গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিস শহরে ইসরায়েলি হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর নাসের হাসপাতালের বাইরে শোকার্ত স্বজন -মিডল ইস্ট আই
যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর একটি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। প্রস্তাবটিতে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের কথা বলা হলেও গোষ্ঠীটির দাবি, ইসরায়েল এখনও যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের শর্ত লঙ্ঘন করে যাচ্ছে। এ তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই।
আলোচনায় সরাসরি জড়িত ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো জানায়, চলতি মাসের শুরুতে উপস্থাপিত পরিকল্পনাটিকে হামাস একটি ‘ফাঁদ’ হিসেবে দেখছে। তাদের আশঙ্কা, এটি গাজা উপত্যকায় গৃহযুদ্ধ উসকে দিতে পারে এবং সামগ্রিকভাবে ফিলিস্তিনি সমাজকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
হামাসের মতে, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে গাজার সাধারণ মানুষ প্রতিরক্ষাহীন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে ইসরায়েল-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো অবাধে সক্রিয় হয়ে পরিস্থিতিকে আরও অরাজক করে তুলতে পারে।
গাজার এক সূত্র স্পষ্ট করে বলেন, ‘হামাস এই প্রস্তাব সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।’ তিনি আরও জানান, সংগঠনটির সামরিক শাখা কাসাম ব্রিগেডসের ভেতরে বিরোধিতা আরও তীব্র। তাদের দৃষ্টিতে নিরস্ত্রীকরণ মানে ‘সমষ্টিগত আত্মহত্যা’। ‘তারা বিশ্বাস করে, অস্ত্র ত্যাগ করা কোনো বিকল্পই নয়- এটি কখনোই ঘটবে না,’ যোগ করেন তিনি।
সূত্রগুলো আরও জানায়, ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ পরিকল্পনাটি উপস্থাপন করেন, যেখানে মূলত হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের ওপর জোর দেওয়া হয়। তবে প্রস্তাবে গাজার ভেতরে ইসরায়েলের নির্দেশনায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
একজন সূত্রের ভাষায়, ‘নিরস্ত্রীকরণের আড়ালে আরও অস্থিতিশীলতা তৈরি করাই আসল উদ্দেশ্য, যাতে মানুষ গাজা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। এটি উপত্যকাকে ধীরে ধীরে জনশূন্য করার কৌশল।’
প্রস্তাবিত চুক্তির আরেকটি বিতর্কিত দিক হলো- গাজার প্রায় ২০ হাজার সরকারি কর্মচারীকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা। হামাসের মতে, এতে পুরো প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়বে।
হামাস নেতারা জোর দিয়ে বলেছেন, নিরস্ত্রীকরণসহ চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে কোনো আলোচনা শুরু করার আগে ইসরায়েলকে অবশ্যই যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে।
মার্কিন মধ্যস্থতায় গত বছরের অক্টোবরে হওয়া যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য ছিল দুই বছরের সংঘাতের অবসান ঘটানো। ওই সংঘাতে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং গাজার লাখো মানুষ চরম মানবিক সংকটে পড়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলের ত্রাণ প্রবেশে বাধা তুলে নেওয়ার কথা ছিল এবং প্রতিদিন প্রায় ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় ঢোকার অনুমতি দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল- যার মধ্যে খাদ্য, জ্বালানি, চিকিৎসাসামগ্রী ও আশ্রয় উপকরণ অন্তর্ভুক্ত। তবে এসব শর্ত পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে, ফলে মানবিক পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি।
যুদ্ধবিরতির পরও সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, এ সময়েও বহু ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
গত দুই সপ্তাহ ধরে হামাস ও ‘বোর্ড অব পিস’-এর মধ্যে আলোচনা চললেও বেশ কয়েকটি বৈঠক ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। মিশরের কায়রোতে হামাস প্রতিনিধিদলের সামনে পরিকল্পনাটি উপস্থাপন করা হয়। এমনকি প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করলে পুনরায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর ইঙ্গিতও দেওয়া হয়। এক বৈঠকে হামাসকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল- এর মধ্যে জবাব না দিলে পরিস্থিতি আবারও সংঘাতে গড়াতে পারে বলে সতর্ক করা হয়।























