ঢাকা ০১:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোংলায় অনিবন্ধিত পোর্টালের দৌরাত্ম্য: সাংবাদিকতার নামে চাঁদা দাবি

মোংলায় অনিবন্ধিত পোর্টালের দৌরাত্ম্য: সাংবাদিকতার নামে চাঁদা দাবি

ম.ম.রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট: বাগেরহাটের মোংলা বন্দরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল ও ফেসবুক পেজের দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। একশ্রেণির অপেশাদার ব্যক্তি নিজেদের সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি পেশাদার সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

সাংবাদিকতার নামে ভয়ভীতি ও চাঁদাবাজি

সাম্প্রতিক সময়ে মোংলা বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে নিবন্ধহীন সংবাদ প্ল্যাটফর্ম। এসব পেজ বা ওয়েবসাইটের অধিকাংশ পরিচালকেরই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা বা সরকারি অনুমোদন নেই।

তারা মূলত বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ক্যামেরা এবং স্মার্টফোন নিয়ে হানা দেয়। পরবর্তীতে অপপ্রচারের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। দাবি করা অর্থ না পেলে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামাজিক ও ব্যবসায়িক চাপে ফেলা হয়।

ব্যবসায়ী ও পেশাদার সাংবাদিকদের বিভ্রান্তি

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের মতে, এই চক্রটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ব্ল্যাকমেইলিং পরিচালনা করে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশের পর তা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

অনেক ক্ষেত্রে অর্থ পাওয়ার পর প্রকাশিত সংবাদ আবার মুছে ফেলা হয়। এ ধরনের অপকর্মের কারণে সাধারণ মানুষ এখন আসল সাংবাদিক ও চাঁদাবাজদের পার্থক্য করতে হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রকৃত সাংবাদিকদের পেশাগত গ্রহণযোগ্যতা সংকটের মুখে পড়ছে।

প্রশাসনের নজরদারি ও নিবন্ধনের দাবি

এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় সচেতন মহল। সাংবাদিক নেতারা মনে করেন, সাংবাদিকতার নামে স্বেচ্ছাচারিতা ও চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

একই সাথে অনলাইন গণমাধ্যমের নিবন্ধন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা এবং অনিবন্ধিত প্ল্যাটফর্মগুলোর অপতৎপরতা নিয়ন্ত্রণে সরকারের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। তবে কেবল আইন প্রয়োগ নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও কোনটি আসল গণমাধ্যম আর কোনটি ফেসবুক-ভিত্তিক অপপ্রচার—সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

জরুরি আইনি ব্যবস্থার আহ্বান

প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে সংবাদ প্রকাশের সুযোগ বাড়লেও এর অপব্যবহার পুরো পেশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সংবাদমাধ্যম যখন চাঁদাবাজির হাতিয়ারে পরিণত হয়, তখন তা সমাজের জন্য অশনিসংকেত বয়ে আনে।

তাই চাঁদাবাজ চক্রটিকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। এতে করে একদিকে যেমন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সুরক্ষা পাবেন, অন্যদিকে সাংবাদিকতা পেশার প্রতি সাধারণ মানুষের হারানো আস্থা পুনরায় ফিরে আসবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন পে স্কেল অনুমোদন হতে পারে সোমবার, কার বেতন কত?

মোংলায় অনিবন্ধিত পোর্টালের দৌরাত্ম্য: সাংবাদিকতার নামে চাঁদা দাবি

আপডেট সময় : ১০:৫০:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

ম.ম.রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট: বাগেরহাটের মোংলা বন্দরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল ও ফেসবুক পেজের দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। একশ্রেণির অপেশাদার ব্যক্তি নিজেদের সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি পেশাদার সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

সাংবাদিকতার নামে ভয়ভীতি ও চাঁদাবাজি

সাম্প্রতিক সময়ে মোংলা বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে নিবন্ধহীন সংবাদ প্ল্যাটফর্ম। এসব পেজ বা ওয়েবসাইটের অধিকাংশ পরিচালকেরই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা বা সরকারি অনুমোদন নেই।

তারা মূলত বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ক্যামেরা এবং স্মার্টফোন নিয়ে হানা দেয়। পরবর্তীতে অপপ্রচারের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। দাবি করা অর্থ না পেলে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামাজিক ও ব্যবসায়িক চাপে ফেলা হয়।

ব্যবসায়ী ও পেশাদার সাংবাদিকদের বিভ্রান্তি

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের মতে, এই চক্রটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ব্ল্যাকমেইলিং পরিচালনা করে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশের পর তা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

অনেক ক্ষেত্রে অর্থ পাওয়ার পর প্রকাশিত সংবাদ আবার মুছে ফেলা হয়। এ ধরনের অপকর্মের কারণে সাধারণ মানুষ এখন আসল সাংবাদিক ও চাঁদাবাজদের পার্থক্য করতে হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রকৃত সাংবাদিকদের পেশাগত গ্রহণযোগ্যতা সংকটের মুখে পড়ছে।

প্রশাসনের নজরদারি ও নিবন্ধনের দাবি

এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় সচেতন মহল। সাংবাদিক নেতারা মনে করেন, সাংবাদিকতার নামে স্বেচ্ছাচারিতা ও চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

একই সাথে অনলাইন গণমাধ্যমের নিবন্ধন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা এবং অনিবন্ধিত প্ল্যাটফর্মগুলোর অপতৎপরতা নিয়ন্ত্রণে সরকারের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। তবে কেবল আইন প্রয়োগ নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও কোনটি আসল গণমাধ্যম আর কোনটি ফেসবুক-ভিত্তিক অপপ্রচার—সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

জরুরি আইনি ব্যবস্থার আহ্বান

প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে সংবাদ প্রকাশের সুযোগ বাড়লেও এর অপব্যবহার পুরো পেশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সংবাদমাধ্যম যখন চাঁদাবাজির হাতিয়ারে পরিণত হয়, তখন তা সমাজের জন্য অশনিসংকেত বয়ে আনে।

তাই চাঁদাবাজ চক্রটিকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। এতে করে একদিকে যেমন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সুরক্ষা পাবেন, অন্যদিকে সাংবাদিকতা পেশার প্রতি সাধারণ মানুষের হারানো আস্থা পুনরায় ফিরে আসবে।