ট্রাইব্যুনালে মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছেন তদন্ত কর্মকর্তা
আওয়ামী লীগ সরকারের টানা শাসনামলে সংঘটিত শতাধিক গুম ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ দ্বিতীয় দিনের মতো শুরু হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে মূল তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের অসম্পন্ন জবানবন্দি পেশ করার কথা রয়েছে।
প্রসিকিউশন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর এই মামলার ১৫তম সাক্ষী হিসেবে মূল তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের আংশিক জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। ট্রাইব্যুনাল আজকের দিনটি বাকি জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য ধার্য করেন। শুনানিতে তদন্তের সার্বিক অগ্রগতি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, জব্দকৃত আলামত এবং আলামতের সাথে আসামির সরাসরি সম্পৃক্ততার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে। প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সাক্ষীর মাধ্যমে অভিযোগসমূহ আদালতের সামনে স্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে।
আসামি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট তিনটি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। প্রথমত, ২০১১ সালে গাজীপুরের পুবাইলে আসামির সরাসরি উপস্থিতিতে তিনজনকে হত্যার অভিযোগ। দ্বিতীয়ত, ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার বলেশ্বর নদীর মোহনায় ৫০ জন সাধারণ মানুষকে হত্যার ঘটনা। এবং তৃতীয়ত, একই সময়কালে সুন্দরবন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বনদস্যু দমনের নামে আরও ৫০ জনকে কথিত বন্দুকযুদ্ধের আড়ালে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি সম্পন্ন হওয়ার পর আসামিপক্ষকে জেরার সুযোগ দেওয়া হবে এবং এরপরই মামলাটি চূড়ান্ত যুক্তিতর্কের পর্যায়ে প্রবেশ করবে। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই চাঞ্চল্যকর মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আসামিকে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর থেকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছানোয় দ্রুতই এই ঐতিহাসিক মামলার রায় প্রকাশিত হবে বলে আশা করছেন প্রসিকিউশন পক্ষ।






















