ঢাকা ০২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এরদোয়ান

গাজায় শিশুদের হাত-পা অজ্ঞান না করেই কেটে ফেলা হচ্ছে

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান আবারও ফিলিস্তিনিদের পক্ষে বিশ্বনেতাদের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি গাজায় ইসরায়েলের চলমান বর্বরতার নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

তিনি গাজার ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, “মাত্র দুই বা তিন বছরের ছোট ছোট বাচ্চারা হাত-পা হারাচ্ছে। আজ গাজায় এটি এক সাধারণ দৃশ্য।” ইসরায়েলের ‘গণহত্যার’ প্রমাণ হিসেবে আনাদোলুর তোলা এক জীবিত কঙ্কাল হয়ে যাওয়া শিশুর ছবি দেখিয়ে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “কোন বিবেক এটি সহ্য করতে পারে, কোন বিবেক নীরব থাকতে পারে?”

তিনি বলেন, “গাজায় শিশুদের হাত-পা অজ্ঞান না করেই কেটে ফেলতে হচ্ছে। এটি মানবতার সর্বনিম্ন স্তর। গত শতকে মানব ইতিহাস এমন বর্বরতা প্রত্যক্ষ করেনি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই গণহত্যা সরাসরি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রচারিত হচ্ছে।

ফিলিস্তিনকে যেসব দেশ স্বীকৃতি দিয়েছে, তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে এরদোয়ান বলেন, যারা এখনও স্বীকৃতি দেননি তাদের “আর দেরি না করে” পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তিনি জানান, গত ২৩ মাসে গাজায় প্রতি ঘণ্টায় একটি করে শিশু নিহত হয়েছে। “এগুলো সংখ্যা নয়, এরা নিষ্পাপ মানুষ,” বলেন তিনি।

এরদোয়ান বলেন, “আজই সেই দিন, আজ মানবতার খাতিরে নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর দিন।” তিনি আরও যোগ করেন, “যখন আপনাদের জনগণ গাজায় চলমান বর্বরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে, তখন সাহস দেখান, এগিয়ে আসুন।”

এরদোয়ান বলেন, গাজায় কোনো যুদ্ধ চলছে না, বরং ইসরায়েল সর্বাধুনিক ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করছে নিরীহ সাধারণ মানুষের ওপর। তিনি ইসরায়েলের এই অভিযানকে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান নয়, বরং “নির্বাসন, গণহত্যা ও গণনিধনের নীতি” বলে অভিহিত করেন।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ইসরায়েল শুধু গাজা ও পশ্চিম তীরেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং সিরিয়া, ইরান, ইয়েমেন ও লেবাননে হামলা চালিয়ে আঞ্চলিক শান্তিকেও হুমকির মুখে ফেলেছে। কাতারে সাম্প্রতিক হামলার পর ইসরায়েল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এটি প্রমাণ করেছে যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শান্তি চান না।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এরদোয়ান

গাজায় শিশুদের হাত-পা অজ্ঞান না করেই কেটে ফেলা হচ্ছে

আপডেট সময় : ০৭:৩৭:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান আবারও ফিলিস্তিনিদের পক্ষে বিশ্বনেতাদের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি গাজায় ইসরায়েলের চলমান বর্বরতার নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

তিনি গাজার ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, “মাত্র দুই বা তিন বছরের ছোট ছোট বাচ্চারা হাত-পা হারাচ্ছে। আজ গাজায় এটি এক সাধারণ দৃশ্য।” ইসরায়েলের ‘গণহত্যার’ প্রমাণ হিসেবে আনাদোলুর তোলা এক জীবিত কঙ্কাল হয়ে যাওয়া শিশুর ছবি দেখিয়ে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “কোন বিবেক এটি সহ্য করতে পারে, কোন বিবেক নীরব থাকতে পারে?”

তিনি বলেন, “গাজায় শিশুদের হাত-পা অজ্ঞান না করেই কেটে ফেলতে হচ্ছে। এটি মানবতার সর্বনিম্ন স্তর। গত শতকে মানব ইতিহাস এমন বর্বরতা প্রত্যক্ষ করেনি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই গণহত্যা সরাসরি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রচারিত হচ্ছে।

ফিলিস্তিনকে যেসব দেশ স্বীকৃতি দিয়েছে, তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে এরদোয়ান বলেন, যারা এখনও স্বীকৃতি দেননি তাদের “আর দেরি না করে” পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তিনি জানান, গত ২৩ মাসে গাজায় প্রতি ঘণ্টায় একটি করে শিশু নিহত হয়েছে। “এগুলো সংখ্যা নয়, এরা নিষ্পাপ মানুষ,” বলেন তিনি।

এরদোয়ান বলেন, “আজই সেই দিন, আজ মানবতার খাতিরে নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর দিন।” তিনি আরও যোগ করেন, “যখন আপনাদের জনগণ গাজায় চলমান বর্বরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে, তখন সাহস দেখান, এগিয়ে আসুন।”

এরদোয়ান বলেন, গাজায় কোনো যুদ্ধ চলছে না, বরং ইসরায়েল সর্বাধুনিক ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করছে নিরীহ সাধারণ মানুষের ওপর। তিনি ইসরায়েলের এই অভিযানকে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান নয়, বরং “নির্বাসন, গণহত্যা ও গণনিধনের নীতি” বলে অভিহিত করেন।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ইসরায়েল শুধু গাজা ও পশ্চিম তীরেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং সিরিয়া, ইরান, ইয়েমেন ও লেবাননে হামলা চালিয়ে আঞ্চলিক শান্তিকেও হুমকির মুখে ফেলেছে। কাতারে সাম্প্রতিক হামলার পর ইসরায়েল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এটি প্রমাণ করেছে যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শান্তি চান না।