ঢাকা ১০:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিলিস্তিনিদের ওপর মৃত্যুদণ্ড আইন কার্যকর করল ইসরাইল

ফিলিস্তিনিদের ওপর মৃত্যুদণ্ড আইন কার্যকর করল ইসরাইল

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে একটি চরম বিতর্কিত মৃত্যুদণ্ড আইন কার্যকর করেছে ইসরাইল। দেশটির সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান আভি ব্লুথ সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘হারেৎজ’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

নতুন এই আইনি আদেশের ফলে, যেসব ব্যক্তি ইসরায়েল রাষ্ট্রের অস্তিত্বকে অস্বীকার বা বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে যেকোনো ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন, তাদের বিরুদ্ধে এই মৃত্যুদণ্ড আইন প্রয়োগ করা সম্ভব হবে।

পশ্চিম তীরে এই কঠোর আইন কার্যকর করার বিষয়টি নিয়ে খোদ ইসরাইলের আইন ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যেই তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশের মতে, পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি অধিবাসীরা ইসরাইলের আনুষ্ঠানিক নাগরিক নন। ফলে, ওই অঞ্চলে এমন একটি আইন জোরপূর্বক প্রয়োগ করা আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ আইনে বড় ধরনের আইনি জটিলতা এবং নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে ইসরাইলের পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এ একটি বিতর্কিত বিল পাস করা হয়েছিল। সেই বিলে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছিল, কোনো ফিলিস্তিনি যদি ইসরাইলি নাগরিককে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত হন, তবে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। তবে চরম বৈষম্যের জায়গাটি হলো— একই ধরনের অপরাধে অর্থাৎ কোনো ফিলিস্তিনিকে হত্যার দায়ে যদি কোনো ইহুদি ইসরাইলি নাগরিক অভিযুক্ত হন, তবে তার ক্ষেত্রে এই মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি কোনোভাবেই প্রযোজ্য হবে না।

একতরফা এবং চরম বৈষম্যমূলক এই আইনি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। বিভিন্ন দেশ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই আইনের তীব্র সমালোচনা করেছে।

তাদের স্পষ্ট অভিযোগ, এই ধরনের একপেশে পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের ওই অশান্ত অঞ্চলে সংঘাত ও সহিংসতাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে। একই সাথে এই আইনটি বৈশ্বিক বিচারব্যবস্থা এবং মৌলিক ন্যায়বিচারের নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

ফিলিস্তিনিদের ওপর মৃত্যুদণ্ড আইন কার্যকর করল ইসরাইল

আপডেট সময় : ০২:৪৮:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে একটি চরম বিতর্কিত মৃত্যুদণ্ড আইন কার্যকর করেছে ইসরাইল। দেশটির সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান আভি ব্লুথ সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘হারেৎজ’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

নতুন এই আইনি আদেশের ফলে, যেসব ব্যক্তি ইসরায়েল রাষ্ট্রের অস্তিত্বকে অস্বীকার বা বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে যেকোনো ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন, তাদের বিরুদ্ধে এই মৃত্যুদণ্ড আইন প্রয়োগ করা সম্ভব হবে।

পশ্চিম তীরে এই কঠোর আইন কার্যকর করার বিষয়টি নিয়ে খোদ ইসরাইলের আইন ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যেই তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশের মতে, পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি অধিবাসীরা ইসরাইলের আনুষ্ঠানিক নাগরিক নন। ফলে, ওই অঞ্চলে এমন একটি আইন জোরপূর্বক প্রয়োগ করা আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ আইনে বড় ধরনের আইনি জটিলতা এবং নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে ইসরাইলের পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এ একটি বিতর্কিত বিল পাস করা হয়েছিল। সেই বিলে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছিল, কোনো ফিলিস্তিনি যদি ইসরাইলি নাগরিককে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত হন, তবে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। তবে চরম বৈষম্যের জায়গাটি হলো— একই ধরনের অপরাধে অর্থাৎ কোনো ফিলিস্তিনিকে হত্যার দায়ে যদি কোনো ইহুদি ইসরাইলি নাগরিক অভিযুক্ত হন, তবে তার ক্ষেত্রে এই মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি কোনোভাবেই প্রযোজ্য হবে না।

একতরফা এবং চরম বৈষম্যমূলক এই আইনি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। বিভিন্ন দেশ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই আইনের তীব্র সমালোচনা করেছে।

তাদের স্পষ্ট অভিযোগ, এই ধরনের একপেশে পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের ওই অশান্ত অঞ্চলে সংঘাত ও সহিংসতাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে। একই সাথে এই আইনটি বৈশ্বিক বিচারব্যবস্থা এবং মৌলিক ন্যায়বিচারের নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।