ঢাকা ০৯:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরাইলে যুদ্ধ বিমানের ঢল: তবে কি ইরানে ফের বড় হামলার প্রস্তুতি?

ইসরাইলে যুদ্ধ বিমানের ঢল: তবে কি ইরানে ফের বড় হামলার প্রস্তুতি?

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে ইসরাইলের তেল আবিবে এসে পৌঁছেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বড় সামরিক কার্গো বিমান। গত ২৪ ঘণ্টায় জার্মানির মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ নিয়ে এই বিমানগুলো ইসরাইলে অবতরণ করে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১৩’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটির দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র এই বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ সরবরাহ করছে।

ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি থেকে সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে একাধিক কার্গো বিমান ইতিমধ্যে তাদের দেশে এসে পৌঁছেছে। এই সামরিক সহায়তার মূল উদ্দেশ্য ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ‘অপারেশনাল প্রস্তুতি’ বা সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করা।

এদিকে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি মোটেও কোনো চাপে নেই। তিনি বলেন,

“তারা ভাবছে আমি হয়তো ক্লান্ত, বিরক্ত কিংবা চাপে পড়ে যাব। কিন্তু এখানে কোনো চাপই নেই। আমরা পূর্ণাঙ্গ বিজয় অর্জন করতে যাচ্ছি।”

দুই পক্ষ একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল উল্লেখ করে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, শেষ মুহূর্তে ইরানের নেতারা তাদের ‘মন পরিবর্তন’ করে ফেলেন। মূলত মার্কিন দাবিগুলো মেনে নিতে ইরানি সামরিক বাহিনীর অস্বীকৃতির কারণেই এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে, যুদ্ধবিরতিটি এখন ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং এটি বর্তমানে ‘লাইফ সাপোর্টে’ আছে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন অসন্তুষ্টি বা হুঁশিয়ারি নিয়ে ইরান মোটেও চিন্তিত নয় বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে। ইরানি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে লিখেছেন, ইরানে কেউ ট্রাম্পকে খুশি করার জন্য কোনো পরিকল্পনা করছে না।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আলোচনাকারী দলকে এমন পরিকল্পনা নিয়েই এগোতে হবে যা কেবল ইরানের অধিকারকে রক্ষা ও সম্মান করে। আর এমন সিদ্ধান্তে ট্রাম্প অসন্তুষ্ট হলে, সেটি স্বাভাবিকভাবেই ইরানের জন্য বেশি ভালো হবে।

ইসরাইলে যুদ্ধ বিমানের ঢল: তবে কি ইরানে ফের বড় হামলার প্রস্তুতি?

আপডেট সময় : ০৩:০৭:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে ইসরাইলের তেল আবিবে এসে পৌঁছেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বড় সামরিক কার্গো বিমান। গত ২৪ ঘণ্টায় জার্মানির মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ নিয়ে এই বিমানগুলো ইসরাইলে অবতরণ করে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১৩’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটির দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র এই বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ সরবরাহ করছে।

ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি থেকে সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে একাধিক কার্গো বিমান ইতিমধ্যে তাদের দেশে এসে পৌঁছেছে। এই সামরিক সহায়তার মূল উদ্দেশ্য ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ‘অপারেশনাল প্রস্তুতি’ বা সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করা।

এদিকে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি মোটেও কোনো চাপে নেই। তিনি বলেন,

“তারা ভাবছে আমি হয়তো ক্লান্ত, বিরক্ত কিংবা চাপে পড়ে যাব। কিন্তু এখানে কোনো চাপই নেই। আমরা পূর্ণাঙ্গ বিজয় অর্জন করতে যাচ্ছি।”

দুই পক্ষ একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল উল্লেখ করে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, শেষ মুহূর্তে ইরানের নেতারা তাদের ‘মন পরিবর্তন’ করে ফেলেন। মূলত মার্কিন দাবিগুলো মেনে নিতে ইরানি সামরিক বাহিনীর অস্বীকৃতির কারণেই এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে, যুদ্ধবিরতিটি এখন ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং এটি বর্তমানে ‘লাইফ সাপোর্টে’ আছে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন অসন্তুষ্টি বা হুঁশিয়ারি নিয়ে ইরান মোটেও চিন্তিত নয় বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে। ইরানি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে লিখেছেন, ইরানে কেউ ট্রাম্পকে খুশি করার জন্য কোনো পরিকল্পনা করছে না।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আলোচনাকারী দলকে এমন পরিকল্পনা নিয়েই এগোতে হবে যা কেবল ইরানের অধিকারকে রক্ষা ও সম্মান করে। আর এমন সিদ্ধান্তে ট্রাম্প অসন্তুষ্ট হলে, সেটি স্বাভাবিকভাবেই ইরানের জন্য বেশি ভালো হবে।