ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দেশের প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদে ধাপে ধাপে ভোট আয়োজনের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে প্রথম ধাপের ভোট আগামী ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, ইসির ঘোষিত এই সময়সূচি সম্পর্কে সরকার বা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় আগে থেকে কিছুই জানত না। এমনকি এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক আলোচনা বা পত্র যোগাযোগও হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।
সরকার ও ইসির এই ভিন্ন অবস্থানের মধ্যেই বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অংশীজনদের নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় পাওয়া মতামতের ভিত্তিতেই ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছে ইসি।
বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে তিনি সম্মান করেন। তবে এ বিষয়ে পাল্টা কোনো মন্তব্য করতে চান না। তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য শিরোধার্য। তবে এ বিষয়ে পালটা কোনো মন্তব্য করার ধৃষ্টতা দেখাব না। নো কমেন্টস ফ্রম মাই সাইড।
এদিকে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, সভায় সংশ্লিষ্ট সচিবরা নিজেদের মতামত দেবেন। এরপর সেই আলোচনার ভিত্তিতে ভবিষ্যতের নির্বাচনের তপশিল সাজানো হবে। তাঁর ধারণা, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার পরই নির্বাচনের সূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
সোমবার নির্বাচন কমিশনে বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছিলেন, এবার প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদে সাত ধাপে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপের ভোট ২৭ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
তবে নির্বাচন কমিশনার তখনই স্পষ্ট করেছিলেন, এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়; বরং প্রাথমিক পরিকল্পনা। ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়ার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে, সে বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়টি সামনে এনেছেন তথ্য উপদেষ্টাও। মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে ইসির ‘একক কোনো এখতিয়ার নেই’। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সরকার একটি সময়সীমা নির্ধারণ করবে এবং সেই সময়সূচি অনুসরণ করে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সংবাদপত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিভিশনের খবরের মাধ্যমে তিনি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। তাঁর দাবি, এ বিষয়ে সরকার কিছুই জানে না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান এবং নির্বাচন পরিচালনার সাংবিধানিক ক্ষমতা তাদের রয়েছে। তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের আগে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা, প্রস্তুতিমূলক সভা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছে, ইউপি নির্বাচনের তারিখ এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।
মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে এ বিষয়ে কোনো সংশয় নেই। তবে নির্বাচন কখন হবে, কী পদ্ধতিতে হবে এবং কোন পর্যায় থেকে শুরু হবে এসব বিষয় নিয়ে কমিশনে গত দুই দিন ধরে প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, কমিশনের আলোচনায় একটি প্রাথমিক সময়সূচি তৈরি করা হয়েছে। সেখানে পাঁচ ধাপে নির্বাচন আয়োজনের কথা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আরও দুটি ধাপ রিজার্ভ রাখা হয়েছে। তবে এটিও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয়।
ইসি সচিব বলেন, বৃহস্পতিবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং নির্বাচন কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত অংশীজনদের নিয়ে বৈঠক হবে। সেখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় মতামত নেওয়া হবে। এসব মতামত পাওয়ার পর কমিশন ইউপি নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করবে।
সরকারের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। কার সঙ্গে কখন এবং কীভাবে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে এই মুহূর্তে তিনি বাড়তি কোনো মন্তব্য করতে চান না।






















