ঢাকা ০২:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে ৩ বছর পর বাড়ল সুদহার: ট্রাম্পের আপত্তি 

যুক্তরাষ্ট্রে ৩ বছর পর বাড়ল সুদহার: ট্রাম্পের আপত্তি 

যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার বাড়াল দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড)। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিন বছরেরও বেশি সময় পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ফলে ব্যাংকটি সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও ফেড এই নীতি গ্রহণ করে। এর ফলে সুদের হার এখন দাঁড়াল ৩.৭৫ থেকে ৪ শতাংশে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও ফেডের যুক্তি

আমেরিকায় পাঁচ বছর ধরে মূল্যস্ফীতি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে সুদহার বাড়ানোকে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন ফেড প্রধান কেভিন ওয়ার্শ।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে মার্কিনদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়ে। ফলে বাজারে পণ্যের দরবৃদ্ধি রোধ করতেই মূলত সুদের হার বাড়ানো হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

সুদহার কমানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তবে ফেডের নতুন সিদ্ধান্তে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

ট্রাম্প ফেডের বর্তমান বোর্ডকে ‘রাজনৈতিক’ ও ‘বিরোধিতাপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি কেভিন ওয়ার্শের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত সমর্থন বজায় রেখেছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট নেতারা সতর্ক করেছেন যে, এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষের ঋণের খরচ আরও বাড়বে।

অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব

সুদহার বাড়ার ফলে সাধারণ মানুষের জন্য ক্রেডিট কার্ড ও বাড়ি কেনার ঋণের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরই জেপি মরগানসহ কয়েকটি শীর্ষ মার্কিন ব্যাংক তাদের ঋণের সুদহার বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করেছে।

তবে উচ্চ সুদহারের কারণে আমানতকারীরা সঞ্চয়ের ওপর আগের চেয়ে ভালো মুনাফা পাবেন। শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, মূল্যস্ফীতি সামলাতে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সম্প্রতি তাদের সুদের হার বাড়িয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে ৩ বছর পর বাড়ল সুদহার: ট্রাম্পের আপত্তি 

আপডেট সময় : ১২:৫০:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার বাড়াল দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড)। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিন বছরেরও বেশি সময় পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ফলে ব্যাংকটি সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও ফেড এই নীতি গ্রহণ করে। এর ফলে সুদের হার এখন দাঁড়াল ৩.৭৫ থেকে ৪ শতাংশে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও ফেডের যুক্তি

আমেরিকায় পাঁচ বছর ধরে মূল্যস্ফীতি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে সুদহার বাড়ানোকে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন ফেড প্রধান কেভিন ওয়ার্শ।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে মার্কিনদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়ে। ফলে বাজারে পণ্যের দরবৃদ্ধি রোধ করতেই মূলত সুদের হার বাড়ানো হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

সুদহার কমানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তবে ফেডের নতুন সিদ্ধান্তে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

ট্রাম্প ফেডের বর্তমান বোর্ডকে ‘রাজনৈতিক’ ও ‘বিরোধিতাপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি কেভিন ওয়ার্শের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত সমর্থন বজায় রেখেছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট নেতারা সতর্ক করেছেন যে, এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষের ঋণের খরচ আরও বাড়বে।

অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব

সুদহার বাড়ার ফলে সাধারণ মানুষের জন্য ক্রেডিট কার্ড ও বাড়ি কেনার ঋণের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরই জেপি মরগানসহ কয়েকটি শীর্ষ মার্কিন ব্যাংক তাদের ঋণের সুদহার বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করেছে।

তবে উচ্চ সুদহারের কারণে আমানতকারীরা সঞ্চয়ের ওপর আগের চেয়ে ভালো মুনাফা পাবেন। শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, মূল্যস্ফীতি সামলাতে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সম্প্রতি তাদের সুদের হার বাড়িয়েছে।