ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পোশাক বাজারে তীব্র মন্দা দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে অঞ্চলটির সামগ্রিক পোশাক আমদানি অনেকটাই কমেছে। তবে ইউরোপের বাজার কমার চেয়েও বাংলাদেশ থেকে পোশাক রফতানি কমলো অনেক বেশি হারে।
ইইউর সার্বিক আমদানি চিত্র
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ইইউ মোট ৫১,৬১৩.৭৫ মিলিয়ন ইউরোর পোশাক আমদানি করেছে। কিন্তু আগের বছরের একই সময়ে তারা আমদানি করেছিল ৫৪,৩৮৮.৮৩ মিলিয়ন ইউরো। ফলে এক বছরের ব্যবধানে ইইউর মোট পোশাক কেনাকাটা কমেছে ৫.১০ শতাংশ।
বাংলাদেশের রফতানিতে বড় ধাক্কা
সার্বিক বাজার সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে পোশাক রফতানি কমলো ১৩.৬৫ শতাংশ। অথচ ইইউর মোট বাজার পতন হয়েছে মাত্র পাঁচ শতাংশের কিছু বেশি। এর ফলে দেখা যাচ্ছে, ইউরোপীয় বাজারের মোট পতনের চেয়ে বাংলাদেশের রফতানি কমার হার প্রায় আড়াই গুণ বেশি।
কমেছে পণ্যের পরিমাণ ও দাম
কেবল আর্থিক মূল্যেই নয়, পোশাক আমদানির পরিমাণের দিক থেকেও পতন ঘটেছে। গত বছরের প্রথম সাত মাসে ইইউ ২,৬৮৮.৬৬ মিলিয়ন কেজি পোশাক কিনেছিল। তবে চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়ায় ২,৬০১.৭৮ মিলিয়ন কেজিতে। এছাড়া সব উৎস থেকে আসা পোশাকের গড় ইউনিট মূল্যও ১.৯৩ শতাংশ কমেছে। ফলে প্রতি কেজি পোশাকের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ১৯.৮৪ ইউরোতে।
সামগ্রিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি বছর ইউরোপের বাজারে পোশাকের চাহিদা ও আমদানি দুটোই সংকুচিত হয়েছে। তবে ইউরোপের সাধারণ পতনের তুলনায় বাংলাদেশি পোশাকের রফতানি কমার হার অত্যন্ত উদ্বেগজনক।




















