ঢাকা ০৫:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প: একনেক অনুমোদনের জোরালো সম্ভাবনা

রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প: একনেক অনুমোদনের জোরালো সম্ভাবনা

বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই প্রকল্পটি একনেক অনুমোদন পেতে পারে।

প্রকল্পের বিস্তারিত ও ব্যয়

পরিকল্পনা কমিশন ইতিমধ্যে রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদন করেছে। পাশাপাশি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভাও সফলভাবে শেষ হয়েছে। বিপিডিবির চেয়ারম্যান জানান, ২০২৮ সাল থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

এই প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২,৫০২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের অর্থায়নে এই বিশাল কাজ শেষ হবে। এটি দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বড় ভূমিকা রাখবে।

বিদ্যমান জমির কার্যকর ব্যবহার

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে ৯১৮ দশমিক ৫ একর জমি ফাঁকা রয়েছে। বিপিডিবি এই অব্যবহৃত জমিতেই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তুলবে। ফলে সরকার নতুন করে কোনো জমি অধিগ্রহণ করছে না।

প্রকল্প এলাকায় সীমানা সুরক্ষা ও জমি ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে। তাই প্রাথমিক সাইট উন্নয়নে বাড়তি জটিলতা তৈরি হবে না। বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহারের ফলে নির্মাণ ব্যয় অনেক কমে আসবে।

কম খরচে বিদ্যুৎ ও প্রযুক্তি

এই কেন্দ্র থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ তৈরিতে খরচ হবে ৬ টাকা ১৮ পয়সা। এই খরচ ফেনীর সোনাগাজী প্রকল্পের চেয়ে প্রায় ৪৩ শতাংশ কম। ফলে জাতীয় কোষাগারের অর্থ সাশ্রয় হবে।

উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। এর জন্য ২৩০ কিলোভোল্টের নতুন সঞ্চালন ব্যবস্থা তৈরি করা হবে। এই ব্যবস্থা সরাসরি বিআইএফপিসিএলের সাবস্টেশনের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন

আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এখন সময়ের দাবি। এই প্রকল্প দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এছাড়া এটি পরিবেশ রক্ষায় বড় অবদান রাখবে।

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য ধরেছে। নতুন এই প্রকল্প সেই লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করবে। ফলে সুন্দরবনের ওপর ক্ষতিকর পরিবেশগত চাপ অনেকটাই কমে আসবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প: একনেক অনুমোদনের জোরালো সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ০১:১০:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই প্রকল্পটি একনেক অনুমোদন পেতে পারে।

প্রকল্পের বিস্তারিত ও ব্যয়

পরিকল্পনা কমিশন ইতিমধ্যে রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদন করেছে। পাশাপাশি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভাও সফলভাবে শেষ হয়েছে। বিপিডিবির চেয়ারম্যান জানান, ২০২৮ সাল থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

এই প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২,৫০২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের অর্থায়নে এই বিশাল কাজ শেষ হবে। এটি দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বড় ভূমিকা রাখবে।

বিদ্যমান জমির কার্যকর ব্যবহার

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে ৯১৮ দশমিক ৫ একর জমি ফাঁকা রয়েছে। বিপিডিবি এই অব্যবহৃত জমিতেই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তুলবে। ফলে সরকার নতুন করে কোনো জমি অধিগ্রহণ করছে না।

প্রকল্প এলাকায় সীমানা সুরক্ষা ও জমি ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে। তাই প্রাথমিক সাইট উন্নয়নে বাড়তি জটিলতা তৈরি হবে না। বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহারের ফলে নির্মাণ ব্যয় অনেক কমে আসবে।

কম খরচে বিদ্যুৎ ও প্রযুক্তি

এই কেন্দ্র থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ তৈরিতে খরচ হবে ৬ টাকা ১৮ পয়সা। এই খরচ ফেনীর সোনাগাজী প্রকল্পের চেয়ে প্রায় ৪৩ শতাংশ কম। ফলে জাতীয় কোষাগারের অর্থ সাশ্রয় হবে।

উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। এর জন্য ২৩০ কিলোভোল্টের নতুন সঞ্চালন ব্যবস্থা তৈরি করা হবে। এই ব্যবস্থা সরাসরি বিআইএফপিসিএলের সাবস্টেশনের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন

আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এখন সময়ের দাবি। এই প্রকল্প দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এছাড়া এটি পরিবেশ রক্ষায় বড় অবদান রাখবে।

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য ধরেছে। নতুন এই প্রকল্প সেই লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করবে। ফলে সুন্দরবনের ওপর ক্ষতিকর পরিবেশগত চাপ অনেকটাই কমে আসবে।