ঢাকা ০১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে ৫৫% নিটওয়্যার কারখানার রপ্তানি আদেশ বাতিল বা কমেছে

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে ৫৫% নিটওয়্যার কারখানার রপ্তানি আদেশ বাতিল বা কমেছে

দেশে তীব্র গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে দেশের নিটওয়্যার খাতের প্রায় ৭৮ শতাংশ কারখানায় উৎপাদন আংশিক বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ডায়িং, নিটিং ও সেলাইয়ে উৎপাদন কমেছে ৩৭ থেকে ৫১ শতাংশ পর্যন্ত। পাশাপাশি প্রায় ৫৫ শতাংশ কারখানা রপ্তানি আদেশ হারানো বা কমার মুখোমুখি হয়েছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) এক সাম্প্রতিক জরিপে এসব তথ্য সামনে এসেছে।

উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও ব্যবসায়িক ক্ষতি

বিকেএমইএর জরিপ অনুযায়ী, গ্যাস সরবরাহ চাহিদার তুলনায় গড়ে প্রায় ৭৮ শতাংশ কম রয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় আগের চেয়ে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে নিটিং উৎপাদন কমেছে প্রায় ৩৮ শতাংশ। ডায়িংয়ে উৎপাদন ৫১ শতাংশ এবং গার্মেন্টস সেলাইয়ে ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

কারখানা সচল রাখতে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে প্রায় ৯২ শতাংশ কারখানার উৎপাদন ব্যয় অনেকটা বেড়েছে। উপরন্তু ৮৯ শতাংশ কারখানা সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পেরে ক্রেতার আস্থা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে। এছাড়া প্রায় ৬০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানকে পণ্যে মূল্যছাড় দিতে হচ্ছে।

বিজিএমইএ ও উদ্যোক্তাদের বক্তব্য

পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) জানিয়েছে, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট পরিস্থিতিতে কারখানার সক্ষমতার মাত্র ৭০ শতাংশ ব্যবহার করা যাচ্ছে। তবে ক্রয়াদেশ বাতিলের নির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখনও তাদের কাছে নেই।

ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার সংকট উত্তরণের আশ্বাস দিলেও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। স্প্যারো গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম জানান, জেনারেটর চালিয়ে কাজ সামলাতে গিয়ে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফপিআইএ) সভাপতি সাফিউস সামি আলমগীর জানান, শিল্প এলাকায় গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। ফলে বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচে ডিজেল কিনে কারখানা চালাতে হচ্ছে।

সংকট নিরসনে নীতিগত পরিকল্পনার তাগিদ

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ মনে করেন, জ্বালানি সরবরাহ যেকোনো শিল্পের প্রধান ভিত্তি। তাই সাম্প্রতিক সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা নেয়া প্রয়োজন। শিল্প প্রবৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর তাগিদ দেন তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউপিআইয়ে মাশুল, রাহুল বললেন—আমেরিকার কাছে মোদি সরকারের নতিস্বীকার

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে ৫৫% নিটওয়্যার কারখানার রপ্তানি আদেশ বাতিল বা কমেছে

আপডেট সময় : ১২:৪৩:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে তীব্র গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে দেশের নিটওয়্যার খাতের প্রায় ৭৮ শতাংশ কারখানায় উৎপাদন আংশিক বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ডায়িং, নিটিং ও সেলাইয়ে উৎপাদন কমেছে ৩৭ থেকে ৫১ শতাংশ পর্যন্ত। পাশাপাশি প্রায় ৫৫ শতাংশ কারখানা রপ্তানি আদেশ হারানো বা কমার মুখোমুখি হয়েছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) এক সাম্প্রতিক জরিপে এসব তথ্য সামনে এসেছে।

উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও ব্যবসায়িক ক্ষতি

বিকেএমইএর জরিপ অনুযায়ী, গ্যাস সরবরাহ চাহিদার তুলনায় গড়ে প্রায় ৭৮ শতাংশ কম রয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় আগের চেয়ে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে নিটিং উৎপাদন কমেছে প্রায় ৩৮ শতাংশ। ডায়িংয়ে উৎপাদন ৫১ শতাংশ এবং গার্মেন্টস সেলাইয়ে ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

কারখানা সচল রাখতে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে প্রায় ৯২ শতাংশ কারখানার উৎপাদন ব্যয় অনেকটা বেড়েছে। উপরন্তু ৮৯ শতাংশ কারখানা সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পেরে ক্রেতার আস্থা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে। এছাড়া প্রায় ৬০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানকে পণ্যে মূল্যছাড় দিতে হচ্ছে।

বিজিএমইএ ও উদ্যোক্তাদের বক্তব্য

পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) জানিয়েছে, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট পরিস্থিতিতে কারখানার সক্ষমতার মাত্র ৭০ শতাংশ ব্যবহার করা যাচ্ছে। তবে ক্রয়াদেশ বাতিলের নির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখনও তাদের কাছে নেই।

ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার সংকট উত্তরণের আশ্বাস দিলেও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। স্প্যারো গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম জানান, জেনারেটর চালিয়ে কাজ সামলাতে গিয়ে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফপিআইএ) সভাপতি সাফিউস সামি আলমগীর জানান, শিল্প এলাকায় গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। ফলে বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচে ডিজেল কিনে কারখানা চালাতে হচ্ছে।

সংকট নিরসনে নীতিগত পরিকল্পনার তাগিদ

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ মনে করেন, জ্বালানি সরবরাহ যেকোনো শিল্পের প্রধান ভিত্তি। তাই সাম্প্রতিক সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা নেয়া প্রয়োজন। শিল্প প্রবৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর তাগিদ দেন তিনি।