ঢাকা ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভিসি নিয়োগ নিয়ে ডুয়েটে অচলাবস্থা, চলছে ব্লকেড কর্মসূচি

ভিসি নিয়োগ নিয়ে ডুয়েটে অচলাবস্থা, চলছে ব্লকেড কর্মসূচি

গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগকে কেন্দ্র করে তীব্র অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে শুরু হওয়া ‘ডুয়েট ব্লকেড’ কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত একাডেমিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নবনিযুক্ত ভিসি গত রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তার কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজ শুরু করেছেন। অন্যদিকে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর ওই দিন রাত সাড়ে নয়টা থেকেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে ‘ব্লকেড’ কর্মসূচি শুরু করেন। এ সময় কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চাইলে শিক্ষার্থীরা তাদের বাধা দেন, যার ফলে গেটের বাইরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ ভিড় জমে যায়।

দুপুরের দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে মূল ফটকে এসে সমাবেশ ও অবস্থানে রূপ নেয়।

এর আগে, গত রবিবার নতুন ভিসির ক্যাম্পাসে যোগদানের খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করতে হয়। বিকেল ৩টা পর্যন্ত দফায় দফায় এই সংঘর্ষ চলার পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, ভিসি নিয়োগ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা চলছিল। রবিবারের সংঘর্ষে গেটের বাইরে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্য, গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাত হোসেন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীসহ প্রায় ১৪-১৫ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রবিবারের ঘটনার সময় নতুন ভিসির পক্ষে ছাত্রদল ও কিছু বহিরাগত লোক এসে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে তাদের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

শিক্ষার্থীদের মূল দাবি হলো, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এর সার্বিক স্বার্থে কোনো বহিরাগতকে ভিসি করা যাবে না। বরং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দিতে হবে।

একই সাথে তারা নতুন ভিসিকে প্রত্যাখ্যান করে রবিবারের অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার বিচার এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

সার্বিক বিষয়ে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জানান, রবিবারের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর সোমবার ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ছাত্রদের শান্ত করার জন্য তারা ভাইস চ্যান্সেলরের সাথে যোগাযোগ করেছেন এবং ভিসি শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলতে সম্মত হয়েছেন। আলোচনার মাধ্যমেই ক্যাম্পাসে শান্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সরকারি আদেশ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিক্ষক হিসেবে সরকারি চাকরি করার কারণে তারা সরকারের ন্যায়সঙ্গত আদেশ মানতে বাধ্য। তবে ছাত্ররা তাদের নিজেদের জায়গা থেকে এই আন্দোলন করছে।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, নতুন ভিসি অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবাল ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করে তার দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন।

ভিসি নিয়োগ নিয়ে ডুয়েটে অচলাবস্থা, চলছে ব্লকেড কর্মসূচি

আপডেট সময় : ০১:০৮:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগকে কেন্দ্র করে তীব্র অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে শুরু হওয়া ‘ডুয়েট ব্লকেড’ কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত একাডেমিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নবনিযুক্ত ভিসি গত রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তার কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজ শুরু করেছেন। অন্যদিকে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর ওই দিন রাত সাড়ে নয়টা থেকেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে ‘ব্লকেড’ কর্মসূচি শুরু করেন। এ সময় কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চাইলে শিক্ষার্থীরা তাদের বাধা দেন, যার ফলে গেটের বাইরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ ভিড় জমে যায়।

দুপুরের দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে মূল ফটকে এসে সমাবেশ ও অবস্থানে রূপ নেয়।

এর আগে, গত রবিবার নতুন ভিসির ক্যাম্পাসে যোগদানের খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করতে হয়। বিকেল ৩টা পর্যন্ত দফায় দফায় এই সংঘর্ষ চলার পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, ভিসি নিয়োগ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা চলছিল। রবিবারের সংঘর্ষে গেটের বাইরে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্য, গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাত হোসেন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীসহ প্রায় ১৪-১৫ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রবিবারের ঘটনার সময় নতুন ভিসির পক্ষে ছাত্রদল ও কিছু বহিরাগত লোক এসে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে তাদের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

শিক্ষার্থীদের মূল দাবি হলো, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এর সার্বিক স্বার্থে কোনো বহিরাগতকে ভিসি করা যাবে না। বরং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দিতে হবে।

একই সাথে তারা নতুন ভিসিকে প্রত্যাখ্যান করে রবিবারের অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার বিচার এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

সার্বিক বিষয়ে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জানান, রবিবারের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর সোমবার ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ছাত্রদের শান্ত করার জন্য তারা ভাইস চ্যান্সেলরের সাথে যোগাযোগ করেছেন এবং ভিসি শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলতে সম্মত হয়েছেন। আলোচনার মাধ্যমেই ক্যাম্পাসে শান্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সরকারি আদেশ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিক্ষক হিসেবে সরকারি চাকরি করার কারণে তারা সরকারের ন্যায়সঙ্গত আদেশ মানতে বাধ্য। তবে ছাত্ররা তাদের নিজেদের জায়গা থেকে এই আন্দোলন করছে।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, নতুন ভিসি অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবাল ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করে তার দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন।