ঢাকা ০৫:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এবার বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চায় সরকার, কতটা বাড়ানোর প্রস্তাব

এবার বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চায় সরকার, কতটা বাড়ানোর প্রস্তাব

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) পক্ষ থেকে পাইকারি পর্যায়ে ১৭ থেকে ২১ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা ইতিমধ্যে নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। এই প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে এখন কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

বিইআরসি সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার কমিশনের এক সভায় পিডিবির মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবটি আমলে নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি কারিগরি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। পিডিবি পাইকারি দামের সঙ্গে সমন্বয় করে খুচরা পর্যায়েও আনুপাতিক হারে দাম বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, ইতিমধ্যে একটি বিতরণ কোম্পানি দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দিয়েছে এবং বাকিরা দ্রুতই জমা দেবে। কারিগরি কমিটির মূল্যায়নের পর গণশুনানির আয়োজন করা হবে এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সম্ভাব্য পরিবর্তন

বর্তমানে পাইকারি বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ৭ টাকা ৪ পয়সা এবং খুচরা পর্যায়ে ৮ টাকা ৯৫ পয়সা। পিডিবির প্রস্তাব অনুযায়ী:

  • পাইকারি পর্যায়ে: প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়তে পারে।

  • খুচরা পর্যায়ে: পাইকারির সঙ্গে সমন্বয় করলে প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • সঞ্চালন চার্জ: পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) প্রতি ইউনিটে ১৬ পয়সা সঞ্চালন চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

পিডিবি জানিয়েছে, দেশের মোট গ্রাহকের প্রায় ৬৩ শতাংশই ৭৫ ইউনিটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী। এই বৃহৎ অংশকে দাম বৃদ্ধির চাপ থেকে মুক্ত রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে বাকি ৩৭ শতাংশ গ্রাহক, যারা বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাদের ওপর বাড়তি দামের বোঝা চাপতে পারে।

বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে বিশাল আয়ের ঘাটতি রয়েছে। গত অর্থবছরে সরকারকে রেকর্ড ৫৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। পিডিবি চুক্তি অনুযায়ী সব কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনে বিতরণ সংস্থাগুলোর কাছে বিক্রি করে। এই প্রক্রিয়ায় বিশাল আর্থিক ঘাটতি মেটাতে সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি নিতে হয়। পিডিবির দাবি, দাম বাড়লে বছরে ১০ হাজার থেকে সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা বাড়তি আয় করা সম্ভব হবে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের কারণে দেশে গত ১৮ এপ্রিল নির্বাহী আদেশে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। গত ১৫ বছরে দেশে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে যথাক্রমে ১২ ও ১৪ বার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকার খরচ কমানোর চেষ্টা করলেও ভর্তুকির চাপে শেষ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর পথেই হাঁটছে।

তবে ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব-এর জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম মনে করেন, দাম বাড়ানো কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তার মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে ৪০ শতাংশ বাড়তি খরচ বা অপচয় রয়েছে, তা কমিয়ে আনলে ভর্তুকির চাপ অনেকটাই কমে যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এবার বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চায় সরকার, কতটা বাড়ানোর প্রস্তাব

আপডেট সময় : ০১:৩০:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) পক্ষ থেকে পাইকারি পর্যায়ে ১৭ থেকে ২১ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা ইতিমধ্যে নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। এই প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে এখন কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

বিইআরসি সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার কমিশনের এক সভায় পিডিবির মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবটি আমলে নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি কারিগরি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। পিডিবি পাইকারি দামের সঙ্গে সমন্বয় করে খুচরা পর্যায়েও আনুপাতিক হারে দাম বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, ইতিমধ্যে একটি বিতরণ কোম্পানি দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দিয়েছে এবং বাকিরা দ্রুতই জমা দেবে। কারিগরি কমিটির মূল্যায়নের পর গণশুনানির আয়োজন করা হবে এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সম্ভাব্য পরিবর্তন

বর্তমানে পাইকারি বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ৭ টাকা ৪ পয়সা এবং খুচরা পর্যায়ে ৮ টাকা ৯৫ পয়সা। পিডিবির প্রস্তাব অনুযায়ী:

  • পাইকারি পর্যায়ে: প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়তে পারে।

  • খুচরা পর্যায়ে: পাইকারির সঙ্গে সমন্বয় করলে প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • সঞ্চালন চার্জ: পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) প্রতি ইউনিটে ১৬ পয়সা সঞ্চালন চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

পিডিবি জানিয়েছে, দেশের মোট গ্রাহকের প্রায় ৬৩ শতাংশই ৭৫ ইউনিটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী। এই বৃহৎ অংশকে দাম বৃদ্ধির চাপ থেকে মুক্ত রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে বাকি ৩৭ শতাংশ গ্রাহক, যারা বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাদের ওপর বাড়তি দামের বোঝা চাপতে পারে।

বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে বিশাল আয়ের ঘাটতি রয়েছে। গত অর্থবছরে সরকারকে রেকর্ড ৫৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। পিডিবি চুক্তি অনুযায়ী সব কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনে বিতরণ সংস্থাগুলোর কাছে বিক্রি করে। এই প্রক্রিয়ায় বিশাল আর্থিক ঘাটতি মেটাতে সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি নিতে হয়। পিডিবির দাবি, দাম বাড়লে বছরে ১০ হাজার থেকে সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা বাড়তি আয় করা সম্ভব হবে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের কারণে দেশে গত ১৮ এপ্রিল নির্বাহী আদেশে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। গত ১৫ বছরে দেশে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে যথাক্রমে ১২ ও ১৪ বার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকার খরচ কমানোর চেষ্টা করলেও ভর্তুকির চাপে শেষ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর পথেই হাঁটছে।

তবে ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব-এর জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম মনে করেন, দাম বাড়ানো কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তার মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে ৪০ শতাংশ বাড়তি খরচ বা অপচয় রয়েছে, তা কমিয়ে আনলে ভর্তুকির চাপ অনেকটাই কমে যাবে।