ঢাকা ০৬:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পশ্চিম সুন্দরবনে বন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বন বিভাগের অভিযান

পশ্চিম সুন্দরবনে বন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বন বিভাগের অভিযান

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে বন বিভাগ। এর ফলে গত জুন ও জুলাই মাসে একাধিক অপরাধী ধরা পড়েছে। মূলত পশ্চিম বন বিভাগের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে এই টহল চালানো হয়।

দুই মাসে বন অপরাধবিরোধী মোট ১০৮টি অভিযান চালানো হয়েছে। ফলে এই সময়ে ৮৯টি মামলা দায়ের করেছে বন বিভাগ। পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে।

অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ বেআইনি সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৩০ কেজি হরিণের মাংস এবং দেড় হাজার মিটার ফাঁদ রয়েছে। এছাড়া ৮৯টি নৌকা, তিনটি ট্রলার ও মাছ ধরার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

অপরাধের ধরন ও বনের ক্ষতি

বন বিভাগ মোট ৮৯টি মামলা নথিবদ্ধ করেছে। এর মধ্যে ১৯টি পিওআর এবং ৬৯টি ইউডিওআর মামলা রয়েছে। উপরন্তু একটি সিওআর মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

অসাধু চক্রগুলো বনের ভেতরে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করছে। পাশাপাশি তারা অবৈধ প্রবেশ ও বন্যপ্রাণী নিধনে মেতে উঠেছে। তাই জলজ প্রাণীর প্রজনন চরম হুমকির মুখে পড়ছে।

উদ্ধার করা মালামালের মধ্যে ১ হাজার ২০০ কেজি কাঁকড়া রয়েছে। এছাড়া ৬১০ কেজি চিংড়ি ও ৪৭ বোতল বিষ জব্দ করা হয়। ফলে শিকারিদের ধ্বংসাত্মক তৎপরতার চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

পরিসংখ্যান ও চ্যালেঞ্জ

গত বছরের তুলনায় অপরাধের সংখ্যা প্রায় কাছাকাছি রয়েছে। গত বছর ১১০টি অভিযানে ৮২টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে এবার ১০৮টি অভিযানে ৮৯টি মামলা হয়েছে।

পশ্চিম সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজেডএম হাছানুর রহমান বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানান, নিয়মিত টহলের কারণে অপরাধ প্রবণতা আগের চেয়ে কমেছে। তবে বনের বিশাল আয়তনের তুলনায় জনবল বেশ কম।

আইন প্রয়োগের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। এছাড়া অপরাধীদের উৎসমূল চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। তবেই সুন্দরবনের সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য পুরোপুরি রক্ষা করা সম্ভব হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার ইস্যুতে ভারতের নজর

পশ্চিম সুন্দরবনে বন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বন বিভাগের অভিযান

আপডেট সময় : ০৪:২৫:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে বন বিভাগ। এর ফলে গত জুন ও জুলাই মাসে একাধিক অপরাধী ধরা পড়েছে। মূলত পশ্চিম বন বিভাগের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে এই টহল চালানো হয়।

দুই মাসে বন অপরাধবিরোধী মোট ১০৮টি অভিযান চালানো হয়েছে। ফলে এই সময়ে ৮৯টি মামলা দায়ের করেছে বন বিভাগ। পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে।

অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ বেআইনি সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৩০ কেজি হরিণের মাংস এবং দেড় হাজার মিটার ফাঁদ রয়েছে। এছাড়া ৮৯টি নৌকা, তিনটি ট্রলার ও মাছ ধরার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

অপরাধের ধরন ও বনের ক্ষতি

বন বিভাগ মোট ৮৯টি মামলা নথিবদ্ধ করেছে। এর মধ্যে ১৯টি পিওআর এবং ৬৯টি ইউডিওআর মামলা রয়েছে। উপরন্তু একটি সিওআর মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

অসাধু চক্রগুলো বনের ভেতরে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করছে। পাশাপাশি তারা অবৈধ প্রবেশ ও বন্যপ্রাণী নিধনে মেতে উঠেছে। তাই জলজ প্রাণীর প্রজনন চরম হুমকির মুখে পড়ছে।

উদ্ধার করা মালামালের মধ্যে ১ হাজার ২০০ কেজি কাঁকড়া রয়েছে। এছাড়া ৬১০ কেজি চিংড়ি ও ৪৭ বোতল বিষ জব্দ করা হয়। ফলে শিকারিদের ধ্বংসাত্মক তৎপরতার চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

পরিসংখ্যান ও চ্যালেঞ্জ

গত বছরের তুলনায় অপরাধের সংখ্যা প্রায় কাছাকাছি রয়েছে। গত বছর ১১০টি অভিযানে ৮২টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে এবার ১০৮টি অভিযানে ৮৯টি মামলা হয়েছে।

পশ্চিম সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজেডএম হাছানুর রহমান বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানান, নিয়মিত টহলের কারণে অপরাধ প্রবণতা আগের চেয়ে কমেছে। তবে বনের বিশাল আয়তনের তুলনায় জনবল বেশ কম।

আইন প্রয়োগের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। এছাড়া অপরাধীদের উৎসমূল চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। তবেই সুন্দরবনের সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য পুরোপুরি রক্ষা করা সম্ভব হবে।