ঢাকা ১১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্ষণের শিকার তরুণীর সন্তান প্রসব, বিক্রি করে দিল ধর্ষকের পরিবার



ফটোকার্ড ডাউনলোড

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ধর্ষণের শিকার হয়ে এক তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পুত্রসন্তান প্রসব করেছেন। জন্মের পরপরই ধর্ষকের পরিবার নবজাতককে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় সালিশে ধর্ষককে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার বিষয়টি জানাজানি হলে এ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

এর আগে গত শুক্রবার রাতে ওই তরুণী পুত্রসন্তান প্রসব করেন।

অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম ওরফে আবির (২৬) চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের কালকোট গ্রামের আমির হোসেন লাকির ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, কালকোট গ্রামে ধর্ষণের শিকার তরুণীর বৃদ্ধা নানির চিকিৎসার জন্য তার মাকে দীর্ঘদিন ঢাকার হাসপাতালে অবস্থান করতে হয়েছিল। এই সুযোগে বাড়িতে একা থাকা তরুণীকে জাহিদুল ইসলাম জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করেন। ভয়ে প্রথমদিকে বিষয়টি কাউকে জানাননি ওই তরুণী। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন ও বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিলে তার মা বিষয়টি বুঝতে পারেন। মেয়ের কাছ থেকে বিস্তারিত শোনার পর তিনি অভিযুক্তের পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করেন। তবে অভিযুক্তের পরিবার প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং উলটো ভিকটিমকে নিয়ে নানা অপবাদ ছড়ায়।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, তরুণীর বাবা প্রায় ১২ বছর আগে মারা গেছেন। মা ও চার ভাই-বোন নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। পরিবারে কোনো পুরুষ অভিভাবক না থাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের নানা চাপের মুখে পড়তে হয়েছে তাদের। অভিযুক্ত যুবক ঘটনা স্বীকার করলেও তরুণীকে বিয়ের প্রস্তাব নাকচ করে দেন। এরপর অসহায় ভিকটিম পরিবার প্রভাবশালীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। তাতেও কোনো কাজ হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর প্রসবব্যথা উঠলে তাকে চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে তিনি একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেন। সন্তান জন্মের পরপরই প্রভাবশালী ধর্ষকের পরিবার নবজাতককে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। এ সময় প্রসবসংক্রান্ত যাবতীয় ব্যয়ভার অভিযুক্ত যুবকের পরিবার বহন করে। নবজাতককে ঠিক কার কাছে দেওয়া হয়েছে, শিশুটি বর্তমানে কোথায় আছে কিংবা এ বিষয়ে কোনো আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কিনা—তা জানাতে পারেনি কেউ।

এদিকে সামাজিক স্বীকৃতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা এবং অসহায়ত্বের কারণে পরিবারটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।

ভুক্তভোগীর বোন বলেন, আমার মা নানুর চিকিৎসার জন্য ঢাকায় থাকার সময় বোনের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। পরে আমাদের ওপর নানা চাপ ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতে আমার বোন একটি ছেলেসন্তান জন্ম দেয়, কিন্তু আমাদের অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে নবজাতককে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া বোনের ওপর নির্যাতনের বিচার হিসেবে সালিশে ৩ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলা হলেও আমরা সেই টাকা পাব কিনা, তা নিয়ে শঙ্কিত।

এ বিষয়ে সালিশদার হাজী মোস্তফা বলেন, স্থানীয়রা বসে বিষয়টি সুরাহা করেছেন। নবজাতক বিক্রি সম্পর্কে আমি জানি না।

চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঙ্গলবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক তারেক রহমানের

ধর্ষণের শিকার তরুণীর সন্তান প্রসব, বিক্রি করে দিল ধর্ষকের পরিবার

আপডেট সময় : ০৫:৩৭:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


ফটোকার্ড ডাউনলোড

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ধর্ষণের শিকার হয়ে এক তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পুত্রসন্তান প্রসব করেছেন। জন্মের পরপরই ধর্ষকের পরিবার নবজাতককে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় সালিশে ধর্ষককে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার বিষয়টি জানাজানি হলে এ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

এর আগে গত শুক্রবার রাতে ওই তরুণী পুত্রসন্তান প্রসব করেন।

অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম ওরফে আবির (২৬) চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের কালকোট গ্রামের আমির হোসেন লাকির ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, কালকোট গ্রামে ধর্ষণের শিকার তরুণীর বৃদ্ধা নানির চিকিৎসার জন্য তার মাকে দীর্ঘদিন ঢাকার হাসপাতালে অবস্থান করতে হয়েছিল। এই সুযোগে বাড়িতে একা থাকা তরুণীকে জাহিদুল ইসলাম জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করেন। ভয়ে প্রথমদিকে বিষয়টি কাউকে জানাননি ওই তরুণী। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন ও বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিলে তার মা বিষয়টি বুঝতে পারেন। মেয়ের কাছ থেকে বিস্তারিত শোনার পর তিনি অভিযুক্তের পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করেন। তবে অভিযুক্তের পরিবার প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং উলটো ভিকটিমকে নিয়ে নানা অপবাদ ছড়ায়।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, তরুণীর বাবা প্রায় ১২ বছর আগে মারা গেছেন। মা ও চার ভাই-বোন নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। পরিবারে কোনো পুরুষ অভিভাবক না থাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের নানা চাপের মুখে পড়তে হয়েছে তাদের। অভিযুক্ত যুবক ঘটনা স্বীকার করলেও তরুণীকে বিয়ের প্রস্তাব নাকচ করে দেন। এরপর অসহায় ভিকটিম পরিবার প্রভাবশালীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। তাতেও কোনো কাজ হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর প্রসবব্যথা উঠলে তাকে চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে তিনি একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেন। সন্তান জন্মের পরপরই প্রভাবশালী ধর্ষকের পরিবার নবজাতককে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। এ সময় প্রসবসংক্রান্ত যাবতীয় ব্যয়ভার অভিযুক্ত যুবকের পরিবার বহন করে। নবজাতককে ঠিক কার কাছে দেওয়া হয়েছে, শিশুটি বর্তমানে কোথায় আছে কিংবা এ বিষয়ে কোনো আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কিনা—তা জানাতে পারেনি কেউ।

এদিকে সামাজিক স্বীকৃতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা এবং অসহায়ত্বের কারণে পরিবারটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।

ভুক্তভোগীর বোন বলেন, আমার মা নানুর চিকিৎসার জন্য ঢাকায় থাকার সময় বোনের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। পরে আমাদের ওপর নানা চাপ ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতে আমার বোন একটি ছেলেসন্তান জন্ম দেয়, কিন্তু আমাদের অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে নবজাতককে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া বোনের ওপর নির্যাতনের বিচার হিসেবে সালিশে ৩ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলা হলেও আমরা সেই টাকা পাব কিনা, তা নিয়ে শঙ্কিত।

এ বিষয়ে সালিশদার হাজী মোস্তফা বলেন, স্থানীয়রা বসে বিষয়টি সুরাহা করেছেন। নবজাতক বিক্রি সম্পর্কে আমি জানি না।

চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।