হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে নতুন করে চালানো হামলায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এরই মধ্যে নিরাপত্তার কারণে গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব।
ব্রিটিশ নৌবাহিনী-সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি জাহাজে প্রজেক্টাইল আঘাত হানার খবর তারা পেয়েছে। তবে এতে জাহাজটির কতটা ক্ষতি হয়েছে বা নাবিকদের অবস্থা কী, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এর একদিন আগে সৌদি আরব জানায়, ইরাক থেকে চালানো একটি ড্রোন হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তারা ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে। বাগদাদ ও রিয়াদ—দুই দেশই হামলাটির উৎস হিসেবে ইরাকের কথা জানিয়েছে। ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় রয়েছে।
প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনটি গত ছয় মাস ধরে হরমুজ প্রণালির ওপর যুদ্ধের প্রভাবের কারণে সৌদি তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হচ্ছিল, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ।
পাইপলাইনে হামলার দায় এখনো কেউ স্বীকার করেনি। স্যাটেলাইট ছবিতে মদিনার দক্ষিণে পাইপলাইনের একটি এলাকা থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হামলার জন্য সম্ভবত ইরান দায়ী। যদিও তিনি কোনো প্রমাণ বা উপাত্ত দেখাননি।
এর আগে শনিবার সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানায়, হুতিদের ছোড়া একটি প্রজেক্টাইল জাজান অঞ্চলে আঘাত হেনেছে। এতে দুইজন আহত এবং একটি মসজিদসহ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে হামলা অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।



























