ঢাকা ০৫:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভুল প্রশ্নে এসএসসি পরীক্ষায়: পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি

নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র ফুটে উঠেছে। ২০২৬ সালের মূল পরীক্ষার্থীদের হাতে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ দুই ঘণ্টা ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দেওয়ার পর তা বাতিল করে পুনরায় নতুন প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

২ ঘণ্টা পর ভুল শনাক্ত ও নতুন পরীক্ষা
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে একটানা দুই ঘণ্টা পরীক্ষা সম্পন্ন করে। কিন্তু পরীক্ষা শেষের দিকে দায়িত্বরত শিক্ষকরা আকস্মিকভাবে জানান যে, সরবরাহকৃত প্রশ্নটি ছিল বিগত বছরের অর্থাৎ ২০২৫ সালের।

তৎক্ষণাৎ আগের খাতা ও প্রশ্নপত্র তুলে নিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে ২০২৬ সালের সঠিক প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। এর ফলে শিক্ষার্থীদের আবারও নতুন করে পরীক্ষা দিতে হয়। এতে করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের টানা ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পরীক্ষার টেবিলে বসে থাকতে হয়েছে।

মানসিক ও শারীরিক চাপে শিক্ষার্থীরা
পরীক্ষা কেন্দ্রে এমন নজিরবিহীন ঘটনায় শিক্ষার্থীরা চরম মানসিক ট্রমার শিকার হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পুনরায় একই বিষয়ের পরীক্ষা দেওয়া তাদের জন্য যেমন শারীরিক কষ্টের কারণ হয়েছে, তেমনি পরীক্ষার মনোযোগ ও মানসিক স্থিরতাকেও ব্যাহত করেছে। অভিভাবকরা বলছেন, এ ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীন ভুলের কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন অভিভাবকরা
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে জড়ো হয়ে অভিভাবকরা তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান। তারা এই নজিরবিহীন ঘটনার জন্য শিক্ষা প্রশাসনের গাফিলতি এবং মাঠ পর্যায়ের তদারকির অভাবকে সরাসরি দায়ী করেছেন।

বিক্ষুব্ধ এক অভিভাবক গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে নকল রোধে নানা কঠোর ব্যবস্থার কথা বলা হলেও মাঠ পর্যায়ে সঠিক প্রশ্নপত্র পৌঁছানোর মতো প্রাথমিক দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করা হয়েছে। টানা দুই ঘণ্টা লেখার পর পুনরায় পরীক্ষা দেওয়া শিশুদের জন্য অমানবিক। এই পরিস্থিতির দায় শিক্ষা বিভাগকেই নিতে হবে।

ভুল প্রশ্নে এসএসসি পরীক্ষায়: পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি

আপডেট সময় : ০৫:০৩:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র ফুটে উঠেছে। ২০২৬ সালের মূল পরীক্ষার্থীদের হাতে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ দুই ঘণ্টা ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দেওয়ার পর তা বাতিল করে পুনরায় নতুন প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

২ ঘণ্টা পর ভুল শনাক্ত ও নতুন পরীক্ষা
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে একটানা দুই ঘণ্টা পরীক্ষা সম্পন্ন করে। কিন্তু পরীক্ষা শেষের দিকে দায়িত্বরত শিক্ষকরা আকস্মিকভাবে জানান যে, সরবরাহকৃত প্রশ্নটি ছিল বিগত বছরের অর্থাৎ ২০২৫ সালের।

তৎক্ষণাৎ আগের খাতা ও প্রশ্নপত্র তুলে নিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে ২০২৬ সালের সঠিক প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। এর ফলে শিক্ষার্থীদের আবারও নতুন করে পরীক্ষা দিতে হয়। এতে করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের টানা ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পরীক্ষার টেবিলে বসে থাকতে হয়েছে।

মানসিক ও শারীরিক চাপে শিক্ষার্থীরা
পরীক্ষা কেন্দ্রে এমন নজিরবিহীন ঘটনায় শিক্ষার্থীরা চরম মানসিক ট্রমার শিকার হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পুনরায় একই বিষয়ের পরীক্ষা দেওয়া তাদের জন্য যেমন শারীরিক কষ্টের কারণ হয়েছে, তেমনি পরীক্ষার মনোযোগ ও মানসিক স্থিরতাকেও ব্যাহত করেছে। অভিভাবকরা বলছেন, এ ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীন ভুলের কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন অভিভাবকরা
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে জড়ো হয়ে অভিভাবকরা তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান। তারা এই নজিরবিহীন ঘটনার জন্য শিক্ষা প্রশাসনের গাফিলতি এবং মাঠ পর্যায়ের তদারকির অভাবকে সরাসরি দায়ী করেছেন।

বিক্ষুব্ধ এক অভিভাবক গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে নকল রোধে নানা কঠোর ব্যবস্থার কথা বলা হলেও মাঠ পর্যায়ে সঠিক প্রশ্নপত্র পৌঁছানোর মতো প্রাথমিক দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করা হয়েছে। টানা দুই ঘণ্টা লেখার পর পুনরায় পরীক্ষা দেওয়া শিশুদের জন্য অমানবিক। এই পরিস্থিতির দায় শিক্ষা বিভাগকেই নিতে হবে।