ওমর ফারুক, প্রতিনিধি: একসময় কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বাঘমারা গ্রামে দিনরাত তাঁতের শব্দ শোনা যেত। তবে কাঁচামালের চড়া দাম এবং নানা সমস্যায় বর্তমানে রৌমারীর তাঁত শিল্প চরম সংকটে পড়েছে। গ্রামের কারিগররা রঙিন শাড়ি বুনলেও তাঁদের নিজেদের জীবনের কষ্ট দূর হচ্ছে না।
সারাদিন পরিশ্রমে মিলছে মাত্র ৭০০ টাকা
বাঘমারা গ্রামের তাঁতি মো. জিহাদ হাসান প্রতিদিন সকালে পরিবারের সবাইকে নিয়ে কাজ শুরু করেন। পুরো পরিবারের সদস্যরা সারা দিন পরিশ্রম করে মাত্র একটি শাড়ি তৈরি করতে পারেন।
কিন্তু দিনশেষে তাঁরা মজুরি পান মাত্র ৭০০ টাকা। ফলে বর্তমান বাজারে এই সামান্য টাকায় সংসার চালানো তাঁদের জন্য খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।
বঞ্চনার শিকার রৌমারীর তাঁত শিল্পের কারিগররা
বাঘমারার তাঁতিদের হাতে তৈরি শাড়ি রৌমারী ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে যাচ্ছে। তবে স্থানীয় তাঁতি আফজাল মিয়া জানান, তাঁতিরা তাঁদের কঠোর পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাচ্ছেন না।
এর মূল কারণ হলো মধ্যস্বত্বভোগীরা কম দামে শাড়ি কিনে বড় বাজারে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করে। ফলে পরিশ্রম কারিগররা করলেও লাভের বড় অংশ চলে যাচ্ছে ফড়িয়াদের পকেটে।
অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী পেশা
কাঁচামালের আকাশছোঁয়া দাম এবং সুতার মূল্য বৃদ্ধির কারণে উৎপাদনের খরচ বেড়ে গেছে। কিন্তু সেই অনুপাতে কারিগরদের মজুরি একটুও বাড়েনি।
นอกจากนี้ সরকারি প্রণোদনা এবং সঠিক বিপণন ব্যবস্থার ব্যাপক অভাব রয়েছে। ফলে টিকতে না পেরে অনেকে বাধ্য হয়ে নিজেদের বাপ-দাদার এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন।
সমস্যা সমাধানের সম্ভাব্য উপায়
রৌমারীর তাঁত শিল্প রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রথমত, তাঁতিদের সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ দিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, সুলভ মূল্যে সুতা ও মানসম্মত রঙ সরবরাহের ব্যবস্থা করা দরকার। এছাড়া উৎপাদিত শাড়ি সরাসরি বাজারে বিক্রির সুযোগ তৈরি করলে এই শিল্প আবার ঘুরে দাঁড়াবে।

















