ঢাকা ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রিকস সম্মেলন: মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের মাঝে নয়াদিল্লিতে যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য

ব্রিকস সম্মেলন: মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের মাঝে নয়াদিল্লিতে যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য

নয়াদিল্লিতে আজ ব্রিকস নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। তবে সম্মেলন শুরুর আগেই একটি যৌথ ঘোষণায় সম্মত হয়েছে উদীয়মান অর্থনীতির এই জোট। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে চারজন নির্ভরযোগ্য সূত্র আজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতেই এই সমঝোতা হয়েছে।

উপসাগরীয় সংঘাত ও জোটের অভ্যন্তরীণ বিভেদ

বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জোটের দুই সদস্য ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূরত্ব তৈরি হয়। ফলে এই বিভেদ দূর করা এবারের শীর্ষ সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য।

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি লোহিত সাগরে তাদের অবস্থান শক্ত করেছে। এর ফলে আগস্ট মাসের যুদ্ধবিরতির পর সংকট আরও গভীর হয়েছে। এই মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মধ্যে দুই দেশের গ্রহণযোগ্য একটি সমাধান তৈরি করাই ছিল ভারতের বড় পরীক্ষা।

একতরফা যুদ্ধের নিন্দা জানাবে ব্রিকস

সূত্রগুলো জানিয়েছে, ব্রিকস আলোচকরা যে যৌথ খসড়া তৈরি করেছেন, তাতে কোনো সুনির্দিষ্ট দেশের নাম থাকবে না। তবে এতে যেকোনো একতরফা সংঘাত বা যুদ্ধের তীব্র নিন্দা জানানো হবে। আশা করা হচ্ছে, ব্রিকস নেতারা আজই এতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন।

অবশ্য যৌথ ঘোষণার বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সমঝোতা ভূরাজনীতিতে সরাসরি প্রভাব না ফেললেও উদীয়মান দেশগুলোর বৈশ্বিক ঐক্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবে।

আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও সংস্কার প্রস্তাব

ব্রিকস জোট বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং ডব্লিউটিওর মতো বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর সংস্কার চায়। কারণ এসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে পশ্চিমা বিশ্বের একক প্রভাব রয়েছে। ফলে নিজেদের কৌশলগত ক্ষমতা বাড়াতে চায় এই জোট।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক বাধা কমানোর পক্ষে জোর দিচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। নয়াদিল্লি বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্ব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সুসংহত কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখছে।

ঐক্য প্রতিষ্ঠায় ব্রিকসের চ্যালেঞ্জ

গত মে মাসে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে কোনো যৌথ ঘোষণা সম্ভব হয়নি। মূলত ইরান ও ইউএইর বৈরী মনোভাবের কারণে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইউএই গত আগস্টে দেশটির সঙ্গে সব লেনদেন বন্ধ করে দেয়।

এবারের সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উপস্থিত রয়েছেন। এছাড়া ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও ইউএইর ক্রাউন প্রিন্সও অংশ নিচ্ছেন। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই জোটটি বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশের প্রতিনিধিত্ব করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রিকস সম্মেলন: মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের মাঝে নয়াদিল্লিতে যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য

আপডেট সময় : ০৫:৫৫:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নয়াদিল্লিতে আজ ব্রিকস নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। তবে সম্মেলন শুরুর আগেই একটি যৌথ ঘোষণায় সম্মত হয়েছে উদীয়মান অর্থনীতির এই জোট। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে চারজন নির্ভরযোগ্য সূত্র আজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতেই এই সমঝোতা হয়েছে।

উপসাগরীয় সংঘাত ও জোটের অভ্যন্তরীণ বিভেদ

বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জোটের দুই সদস্য ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূরত্ব তৈরি হয়। ফলে এই বিভেদ দূর করা এবারের শীর্ষ সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য।

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি লোহিত সাগরে তাদের অবস্থান শক্ত করেছে। এর ফলে আগস্ট মাসের যুদ্ধবিরতির পর সংকট আরও গভীর হয়েছে। এই মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মধ্যে দুই দেশের গ্রহণযোগ্য একটি সমাধান তৈরি করাই ছিল ভারতের বড় পরীক্ষা।

একতরফা যুদ্ধের নিন্দা জানাবে ব্রিকস

সূত্রগুলো জানিয়েছে, ব্রিকস আলোচকরা যে যৌথ খসড়া তৈরি করেছেন, তাতে কোনো সুনির্দিষ্ট দেশের নাম থাকবে না। তবে এতে যেকোনো একতরফা সংঘাত বা যুদ্ধের তীব্র নিন্দা জানানো হবে। আশা করা হচ্ছে, ব্রিকস নেতারা আজই এতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন।

অবশ্য যৌথ ঘোষণার বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সমঝোতা ভূরাজনীতিতে সরাসরি প্রভাব না ফেললেও উদীয়মান দেশগুলোর বৈশ্বিক ঐক্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবে।

আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও সংস্কার প্রস্তাব

ব্রিকস জোট বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং ডব্লিউটিওর মতো বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর সংস্কার চায়। কারণ এসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে পশ্চিমা বিশ্বের একক প্রভাব রয়েছে। ফলে নিজেদের কৌশলগত ক্ষমতা বাড়াতে চায় এই জোট।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক বাধা কমানোর পক্ষে জোর দিচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। নয়াদিল্লি বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্ব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সুসংহত কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখছে।

ঐক্য প্রতিষ্ঠায় ব্রিকসের চ্যালেঞ্জ

গত মে মাসে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে কোনো যৌথ ঘোষণা সম্ভব হয়নি। মূলত ইরান ও ইউএইর বৈরী মনোভাবের কারণে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইউএই গত আগস্টে দেশটির সঙ্গে সব লেনদেন বন্ধ করে দেয়।

এবারের সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উপস্থিত রয়েছেন। এছাড়া ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও ইউএইর ক্রাউন প্রিন্সও অংশ নিচ্ছেন। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই জোটটি বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশের প্রতিনিধিত্ব করে।