ঢাকা ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্ষমা চাইলেন বিসিবি সভাপতি বুলবুল

দুদিন আগে তার প্রেস কনফারেন্স বয়কট করেছিল সাংবাদিকরা। হোটেল সোনারগাঁও প্যান প্যাসিফিকে দু’দিন ব্যাপি বিসিবি কনফারেন্স শেষে এবং বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার কথা ছিল বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের। কিন্তু উপস্থিত সাংবাদিকরা তা না করে ফিরে যান নিজ নিজ গন্তব্যে।

তারও আগে ওই কনফারেন্সের শেষ দিনটি ছিল ১০ নভেম্বর; বাংলাদেশের টেস্ট অভিষেকের দিন। ২৫ বছর আগে ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর ভারতের বিপক্ষে টেস্ট খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ।

বিসিবি কনফারেন্সের শেষ দিন ১০ নভেম্বর পড়ে যাওয়ায় সেই দিনটি সাংবাদিকদের সাথে মিলেমিশে উপভোগ করার আগাম ঘোষণা দিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি। আগের দিন নিজের বক্তব্যে তেমনটাই জানিয়েছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, ১০ নভেম্বর বিকেল ৪টায় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

কিন্তু পরদিন (১০ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় সংবাদ সম্মেলন কভার করতে এসে সাংবাদিকরা সোনারগাঁও প্যান প্যাসিফিকের লবিতেও ঢুকে পারেননি। এক থেকে দেড় ঘণ্টার মত বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন সাংবাদিকরা। এক বোতল পানিও পাননি কেউ।

শেষ পর্যন্ত ক্ষোভে, দুঃখে এবং হতাশায় তারা আর বিসিবি প্রধানের সংবাদ সম্মেলন কভার করেননি। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে সাথে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি।

৪৮ ঘণ্টা পর সেই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আজ বুধবার বিকেলে এক ভিডিও বার্তায় সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি।

ভিডিও বার্তায় বুলবুল যা বলেছেন, তা হলো- ‘আসসালামু আলাইকুম সম্মানিত সাংবাদিক ভাই এবং বোনেরা। গত দশই নভেম্বর একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গিয়েছিল। আমরা বাংলাদেশ ক্রিকেট কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিনের সমাপনী অনুষ্ঠান এবং বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিলাম। আমি নিজে আপনাদেরকে সেখানে দাওয়াত দিয়েছিলাম। যদিও অনুষ্ঠান শেষ হতে কিছুটা সময় লেগে গিয়েছিল, যখন বাইরে এসে দেখলাম যে আপনাদেরকে যথাযথ সম্মান জানানো হয়নি এবং আমন্ত্রণ জানানোর পরও আমন্ত্রণ রক্ষা করার যে সৌজন্যতা আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের বা আমার কাজ ছিল, তাতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আপনাদের কাছে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।’

‘তবে এটাও আপনাদেরকে কথা দিচ্ছি যে, আমাদের কোন বিভাগের কারণে এই ব্যর্থতাটি এসেছে, সেটা আমরা তদন্ত করব এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেব। আমরা আপনাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি, এই জন্য যে আপনারা এই ক্রিকেটের উন্নয়ন ও এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম বড় অংশীদার। ভুল আমরা করেছি। ভবিষ্যতে আমরা চেষ্টা করব এ ধরনের ভুল যেন আর না হয়।’

‘আপনারা আমাদের পাশে থাকবেন। আমরা সকলে মিলে ক্রিকেটকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। সবসময় যেভাবে আপনারা আমাদেরকে সাহায্য করেছেন, আশা করছি সেভাবে শুধু সাহায্যই করবেন না, আমাদের পথের জার্নির একটি অংশ হয়ে থাকবেন। আপনাদের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করছি। ধন্যবাদ। আসসালামু আলাইকুম।’

ক্ষমা চাইলেন বিসিবি সভাপতি বুলবুল

আপডেট সময় : ১২:০৭:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

দুদিন আগে তার প্রেস কনফারেন্স বয়কট করেছিল সাংবাদিকরা। হোটেল সোনারগাঁও প্যান প্যাসিফিকে দু’দিন ব্যাপি বিসিবি কনফারেন্স শেষে এবং বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার কথা ছিল বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের। কিন্তু উপস্থিত সাংবাদিকরা তা না করে ফিরে যান নিজ নিজ গন্তব্যে।

তারও আগে ওই কনফারেন্সের শেষ দিনটি ছিল ১০ নভেম্বর; বাংলাদেশের টেস্ট অভিষেকের দিন। ২৫ বছর আগে ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর ভারতের বিপক্ষে টেস্ট খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ।

বিসিবি কনফারেন্সের শেষ দিন ১০ নভেম্বর পড়ে যাওয়ায় সেই দিনটি সাংবাদিকদের সাথে মিলেমিশে উপভোগ করার আগাম ঘোষণা দিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি। আগের দিন নিজের বক্তব্যে তেমনটাই জানিয়েছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, ১০ নভেম্বর বিকেল ৪টায় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

কিন্তু পরদিন (১০ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় সংবাদ সম্মেলন কভার করতে এসে সাংবাদিকরা সোনারগাঁও প্যান প্যাসিফিকের লবিতেও ঢুকে পারেননি। এক থেকে দেড় ঘণ্টার মত বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন সাংবাদিকরা। এক বোতল পানিও পাননি কেউ।

শেষ পর্যন্ত ক্ষোভে, দুঃখে এবং হতাশায় তারা আর বিসিবি প্রধানের সংবাদ সম্মেলন কভার করেননি। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে সাথে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি।

৪৮ ঘণ্টা পর সেই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আজ বুধবার বিকেলে এক ভিডিও বার্তায় সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি।

ভিডিও বার্তায় বুলবুল যা বলেছেন, তা হলো- ‘আসসালামু আলাইকুম সম্মানিত সাংবাদিক ভাই এবং বোনেরা। গত দশই নভেম্বর একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গিয়েছিল। আমরা বাংলাদেশ ক্রিকেট কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিনের সমাপনী অনুষ্ঠান এবং বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিলাম। আমি নিজে আপনাদেরকে সেখানে দাওয়াত দিয়েছিলাম। যদিও অনুষ্ঠান শেষ হতে কিছুটা সময় লেগে গিয়েছিল, যখন বাইরে এসে দেখলাম যে আপনাদেরকে যথাযথ সম্মান জানানো হয়নি এবং আমন্ত্রণ জানানোর পরও আমন্ত্রণ রক্ষা করার যে সৌজন্যতা আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের বা আমার কাজ ছিল, তাতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আপনাদের কাছে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।’

‘তবে এটাও আপনাদেরকে কথা দিচ্ছি যে, আমাদের কোন বিভাগের কারণে এই ব্যর্থতাটি এসেছে, সেটা আমরা তদন্ত করব এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেব। আমরা আপনাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি, এই জন্য যে আপনারা এই ক্রিকেটের উন্নয়ন ও এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম বড় অংশীদার। ভুল আমরা করেছি। ভবিষ্যতে আমরা চেষ্টা করব এ ধরনের ভুল যেন আর না হয়।’

‘আপনারা আমাদের পাশে থাকবেন। আমরা সকলে মিলে ক্রিকেটকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। সবসময় যেভাবে আপনারা আমাদেরকে সাহায্য করেছেন, আশা করছি সেভাবে শুধু সাহায্যই করবেন না, আমাদের পথের জার্নির একটি অংশ হয়ে থাকবেন। আপনাদের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করছি। ধন্যবাদ। আসসালামু আলাইকুম।’