুরু হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে তারা সরাসরি বাধা সৃষ্টি করবে না, যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই রুট দিয়ে পণ্য পরিবহন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।