ঢাকা ০৬:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ, হত্যা মামলার আসামি ফেনীর নতুন এসপি

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ, হত্যা মামলার আসামি ফেনীর নতুন এসপি

ফেনীর নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে, যিনি দুটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এই পদায়নের খবর জানাজানি হওয়ার পর জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিবাদে এবং পদায়ন বাতিলের দাবিতে বুধবার (৬ মে) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে গত মঙ্গলবার (৫ মে) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এই নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান দীর্ঘ সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় তিনি বিএনপি-জামায়াতসহ তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন ও দমন-পীড়ন চালিয়েছেন। এমনকি একাধিক নেতাকর্মীকে হত্যার পেছনেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। ২০২২ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বদলি হয়ে তিনি সর্বশেষ সিএমপির ডিবি (পশ্চিম জোন) এর ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর মাহবুব আলম খানের বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে আলোচিত একটি হলো শিবগঞ্জের যুবদল নেতা মিজান হত্যা মামলা। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৬ সালে পুলিশ মিজানকে তুলে নিয়ে যায় এবং একপর্যায়ে তার পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরিবার ৯ লাখ টাকা দিলেও পুলিশের পক্ষ থেকে আরও টাকার জন্য চাপ দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ২০১৭ সালে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একটি জঙ্গি আস্তানায় বোমা বিস্ফোরণে মিজান নিহত হয়েছেন। মিজানের ভাই রেজাউলকেও সে সময় ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছিল, যার সন্ধান আজ পর্যন্ত মেলেনি। এই ঘটনায় মিজানের বাবা আইনাল হক ২০২৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর শিবগঞ্জ থানায় মামলা করেন, যেখানে মাহবুব আলম খানকে ১০ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার
মামলার এজাহার

২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর ফিরোজ আহমেদ নামে এক ব্যক্তির দায়ের করা অন্য একটি হত্যা মামলাতেও মাহবুব আলম খানকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মামলাগুলোর তদন্ত প্রক্রিয়া এখনো চলমান।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সেতাউর রহমান বলেন, “মাহবুব আলম খান চাঁপাইনবাবগঞ্জে থাকাকালীন বহু মায়ের বুক খালি করেছেন। একাধিক হত্যা মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তাকে কীভাবে এসপি পদে পদায়ন করা হয়? আমরা এই আদেশের দ্রুত বাতিল চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান দাবি করেছেন, একটি মামলায় তাকে ইতোমধ্যে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং অন্য মামলার ঘটনার সময় তিনি ট্রেনিংয়ে ছিলেন। তিনি আশা করছেন, দ্বিতীয় মামলা থেকেও তিনি রেহাই পাবেন।

এদিকে, পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই পদায়ন নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে মানবাধিকার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান বলেন, “ফৌজদারি মামলায় পলাতক বা অভিযুক্ত কাউকে জেলার শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা ঝুঁকিপূর্ণ। এতে গণবিপ্লবের চেতনা ক্ষুণ্ণ হতে পারে। সরকারকে এই ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।”

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ, হত্যা মামলার আসামি ফেনীর নতুন এসপি

আপডেট সময় : ১১:১২:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ফেনীর নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে, যিনি দুটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এই পদায়নের খবর জানাজানি হওয়ার পর জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিবাদে এবং পদায়ন বাতিলের দাবিতে বুধবার (৬ মে) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে গত মঙ্গলবার (৫ মে) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এই নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান দীর্ঘ সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় তিনি বিএনপি-জামায়াতসহ তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন ও দমন-পীড়ন চালিয়েছেন। এমনকি একাধিক নেতাকর্মীকে হত্যার পেছনেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। ২০২২ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বদলি হয়ে তিনি সর্বশেষ সিএমপির ডিবি (পশ্চিম জোন) এর ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর মাহবুব আলম খানের বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে আলোচিত একটি হলো শিবগঞ্জের যুবদল নেতা মিজান হত্যা মামলা। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৬ সালে পুলিশ মিজানকে তুলে নিয়ে যায় এবং একপর্যায়ে তার পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরিবার ৯ লাখ টাকা দিলেও পুলিশের পক্ষ থেকে আরও টাকার জন্য চাপ দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ২০১৭ সালে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একটি জঙ্গি আস্তানায় বোমা বিস্ফোরণে মিজান নিহত হয়েছেন। মিজানের ভাই রেজাউলকেও সে সময় ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছিল, যার সন্ধান আজ পর্যন্ত মেলেনি। এই ঘটনায় মিজানের বাবা আইনাল হক ২০২৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর শিবগঞ্জ থানায় মামলা করেন, যেখানে মাহবুব আলম খানকে ১০ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার
মামলার এজাহার

২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর ফিরোজ আহমেদ নামে এক ব্যক্তির দায়ের করা অন্য একটি হত্যা মামলাতেও মাহবুব আলম খানকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মামলাগুলোর তদন্ত প্রক্রিয়া এখনো চলমান।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সেতাউর রহমান বলেন, “মাহবুব আলম খান চাঁপাইনবাবগঞ্জে থাকাকালীন বহু মায়ের বুক খালি করেছেন। একাধিক হত্যা মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তাকে কীভাবে এসপি পদে পদায়ন করা হয়? আমরা এই আদেশের দ্রুত বাতিল চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান দাবি করেছেন, একটি মামলায় তাকে ইতোমধ্যে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং অন্য মামলার ঘটনার সময় তিনি ট্রেনিংয়ে ছিলেন। তিনি আশা করছেন, দ্বিতীয় মামলা থেকেও তিনি রেহাই পাবেন।

এদিকে, পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই পদায়ন নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে মানবাধিকার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান বলেন, “ফৌজদারি মামলায় পলাতক বা অভিযুক্ত কাউকে জেলার শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা ঝুঁকিপূর্ণ। এতে গণবিপ্লবের চেতনা ক্ষুণ্ণ হতে পারে। সরকারকে এই ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।”