ঢাকা ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়েটগামী বাস থামিয়ে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মদুনাঘাট এলাকায় চুয়েটগামী বাস থামিয়ে এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। 

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

এই ঘটনায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা- কর্মচারীরা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি জানান, চলমান আন্দোলনে যোগ দিতে চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট থেকে চুয়েটগামী একটি বাসে ওঠেন তিনি। পথে মদুনাঘাট এলাকায় বাসটি থামানো হলে পরিস্থিতি দেখতে বাস থেকে নামেন। সেখানে কী ঘটছিল, তা আগে থেকে তার জানা ছিল না।

ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, কাউকে ফোন করার জন্য মুঠোফোন বের করতেই একদল লোক তাকে ঘিরে ধরে। এরপর তাকে হেনস্তা করা হয় এবং জামাকাপড় ধরে টানাটানি করা হয়। একপর্যায়ে চুল ধরে টানাটানি ও মারধর করা হয়। তাকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করা হয়। ছাত্রলীগ ও শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে তাকে মারধর করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগী আরও জানান, পরিস্থিতির অবনতি হলে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি তাকে সহযোগিতা করেন এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। তাদের সহায়তায় বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চুয়েটের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। হামলার প্রতিবাদ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে, সোমবার সকালে বহিরাগত ও কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকে নিয়ে প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন চুয়েটের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। এরপর তাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।

গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে অপসারণ করে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক শাটডাউন চলছে।

টানা ২১ দিনের বেশি সময় ধরে চলা এ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চুয়েটগামী বাস থামিয়ে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মদুনাঘাট এলাকায় চুয়েটগামী বাস থামিয়ে এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। 

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

এই ঘটনায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা- কর্মচারীরা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি জানান, চলমান আন্দোলনে যোগ দিতে চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট থেকে চুয়েটগামী একটি বাসে ওঠেন তিনি। পথে মদুনাঘাট এলাকায় বাসটি থামানো হলে পরিস্থিতি দেখতে বাস থেকে নামেন। সেখানে কী ঘটছিল, তা আগে থেকে তার জানা ছিল না।

ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, কাউকে ফোন করার জন্য মুঠোফোন বের করতেই একদল লোক তাকে ঘিরে ধরে। এরপর তাকে হেনস্তা করা হয় এবং জামাকাপড় ধরে টানাটানি করা হয়। একপর্যায়ে চুল ধরে টানাটানি ও মারধর করা হয়। তাকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করা হয়। ছাত্রলীগ ও শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে তাকে মারধর করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগী আরও জানান, পরিস্থিতির অবনতি হলে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি তাকে সহযোগিতা করেন এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। তাদের সহায়তায় বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চুয়েটের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। হামলার প্রতিবাদ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে, সোমবার সকালে বহিরাগত ও কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকে নিয়ে প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন চুয়েটের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। এরপর তাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।

গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে অপসারণ করে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক শাটডাউন চলছে।

টানা ২১ দিনের বেশি সময় ধরে চলা এ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।