ঢাকা ০২:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোচিং সনদ বিক্রির মাফিয়া চক্রে ম্যারাডোনার সহকারী মানকুসো

আর্জেন্টিনার ফুটবল কোচেস অ্যাসোসিয়েশনের (এটিএফএ) ভেতরে একটি ‘সনদ বিক্রি চক্রের’ সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে আলেহান্দ্রো মানকুসোর বিরুদ্ধে। একসময় তিনি কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনার সহকারী কোচ ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তার মাধ্যমে থিয়াগো সিলভা, ফেলিপে মেলোসহ আরও অনেক সাবেক ফুটবলার কোচিংয়ের সনদ পেয়েছেন।

মানকুসো আর্জেন্টিনার সাবেক ফুটবলার ও ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার ফুটবল কোচেস অ্যাসোসিয়েশনে ভুয়া সনদ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক খেলোয়াড়দের কোচিংয়ের কোর্স না করেই লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো এবং মাত্র ১০ দিনের মধ্যে তাদের লাইসেন্স দেওয়ার কথা বলা হতো।

সংবাদমাধ্যম ইউওএল–এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আর্জেন্টিনার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ কোচিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে পরিচালিত একটি ‘লাইসেন্সিং মাফিয়া’ বা লাইসেন্স বিক্রি চক্রের অংশ হতে পারেন মানকুসো। প্রকাশিত একটি অডিও রেকর্ডিংয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আমাদের ফেডারেশন সভাপতির সঙ্গে এমন একটি সমঝোতা করেছি, যাতে ফুটবল খেলা এসব তারকার অনলাইন কোর্সটি করতে না হয়। ব্যস, বিষয়টি শেষ। এসব খেলোয়াড় সারা জীবন ফুটবল খেলেছে, তাদের কি সত্যিই তিন বছরের অনলাইন কোর্স করতে হবে?’

অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক বোকা জুনিয়র্স ও ইন্ডিপেন্ডিয়েন্তের খেলোয়াড় মানকুসোর মাধ্যমে কোচিংয়ের লাইসেন্স পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন থিয়াগো সিলভা, লুইজ গুস্তাভো, দিয়েগো লুগানো, পাওলো গুয়েরেরো, রবার্তো কার্লোস, ফেলিপে মেলো, অ্যালেক্স ডি সুজা, পেতকোভিচ ও পাওলিনহো। এসব সনদ প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে পেতে আবেদনকারীদের ১ লাখ ব্রাজিলিয়ান রিয়াল দিতে হতো বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

dhakapost
আলেহান্দ্রো মানকুসোর সঙ্গে ব্রাজিলের সাবেক ফুটবলার ফেলিপে মেলো, ডানে কোচিং লাইসেন্স হাতে থিয়াগো সিলভা

ব্রাজিলের ফুটবলারদের সনদ হাতে একটি ছবিতে থিয়াগো সিলভার সনদও দেখা যায়। সেখানে সনদটির তারিখ ডিসেম্বর ২০২৩ উল্লেখ ছিল। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাতে স্বাক্ষর ছিল ভিক্টর কোকোর, যিনি ২০২০ সালে এটিএফএর পরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।

অভিযোগের বিষয়ে মানকুসো বলেন, ‘অনেক ব্রাজিলিয়ান আমাকে ফোন করেন। কেন? কারণ ব্রাজিলে আমি খুব পরিচিত একজন মানুষ। তারা জানতে চান, কীভাবে এটি করা যায়, কীভাবে এটি পাওয়া যায়। আমি তাদের ফেডারেশনে যোগাযোগের তথ্য দিই, যাতে তারা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। আমি ফেডারেশনে নেই, ফেডারেশনের কোনো অংশও নই। তারা কীভাবে এটি করতে হয় জানতে চাইলে আমি শুধু বিষয়টি সহজ করে দিই, এর বেশি কিছু নয়।’

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন পোশাক বাজারে দ্বিতীয় স্থান হারালো বাংলাদেশ

