ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন পোশাক বাজারে দ্বিতীয় স্থান হারালো বাংলাদেশ

মার্কিন পোশাক বাজারে দ্বিতীয় স্থান হারালো বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে কিছুটা পতন হয়েছে। এর ফলে একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিকারকদের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থান হারিয়েছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের আগস্ট শেষে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে চীন।

মার্কিন বাজারে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষ অবস্থান অবশ্য ধরে রেখেছে ভিয়েতনাম। দীর্ঘদিন ধরেই দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পোশাক সরবরাহকারী।

বুধবার (৭ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৫৩৯ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

অন্যদিকে, একই সময়ে চীন যুক্তরাষ্ট্রে ৫৬৩ কোটি ৭ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। ফলে বাংলাদেশকে টপকে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে দেশটি। তবে চীনের রপ্তানিতেও বড় পতন হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটির পোশাক রপ্তানি কমেছে ৩৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও শুল্কসংক্রান্ত বিভিন্ন কারণে এই পতন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে অবশ্য চীনের চেয়ে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। জানুয়ারি-জুলাই সময়ে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ছিল ৪৬৫ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। আগস্টের হিসাব যুক্ত হওয়ার পর সামগ্রিক রপ্তানিতে বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যায় চীন।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজার। একক দেশ হিসেবে এটিই বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য। দেশের মোট পোশাক রপ্তানি আয়ের প্রায় ২০ শতাংশ আসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি রেকর্ড ৩৬ শতাংশ বেড়ে ৯৭৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল। এরপর ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সুদহার বৃদ্ধির প্রভাবে রপ্তানি ২৫ শতাংশ কমে ৭২৯ কোটি ডলারে নেমে আসে।

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি সামান্য বেড়ে ৭৩৪ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে প্রায় ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ফলে রপ্তানি বেড়ে ৮২০ কোটি ডলারে পৌঁছায়।

এদিকে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানিতেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। অটেক্সার হিসাবে, জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা মোট ৪ হাজার ৯০৭ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের পোশাক আমদানি করেছেন। গত বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমেছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ।

বাজারের সামগ্রিক চাহিদা কমে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পোশাক সরবরাহকারী হিসেবে ভিয়েতনামের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রে ১ হাজার ৯৭ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ভিয়েতনামের রপ্তানিও শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ কমেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন পোশাক বাজারে দ্বিতীয় স্থান হারালো বাংলাদেশ

মার্কিন পোশাক বাজারে দ্বিতীয় স্থান হারালো বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০২:২০:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে কিছুটা পতন হয়েছে। এর ফলে একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিকারকদের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থান হারিয়েছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের আগস্ট শেষে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে চীন।

মার্কিন বাজারে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষ অবস্থান অবশ্য ধরে রেখেছে ভিয়েতনাম। দীর্ঘদিন ধরেই দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পোশাক সরবরাহকারী।

বুধবার (৭ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৫৩৯ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

অন্যদিকে, একই সময়ে চীন যুক্তরাষ্ট্রে ৫৬৩ কোটি ৭ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। ফলে বাংলাদেশকে টপকে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে দেশটি। তবে চীনের রপ্তানিতেও বড় পতন হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটির পোশাক রপ্তানি কমেছে ৩৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও শুল্কসংক্রান্ত বিভিন্ন কারণে এই পতন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে অবশ্য চীনের চেয়ে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। জানুয়ারি-জুলাই সময়ে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ছিল ৪৬৫ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। আগস্টের হিসাব যুক্ত হওয়ার পর সামগ্রিক রপ্তানিতে বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যায় চীন।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজার। একক দেশ হিসেবে এটিই বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য। দেশের মোট পোশাক রপ্তানি আয়ের প্রায় ২০ শতাংশ আসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি রেকর্ড ৩৬ শতাংশ বেড়ে ৯৭৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল। এরপর ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সুদহার বৃদ্ধির প্রভাবে রপ্তানি ২৫ শতাংশ কমে ৭২৯ কোটি ডলারে নেমে আসে।

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি সামান্য বেড়ে ৭৩৪ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে প্রায় ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ফলে রপ্তানি বেড়ে ৮২০ কোটি ডলারে পৌঁছায়।

এদিকে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানিতেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। অটেক্সার হিসাবে, জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা মোট ৪ হাজার ৯০৭ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের পোশাক আমদানি করেছেন। গত বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমেছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ।

বাজারের সামগ্রিক চাহিদা কমে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পোশাক সরবরাহকারী হিসেবে ভিয়েতনামের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রে ১ হাজার ৯৭ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ভিয়েতনামের রপ্তানিও শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ কমেছে।