কোচিং সনদ বিক্রির মাফিয়া চক্রে ম্যারাডোনার সহকারী মানকুসো

আপডেট সময় : ১২:৩৭:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

আর্জেন্টিনার ফুটবল কোচেস অ্যাসোসিয়েশনের (এটিএফএ) ভেতরে একটি ‘সনদ বিক্রি চক্রের’ সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে আলেহান্দ্রো মানকুসোর বিরুদ্ধে। একসময় তিনি কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনার সহকারী কোচ ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তার মাধ্যমে থিয়াগো সিলভা, ফেলিপে মেলোসহ আরও অনেক সাবেক ফুটবলার কোচিংয়ের সনদ পেয়েছেন।

মানকুসো আর্জেন্টিনার সাবেক ফুটবলার ও ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার ফুটবল কোচেস অ্যাসোসিয়েশনে ভুয়া সনদ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক খেলোয়াড়দের কোচিংয়ের কোর্স না করেই লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো এবং মাত্র ১০ দিনের মধ্যে তাদের লাইসেন্স দেওয়ার কথা বলা হতো।

সংবাদমাধ্যম ইউওএল–এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আর্জেন্টিনার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ কোচিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে পরিচালিত একটি ‘লাইসেন্সিং মাফিয়া’ বা লাইসেন্স বিক্রি চক্রের অংশ হতে পারেন মানকুসো। প্রকাশিত একটি অডিও রেকর্ডিংয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আমাদের ফেডারেশন সভাপতির সঙ্গে এমন একটি সমঝোতা করেছি, যাতে ফুটবল খেলা এসব তারকার অনলাইন কোর্সটি করতে না হয়। ব্যস, বিষয়টি শেষ। এসব খেলোয়াড় সারা জীবন ফুটবল খেলেছে, তাদের কি সত্যিই তিন বছরের অনলাইন কোর্স করতে হবে?’

অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক বোকা জুনিয়র্স ও ইন্ডিপেন্ডিয়েন্তের খেলোয়াড় মানকুসোর মাধ্যমে কোচিংয়ের লাইসেন্স পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন থিয়াগো সিলভা, লুইজ গুস্তাভো, দিয়েগো লুগানো, পাওলো গুয়েরেরো, রবার্তো কার্লোস, ফেলিপে মেলো, অ্যালেক্স ডি সুজা, পেতকোভিচ ও পাওলিনহো। এসব সনদ প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে পেতে আবেদনকারীদের ১ লাখ ব্রাজিলিয়ান রিয়াল দিতে হতো বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

dhakapost
আলেহান্দ্রো মানকুসোর সঙ্গে ব্রাজিলের সাবেক ফুটবলার ফেলিপে মেলো, ডানে কোচিং লাইসেন্স হাতে থিয়াগো সিলভা

ব্রাজিলের ফুটবলারদের সনদ হাতে একটি ছবিতে থিয়াগো সিলভার সনদও দেখা যায়। সেখানে সনদটির তারিখ ডিসেম্বর ২০২৩ উল্লেখ ছিল। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাতে স্বাক্ষর ছিল ভিক্টর কোকোর, যিনি ২০২০ সালে এটিএফএর পরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।

অভিযোগের বিষয়ে মানকুসো বলেন, ‘অনেক ব্রাজিলিয়ান আমাকে ফোন করেন। কেন? কারণ ব্রাজিলে আমি খুব পরিচিত একজন মানুষ। তারা জানতে চান, কীভাবে এটি করা যায়, কীভাবে এটি পাওয়া যায়। আমি তাদের ফেডারেশনে যোগাযোগের তথ্য দিই, যাতে তারা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। আমি ফেডারেশনে নেই, ফেডারেশনের কোনো অংশও নই। তারা কীভাবে এটি করতে হয় জানতে চাইলে আমি শুধু বিষয়টি সহজ করে দিই, এর বেশি কিছু নয়।’